নিজস্ব প্রতিনিধি, ঝাড়গ্ৰাম: ঝাড়গ্রামের উদ্যান পালন বিভাগ জেলাজুড়ে ২ লক্ষ ৫০ হাজার ফলের গাছ লাগানোর উদ্যোগ নিয়েছে। ভূমি বৈচিত্র্য অনুযায়ী উৎসাহী চাষিদের ফল, গাছের চারা বিলি করা হচ্ছে। আম, জামরুল, সবেদা, পেঁপে ও কাঁঠাল সহ মোট ২২ রকমের ফল চাষে জোর দেওয়া হচ্ছে। সঙ্গে রয়েছে উৎপাদিত কাজু ও লেবুর প্রক্রিয়াকরণের পরিকল্পনা।
ঝাড়গ্রামে প্রথাগত পদ্ধতিতে ধান ও সব্জির চাষ হয়। নদী তীরবর্তী পলিসমৃদ্ধ মাটিতে ফসল উৎপাদনের পরিমাণ বেশি। কিন্তু পাহাড়ী এলাকায় চাষের পরিমাণ তুলনায় কম ছিল। জেলা সেচ দপ্তরের উদ্যোগে চেকড্যাম, মাঠ কুয়ো ও পুকুর খনন করা হচ্ছে। সেচের জল পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে স্বল্প জমিতে চাষে উৎসাহ দেওয়া হচ্ছে। ঝাড়গ্রামের জঙ্গল অধ্যুষিত এলাকায় ফলের চাষ তুলনামূলক কম হয়। উদ্যান বিভাগ জেলাজুড়ে বাগান পর্যটন গড়ে তোলার লক্ষ্যে ফল চাষে উৎসাহিত করছে। ঝাড়গ্ৰাম, সাঁকরাইল, নয়াগ্ৰাম, গোপীবল্লভপুর -১ ও ২ ব্লকে হাতির উপদ্রব বেশি। হাতির খাবারের তালিকায় নেই, এমন ফলের গাছ এসব এলাকায় বিতরণ করা হবে। এছাড়াও উদ্যান পালন বিভাগের তরফে ক্ষুদ্র খাদ্য প্রক্রিয়াকরণ ইউনিট গড়ার লক্ষ্যে কৃষক ও উৎপাদক সংস্থা, স্বনির্ভর ও সমবায় গোষ্ঠীকে উৎসাহিত করা হচ্ছে। ‘পিএমএফএমই’ প্রকল্পে ঋণ পাওয়া যাবে। প্রকল্পের খরচের জন্য ৩৫ শতাংশ ভর্তুকি মিলবে। ইউনিট প্রতি যার সর্বোচ্চ সীমা ১০ লক্ষ টাকা। ঝাড়গ্রাম মহকুমার উদ্যান পালন সহ অধিকর্তা ড. শেখ মাসুদুল ইসলাম বলেন, ঝাড়গ্রামের মতো এলাকায় ফল চাষের প্রভূত সম্ভাবনা রয়েছে। জেলার চাষিরা প্রথাগত চাষ ছাড়াও বিকল্প ফল চাষ করে রোজগার বাড়াতে পারবেন। সেই সঙ্গে উৎপাদিত ফল থেকে প্রক্রিয়াকরণ শিল্প গড়ে তোলা হবে। ফলবাগান পর্যটন প্রসারেও আমরা উদ্যোগ নিচ্ছি।
ঝাড়গ্রাম জেলা উদ্যান পালন অধিকর্তা তাপসী কোলে বলেন, জেলাজুড়ে ফলের উৎপাদন বাড়ানোর লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে। উৎসাহী চাষিদের বিনামূল্যে ফল গাছের চারা বিলি করা হচ্ছে। পাশাপাশি পর্যটন শিল্পের সঙ্গে জড়িত হোম -স্টের মালিকদেরও ফলগাছের বাগান করার জন্য উৎসাহ দিচ্ছে প্রশাসন।
বেলপাহাড়ী ট্যুরিজম অ্যাসোসিয়েশনের মুখপাত্র বিধান দেবনাথের কথায়, জেলা উদ্যান পালন বিভাগের এই উদ্যোগকে স্বাগত জানাচ্ছি। ফল বাগান পর্যটন কেন্দ্রের প্রসার ঘটলে পর্যটকের সংখ্যা বাড়বে। পর্যটন শিল্পের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিরা লাভবান হবেন। ঝাড়গ্রাম শহরের ফল বিক্রেতা দিলীপ খামরুই বলেন, জেলায় ফল উৎপাদনের পরিমান খুব কম। বিক্রির জন্য আমদানি করতে হয়। জেলায় উৎপাদন বাড়লে স্থানীয় চাষিদের থেকেই আমরা ফল কিনতে পারব।-নিজস্ব চিত্র