সংবাদদাতা, কাঁথি: কাঁথি শহরে ক্রমবর্ধমান যানজট সমস্যার সমাধানে এবার বাইপাস রাস্তা নির্মাণে উদ্যোগী হল পুরসভা। শহর থেকে সহজে বের হয়ে যাওয়া বা ঢোকার জন্য তৈরি হচ্ছে চারটি বাইপাস রাস্তা। সেগুলি মূল রাস্তাগুলির সঙ্গে যুক্ত হবে। এই কাজের জন্য ন’কোটি টাকা খরচ হবে বলে জানা গিয়েছে। টেন্ডার ও ওয়ার্ক অর্ডার হওয়ার পর দায়িত্বপ্রাপ্ত ঠিকাদার সংস্থা ইতিমধ্যেই প্রাথমিক কাজ শুরু করে দিয়েছে। বাইপাস রাস্তাগুলি তৈরি হলে শহরে যানজট অনেকটাই কম হবে বলে মনে করছেন পুরকর্তারা।
উল্লেখ্য, কাঁথি একটি পুরনো শহর। শহর গড়ে ওঠার সময় এত জনসংখ্যা ছিল না। শহরে জনসংখ্যা বৃদ্ধির পাশাপাশি পাল্লা দিয়ে বেড়েছে গাড়ির সংখ্যা। বিশেষ করে টোটো-অটোর সংখ্যা লাফিয়ে বাড়ায় শহরে যানজট অনেক বেড়ে গিয়েছে। শহরে এখন প্রতিদিন দেড় হাজারেরও বেশি টোটো চলে। অটোর সংখ্যাও অনেক বেশি। তার উপর, শহরের রাস্তাগুলি সংকীর্ণ। রাস্তার পাশে বসতবাড়ি ছাড়াও বেশ কয়েকটি স্কুল রয়েছে। ফলে রাস্তা চওড়া করা সম্ভব নয়। যদিও যানজট মোকাবিলায় পুরসভার কর্মীরা এবং ট্রাফিক পুলিস সর্বদা রাস্তায় থাকেন। দিন ভাগ করে দিয়ে শহরে টোটো চলাচল নিয়ন্ত্রণের চেষ্টাও হয়েছে। অনেক কিছু করে নানা নিয়মের আওতায় এনেও শহর এখনও যানজটমুক্ত হয়নি। ব্যস্ততম সময়গুলিতে প্রতিদিন যানজট লেগেই থাকে। বিশেষ করে কোনও বড় লরি ঢুকে গেলে তো আর কথাই নেই। দারুয়ায় মহকুমা হাসপাতালে পৌঁছতে গেলে ব্যাপক যানজটের জেরে রোগী ও তাঁর পরিবারকে নাকাল হতে হয়। জানা গিয়েছে, চারটি বাইপাসের একটি রাস্তা পুরনো রূপশ্রী বাইপাস মোড় থেকে শেরপুরের ভিতর দিয়ে কাঁথি-রসুলপুর সড়কে ডিঙলবেড়িয়া সংলগ্ন পাউরুটি কারখানার কাছে উঠবে। ফলে রসুলপুর থেকে যে গাড়িগুলি আসা-যাওয়া করবে, সেগুলি নতুন রাস্তা ব্যবহার করতে পারবে। পাউরুটি কারখানার কাছ থেকে সংযোগকারী রাস্তা হিসেবে নতুন বাইপাসটি দারুয়ার লাগাহাটে গিয়ে উঠবে। ফলে দারুয়ার দিকে যাওয়ার জন্য গাড়িগুলিকে আর শহরের ভিতর দিয়ে যেতে হবে না। আর একটি বাইপাস রাস্তা হচ্ছে স্কুলবাজার পর্যন্ত। সেদিক দিয়ে জুনপুট রোডের গাড়িগুলি দারুয়ার দিকে যেতে পারবে। আর একটি বাইপাস রাস্তা ধর্মদাসবাড়ের কাছে তৈরি হচ্ছে। সেখান থেকে গিমাগেড়িয়ার একটি বেসরকারি স্কুলের পাশ দিয়ে রাস্তাটি উঠবে কিশোরনগরের কাছে। প্রচুর কাজু কারখানা থাকায় মাজনা রোড দিয়ে সারাদিন একাধিক বড় গাড়ি চলাচল করে। গাড়িগুলি সেন্ট্রাল বাসস্ট্যান্ড হয়ে চলাচল করায় যানজটের সৃষ্টি হয়। গাড়িগুলি এবার ওই স্কুল পেরিয়ে মাজনা রোড ধরতে পারবে।
চেয়ারম্যান সুপ্রকাশ গিরি বলেন, যানজট সমস্যার সমাধানেই বাইপাস রাস্তা নির্মাণের পরিকল্পনা নেওয়া হয়। তারপর খসড়া তৈরি করে পুর ও নগরোন্নয়ন দপ্তরের কাছে অনুমোদনের জন্য পাঠানো হয়। আর্থিক অনুমোদন হওয়ার পর বাইপাস নির্মাণের কাজ শুরুর প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। আমরা আশাবাদী, চারটি রাস্তার কাজ শেষ হলে শহরে যানজট অনেকটাই নিয়ন্ত্রিত হবে। শহরের বাসিন্দা শিক্ষক রত্নদীপ মান্না বলেন, বাইপাস রাস্তাগুলির খুবই প্রয়োজন ছিল।