নিজস্ব প্রতিনিধি, তমলুক: ব্যাঙ্কে মর্টগেজ রাখা সম্পত্তির নথি গোপন রেখে তা বিক্রি করে দেওয়ায় হলদিয়ার প্রভাবশালী প্রমোটারকে হাইকোর্টের নির্দেশে গ্রেপ্তার করল পুলিস। ধৃতের নাম মনোজ ভৌমিক। তার বাড়ি হলদিয়া টাউনশিপেই। গত ২৬ মার্চ মনোজ ও তার স্ত্রী লিপিকা ভৌমিকের বিরুদ্ধে এফআইআর করা হলেও হলদিয়া টাউনশিপ ফাঁড়ির পুলিস তাদের গ্রেপ্তার করেনি। আগাম জামিনের আবেদন নাকচ হওয়ার পরও ওই প্রভাবশালী দম্পতি অবাধে ঘুরে বেড়িয়েছে। হাইকোর্টের বিচারপতি তীর্থঙ্কর ঘোষ অভিযুক্তদের গ্রেপ্তারের জন্য হলদিয়ার অতিরিক্ত পুলিস সুপার এবং মহকুমা পুলিস অফিসারকে নির্দেশ দেওয়ার পর টনক নড়ে। সোমবার রাতে মনোজকে গ্রেপ্তার করা হয়। মঙ্গলবার ধৃতকে হলদিয়া এসিজেএম কোর্টে তোলা হলে বিচারক ছ’দিনের পুলিস হেফাজতের নির্দেশ দেন।
জানা গিয়েছে, হলদিয়া শহরের মঞ্জুশ্রী মোড়ে ধৃত প্রমোটারের বড় হোটেল রয়েছে। ওই হোটেল তার তিন ভাই ও বাবা দেখভাল করে। এছাড়া তাদের প্রমোটারি ব্যবসা রয়েছে। টাউনশিপে প্রথম ও দ্বিতীয় ধাপে পর পর দু’টি আবাসন গড়ার পর তিন ও চার নম্বর প্রজেক্টে হাত দেয় মনোজ। তিন ও চার নম্বর প্রজেক্টে এক জোড়া ফ্ল্যাট বুক করেছিলেন টাউনশিপের বাসিন্দা সন্দীপ মণ্ডল ও তাঁর শ্বশুর। মোট ৪০ লক্ষ টাকা অগ্রিম দিয়েছিলেন। কিন্তু, সন্দীপবাবুর নামে বরাদ্দ তিন নম্বর প্রজেক্টের ফ্ল্যাট অন্যজনকে বিক্রি করে দেয় ওই প্রমোটার। এরপর চাপ দেওয়ায় মনোজ নিজের ব্যবহৃত একটি ফ্ল্যাট হস্তান্তর করার কথা বলে। ২০২৪ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে ওই ফ্ল্যাট সন্দীপবাবুর স্ত্রীর নামে রেজিস্ট্রেশনও হয়। এজন্য মোট ৩৮ লক্ষ টাকা লেনদেন হয়।
জানা গিয়েছে, হলদিয়া টাউনশিপে মধুসূদনচকে এক সময় মনোজ ও তার পরিবারের ব্যবহৃত ফ্ল্যাট সন্দীপবাবুর স্ত্রী শর্মিলা মণ্ডলের নামে রেজিস্ট্রেশন হয়। এরপর তাঁরা ওই ফ্ল্যাটের দখলও নেন। কয়েক মাস পরই একটি বেসরকারি ব্যাঙ্কের নোটিস সাঁটানো হয়। তাতে বলা হয়, টাউনশিপ প্রজেক্টের থার্ড ফেজ এবং শর্মিলাদেবীকে হস্তান্তর করা ফ্ল্যাটটি ব্যাঙ্কে মর্টগেজ রাখা আছে। ব্যাঙ্কের পাওনা দুই কোটি ছয় লক্ষ টাকা। সেই টাকা শোধ না করায় সম্পত্তির দখল নেবে ব্যাঙ্ক।
ওই নোটিস পাওয়ার পরই মাথায় হাত সন্দীপবাবু ও তাঁর পরিবারের। তাঁরা মনোজ ও তার স্ত্রীর সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেন। কিন্তু, ওই দম্পতি হলদিয়া ছেড়ে কলকাতায় পালিয়ে যাওয়ায় তাঁরা নাগাল পাচ্ছিলেন না। এরপর তাঁরা হলদিয়া থানায় ওই দম্পতির বিরুদ্ধে এফআইআর করেন। কিন্তু, পুলিস কোনও পদক্ষেপ না নেওয়ায় প্রতারিত দম্পতি হতাশ হয়ে পড়েন। শেষমেশ হাইকোর্টের শরণাপন্ন হন। উচ্চ আদালত অভিযুক্ত প্রমোটারকে গ্রেপ্তার করার জন্য পুলিস কর্তাদের নির্দেশ দেন। সেইমতো প্রতারণার অভিযোগে ধরা হয় হলদিয়ার ওই প্রভাবশালী প্রমোটারকে।
প্রতারিত সন্দীপবাবু বলেন, ব্যাঙ্কে জমি মর্টগেজ রেখে টাউনশিপের ফেজ-৩ কাজ করেছে ওই প্রমোটার। ওই অবস্থাতেই ফ্ল্যাট হস্তান্তর করা হয়েছে। ব্যাঙ্কের নোটিস পেয়ে বাকি ফ্ল্যাটের আবাসিকরাও কপাল চাপড়াচ্ছেন। প্রতীকী চিত্র