নিজস্ব প্রতিনিধি, জলপাইগুড়ি: ডেঙ্গু, ম্যালেরিয়া সংক্রান্ত তথ্য ২৪ ঘণ্টার মধ্যে স্বাস্থ্যদপ্তরের পোর্টালে তুলতে হবে। সময়ে তথ্য আপলোড না হলে কড়া পদক্ষেপ নেবে স্বাস্থ্যদপ্তর। প্রয়োজনে বাতিল করা হবে লাইসেন্স। নার্সিংহোম ও প্যাথল্যাবগুলিকে চিঠি দিয়ে এমনটাই জানিয়ে দেওয়া হল জলপাইগুড়ি জেলা স্বাস্থ্যদপ্তরের তরফে।
জেলা মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিক অসীম হালদার বলেন, সরকারি গাইডলাইন মেনে কাজ করতে হবে নার্সিংহোম ও প্যাথল্যাবগুলিকে। কোনওরকম গড়িমসি কিংবা গাফিলতি বরদাস্ত করা হবে না। ডেঙ্গু, ম্যালেরিয়া, জাপানি এনসেফেলাইটিস সহ মশা ও পতঙ্গবাহিত রোগের ক্ষেত্রে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে প্রয়োজনীয় তথ্য স্বাস্থ্যদপ্তরের পোর্টালে আপলোড করতে হবে। জেলায় যত নার্সিংহোম ও প্যাথল্যাব রয়েছে, চিঠি দিয়ে তাদের এ ব্যাপারে জানিয়ে দেওয়া হয়েছে। এরপরও যদি কোনও জায়গা থেকে তথ্য পেতে দেরি হয়, সেক্ষেত্রে আমরা প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেব।
চলতি বছরে জলপাইগুড়ি জেলায় ডেঙ্গু আক্রান্তের সংখ্যা দু’শো পেরিয়ে গিয়েছে। ডেঙ্গুর দোসর হিসেবে থাবা বসিয়েছে ম্যালেরিয়া। বাড়ছে স্ক্র্যাব টাইফাসের হানা। সঙ্গে চিকনগুনিয়া রয়েছে। আছে জাপানি এনসেফেলাইটিস। এই পরিস্থিতিতে কোথাও কেউ ডেঙ্গু, ম্যালেরিয়া সহ মশা বা পতঙ্গবাহিত অন্য কোনও রোগে আক্রান্ত হলে, দ্রুত সেই এলাকায় প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে স্বাস্থ্যদপ্তরের কাছে সময়ে তথ্য আসা জরুরি। সরকারি স্বাস্থ্যকেন্দ্র কিংবা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রোগীদের সম্পর্কে সঙ্গে সঙ্গে তথ্য পেয়ে যাচ্ছে স্বাস্থ্যদপ্তর। কিন্তু অনেক ক্ষেত্রে দেখা যাচ্ছে, ডেঙ্গু কিংবা ম্যালেরিয়া নিয়ে কেউ নার্সিংহোমে ভর্তি হলেও সেই খবর থাকছে না জেলা স্বাস্থ্যদপ্তরের কাছে। এর একটাই কারণ, কিছু নার্সিংহোমে কোনও ডেঙ্গু কিংবা ম্যালেরিয়া রোগী ভর্তি হলেও তাদের তরফে সময়ে স্বাস্থ্যদপ্তরের পোর্টালে তথ্য আপলোড করা হচ্ছে না। কোনওভাবে এই গড়িমসি বরদাস্ত করা হবে না বলে সাফ জানিয়ে দেওয়া হয়েছে জেলা স্বাস্থ্যদপ্তরের তরফে। একইভাবে প্যাথল্যাবগুলিকে বলে দেওয়া হয়েছে, তাদের কাছে করানো রক্ত পরীক্ষার রিপোর্টে যদি কারও ডেঙ্গু, ম্যালেরিয়া কিংবা মশা ও পতঙ্গবাহিত অন্য কোনও রোগ ধরা পড়ে, তারাও যেন সঙ্গে সঙ্গে স্বাস্থ্যদপ্তরকে সেই তথ্য জানায়।
জেলা মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিক বলেন, কেউ জ্বরে আক্রান্ত কি না জানতে স্বাস্থ্যদপ্তরের টিম বাড়ি বাড়ি যাচ্ছে। জ্বরের সঙ্গে কারও অন্য কোনও উপসর্গ থাকলে স্বাস্থ্যকর্মীদের নজরে আসামাত্রই বিশেষ পদক্ষেপ নিতে পারছি আমরা। কিন্তু নার্সিংহোমে ভর্তি থাকা রোগীদের সম্পর্কে অনেক সময় দেরিতে আমাদের কাছে তথ্য এসে পৌঁছচ্ছে। এটা হলে স্বাস্থ্যদপ্তরের তরফে পদক্ষেপ নিতে সময় লেগে যায়। সেকারণে নার্সিংহোমগুলিকে বলে দেওয়া হয়েছে, ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ডেঙ্গু, ম্যালেরিয়ার সংক্রান্ত তথ্য স্বাস্থ্যদপ্তরের পোর্টালে আপলোড করতে হবে।