নিজস্ব প্রতিনিধি, বহরমপুর: বেলডাঙায় ঘাপটি মেরে লুকিয়েছিল বাংলাদেশি মহম্মদ সেলিম আনসারির মা। ওই মহিলাকে আগেই গ্রেপ্তার করেছে বেলডাঙা থানার পুলিস। সেলিমের এক ভাইকে নিয়ে এবার উদ্বেগ বাড়ছে। সে সৌদি আরবে রয়েছে বলে জানা গিয়েছে। গত ১৬মে কোচবিহার দিয়ে বেআইনিভাবে সীমান্ত পেরতে গিয়ে বিএসএফের জালে ধরা পড়ে যায় সেলিম ওরফে সেলিমউদ্দিন। ঠিক একইভাবে তার ভাইও অবৈধভাবে ভারতে ঢুকে বিহারে পালিয়ে যায়। সেখানকার ঠিকানায় জাল আধার কার্ড ও পাসপোর্ট বানিয়ে বিদেশে রয়েছে বলে মনে করছে পুলিস। তার ভাইয়ের ব্যাপারেও তথ্য সংগ্রহে নেমেছেন গোয়েন্দারা।
সেলিমের আসল বাড়ি বাংলাদেশে। সে মুর্শিদাবাদের বেলডাঙার মকরমপুর এলাকায় ঘরভাড়া নিয়ে মায়ের সঙ্গে থাকত। পুলিস গিয়ে ভাড়াবাড়ি থেকে সেলিমের মাকে গ্রেপ্তার করে। ফতেমা বিবিকে গ্রেপ্তার করে জেলে পাঠানো হয়েছে। তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করে কোনও তথ্য উদ্ধার করতে পারছেন না পুলিস আধিকারিকরা। তার ভাষা বুঝতে পারছেন না তদন্তকারী আধিকারিকরা। জেলা পুলিসের এক আধিকারিক বলেন, নির্দিষ্ট ধারায় মামলা দায়ের হয়েছে। ধৃত বাংলাদেশি মহিলাকে গ্রেপ্তার করে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে। তবে তার ভাষা ঠিকমতো বোঝা যাচ্ছে না। সেকারণে কোনও তথ্যই পাওয়া যায়নি। তবে ধৃত মহিলার আর এক ছেলে বিদেশে রয়েছে। বিহার থেকে অবৈধভাবে নথি দিয়ে পাসপোর্ট বানিয়েছিল বলে জানা গিয়েছে। তার ব্যাপারেও আমরা খোঁজখবর নিচ্ছি।
পুলিস সূত্রে জানা গিয়েছে, বেলডাঙার তমালতলার বাসিন্দা মাসাদুল শেখের বাড়ি ভাড়া নিয়েছিল মহম্মদ সেলিম আনসারি ও তার মা। পুলিসের কাছে প্রথমে নিজেদের বাড়ি বিহারে বলে দাবি করলেও পরবর্তীতে ওই মহিলা জানিয়েছে, তাদের আসল বাড়ি বাংলাদেশের কক্সবাজারের চিটাগং ডিভিশনের টেকনাফ থানা এলাকায়। বেশ কয়েক বছর আগে অবৈধভাবে বাংলাদেশ সীমান্ত অতিক্রম করে মুর্শিদাবাদে এসেছিল। সেই সময় সেলিমের অপর ভাইও তাদের সঙ্গে ছিল বলেই জানা গিয়েছে। সেলিমের ওই ভাই বিহারে চলে গিয়ে সেখানে নকল নথি তৈরি করে। এদিকে সেলিম ও তার মা বেলডাঙায় বাড়ি ভাড়া নিয়ে থাকতে শুরু করে। বেলডাঙার মকরমপুরে একটি মসজিদের ইমাম হিসেবে কাজ করত সেলিম। পাশাপাশি শিক্ষকতা করত একটি মাদ্রাসায়। সেই টাকায় সংসার চলত তাদের। তার মা সারাদিন ঘরের কাজ করত। সে ঘর থেকে খুব একটা বের হতো না।