বিশেষ সংবাদদাতা, শ্রীনগর: ফের নিয়ন্ত্রণরেখায় অনুপ্রবেশের চেষ্টা ভেস্তে দিল যৌথ বাহিনী। শনিবার উত্তর কাশ্মীরের কুপওয়ারায় সেনার গুলিতে নিকেশ দুই অজ্ঞাতপরিচয় জঙ্গি। নিহতদের পরিচয় জানার চেষ্টা চলছে। সেনার চিনার কোর জানিয়েছে, কেরান সেক্টর দিয়ে অনুপ্রবেশের চেষ্টা করতে পারে পাকিস্তানি জঙ্গিরা। ৭ নভেম্বর গোয়েন্দা সূত্রে সেই খবর মেলে। তারপরই সীমান্ত লাগোয়া এলাকায় তল্লাশি শুরু করে ভারতীয় সেনার চিনার কোর। নিয়ন্ত্রণ রেখার কাছে সন্দেহজনক গতিবিধি লক্ষ্য করে বাহিনী। সঙ্গে সঙ্গে জঙ্গিদের থামতে বলেন জওয়ানরা। পালটা এলোপাতাড়ি গুলি চালাতে শুরু করে জঙ্গিরা। জবাব দেয় বাহিনীও। তাতেই দুই অনুপ্রবেশকারী জঙ্গির মৃত্যু হয়েছে। শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত দু’পক্ষের মধ্যে লড়াই চলছে। এলাকা ঘিরে রেখে তল্লাশি চালাচ্ছেন জওয়ানরা।
এরইমধ্যে শনিবার উপত্যকাজুড়ে অভিযান চালাল জম্মু-কাশ্মীর পুলিশ। কুলগাঁও ও গান্দেরবালে একাধিক ঠিকানায় হানা দেওয়া হয়। জানা গিয়েছে, বহু মানুষের বিরুদ্ধে পাক জঙ্গিদের সাহায্য করার অভিযোগ রয়েছে। তাদের মধ্যে অনেকেই জঙ্গিদের আত্মীয়। সেসব ঠিকানায় অভিযান চালানো হয়। একাধিক বাড়ি থেকে ডিজিটাল ডিভাইস ও নথি উদ্ধার করা হয়। তদন্ত জারি রয়েছে। এক পুলিশ অফিসার বলেন, ‘পাক জঙ্গিদের বহু সহযোগী ও আত্মীয়র বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে। প্রত্যেকের বিরুদ্ধে জঙ্গি কার্যকলাপে মদত দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। অভিযুক্তদের মধ্যে অনেকেই এনক্রিপটেড প্ল্যাটফর্মে পাক জঙ্গি ও হ্যান্ডলারদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখত।’ সেনা সূত্রে খবর, অপারেশন সিন্দুরের পর নিয়ন্ত্রণরেখায় অনুপ্রবেশের ঘটনা বৃদ্ধি পেয়েছে। জম্মু-কাশ্মীরে শক্তি বাড়াতে চাইছে লস্কর-ই-তোইবা ও জয়েশ-ই-মহম্মদের মতো পাক জঙ্গি সংগঠন। সেই চেষ্টা বানচাল করার লক্ষ্যেই এই বিশেষ অভিযান।