নিজস্ব প্রতিনিধি, তমলুক: এসআইআর আতঙ্কে ফের মৃত্যুর ঘটনা ঘটল। সোমবার রাতে হার্ট অ্যাটাক করে মারা যান কাঁথির দেশপ্রাণ ব্লকের পূর্ব আমতলিয়ার প্রাক্তন পঞ্চায়েত সদস্যা সুষমারানি মণ্ডল (৬১)। দু’টি মেয়াদে তৃণমূলের পঞ্চায়েত সদস্যা থাকা সুষমাদেবী ও তাঁর স্বামী প্রসূন মণ্ডলের নাম ২০০২সালের ভোটার তালিকায় আছে। কিন্তু ফর্ম ডিজিটাইজেশনের সময় সুষমাদেবীর ক্ষেত্রে ‘নো ডেটা ফাউন্ড’ দেখতে পান বিএলও। সোমবার প্রসূনবাবুকে বাড়িতে ডেকে পাঠিয়ে বিএলও বিষয়টি জানান। প্রসূনবাবু বাড়ি ফিরে স্ত্রীকে সমস্যার কথা জানালে তিনি আতঙ্কিত হয়ে পড়েন। রাতে হৃদরোগে তাঁর মৃত্যু হয়।
এবিষয়ে তৃণমূলের কাঁথি সাংগঠনিক জেলা সভাপতি পীযূষকান্তি পণ্ডা বলেন, এসআইআর নিয়ে রাজ্যে মৃত্যুমিছিল শুরু হয়েছে। কাঁথির প্রাক্তন পঞ্চায়েত সদস্যার এই মৃত্যুর দায় বিজেপি ও নির্বাচন কমিশনকে নিতে হবে।
কাঁথির দেশপ্রাণ ব্লকের আওতাধীন আমতলিয়া পঞ্চায়েত। সেখানকার পূর্ব আমতলিয়ায় ২০০৮ থেকে ২০১৮সাল অবধি পঞ্চায়েত সদস্যা ছিলেন সুষমাদেবী। ওই বুথের বিএলও প্রসেনজিৎ শীট কাঁথির সফিয়াবাদ হাইস্কুলের ভোকেশনাল শিক্ষক। তিনি সুষমাদেবীর ফর্ম ডিজিটাইজেশন করতে গিয়ে দেখেন, অ্যাপ্লিকেশনে ‘নো ডেটা ফাউন্ড’ দেখাচ্ছে। এরপরই সোমবার সকাল ১১টায় তিনি প্রসূনবাবুকে স্ত্রীর এপিক কার্ড সহ দেখা করতে বলেন। কিউআর কোড মিসম্যাচ অথবা ‘নো ডেটা ফাউন্ড’-এধরনের টেকনিক্যাল সমস্যা হলে বিএলওরা এইআরওদের সঙ্গে কথা বলেন। কিন্তু প্রসেনজিৎবাবু কেন বিষয়টি সরাসরি ভোটারের নজরে আনলেন, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
সোমবার দুপুরে প্রসূনবাবু বিএলওর বাড়ি থেকে ফিরে স্ত্রীকে বিষয়টি জানান। সুষমাদেবীর বাপের বাড়ি উত্তর ২৪পরগনায়। ২০০২সালের ভোটার তালিকায় নাম থাকা সত্ত্বেও কেন এমন সমস্যা হচ্ছে-তা নিয়ে উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েন প্রাক্তন পঞ্চায়েত সদস্যা। এনিয়ে বারবার বিএলওর সঙ্গে কথা বলেন। পঞ্চায়েত অফিসেও যান। চরম আতঙ্কগ্রস্ত হয়ে পড়ার পর রাতে হৃদরোগে তাঁর মৃত্যু হয়।
এর আগে রামনগর ও পাঁশকুড়ায় দু’জন প্রবীণ ভোটারের এসআইআর আতঙ্কে মৃত্যু হয়েছিল। তাঁদের ২০০২সালের তালিকায় নাম ছিল না। কিন্তু সুষমাদেবীর নাম থাকলেও টেকনিক্যাল ক্রটির কারণে তাঁর ফর্ম ডিজিটাইজেশন হচ্ছিল না। পরিবারের দাবি, দু’বারের পঞ্চায়েত সদস্যা হওয়ায় মানসম্মানের কথা ভেবে তাঁর আতঙ্ক আরও বেড়ে গিয়েছিল। তার জেরেই আচমকা মৃত্যু হয়েছে।
প্রসূনবাবু বলেন, আমরা ফর্ম পূরণ করে জমা দিয়েছি। কিন্তু স্ত্রীর ফর্ম ডিজিটাইজেশন করার সময় কোনও ডেটা দেখাচ্ছিল না। তাই সোমবার বিএলও আমাকে ডেকে পাঠান। গিয়ে দেখি, তিনি বারবার অনলাইনে ফর্ম পূরণ করে ‘ভেরিফাই’ বাটনে ক্লিক করলেও প্রতিবারই ‘নো ডেটা ফাউন্ড’ দেখাচ্ছিল। আমি ফিরে স্ত্রীকে একথা জানালে সে আতঙ্কিত হয়ে পড়ে।
বিএলও প্রসেনজিৎবাবু বলেন, সুষমাদেবীর ফর্ম আপলোড করার সময় সমস্যা হওয়ায় আমি প্রসূনবাবুকে ডেকেছিলাম। প্রত্যেক বুথে ৮-১০জন করে ভোটারের ক্ষেত্রে এরকম সমস্যা হচ্ছে। এর জেরে হৃদরোগে মৃত্যুর কথা শুনে একটু অবাক লাগছে।
আমতলিয়া পঞ্চায়েতের প্রধান আনসার হোসেন দপ্তরি বলেন, এসআইআর নিয়ে আতঙ্কের জেরেই সুষমাদেবীর মৃত্যু হয়েছে বলে জেনেছি। খুবই দুঃখজনক ঘটনা। নিজস্ব চিত্র