সংবাদদাতা, কাঁথি: শুক্রবার ছিল সরস্বতী পুজো ও নেতাজির জন্মদিবস। আজ, শনি ও রবিবার উইক-এন্ডের ছুটি। সোমবার সাধারণতন্ত্র দিবসের ছুটি। চারদিনের টানা ছুটিতে পর্যটন কেন্দ্র দীঘা, মন্দারমণিতে পর্যটকদের ঢল নামবে বলে আশাবাদী ব্যবসায়ীরা। এদিন সেভাবে ভিড় না থাকলেও আজ, শনিবার থেকে তিনদিন ভিড় থাকবে বলে আশাবাদী সংশ্লিষ্ট সকলে।
ভিড়ের কথা মাথায় রেখে প্রশাসনের পক্ষ থেকে কড়া নিরাপত্তা ও নজরদারির ব্যবস্থা করা হয়েছে। বিশেষ করে সাধারণতন্ত্র দিবসের আগে থেকেই রয়েছে কড়া নজরদারি। প্রত্যেকবারই এই সময় জোরদার নিরাপত্তা থাকে দীঘায়। এবারও তার অন্যথা হচ্ছে না।
ডিসেম্বরের শেষ সপ্তাহে বা ইংরেজি নববর্ষে কনকনে শীত থাকায় বড়দিন কিংবা বর্ষবরণের সময় সেভাবে ভিড় ছিল না দীঘায়। জানুয়ারির মাঝামাঝি সময় থেকে শীতের আমেজ ফিকে হতে শুরু করেছে। সেই কারণে এই সময়টা ভিড় হবে বলে আশা করছেন হোটেল ব্যবসায়ী থেকে শুরু করে অন্যান্য ব্যবসায়ীরা। তাঁরা বলছেন, রাজ্য সরকারের উদ্যোগে গত কয়েকবছরে দীঘার ভোল বদলে গিয়েছে। একটা সময় দীঘা মানে ছিল সমুদ্রস্নান, বিচে বসে সময় কাটানো, ঝাউবনে ঘুরে বেড়ানো। তারপর অমরাবতী পার্ক এবং কাজলাদিঘি লেক পার্কে ঘুরে বেড়ানো। কিংবা মেরিন অ্যাকোয়ারিয়ম বা সায়েন্স সেন্টারে বিজ্ঞানের নানা আশ্চর্য প্রত্যক্ষ করা। এতেই দীঘা-দর্শন সীমাবদ্ধ ছিল। এখন নবনির্মিত জগন্নাথ মন্দিরই দীঘার সংজ্ঞা পাল্টে দিয়েছে। সমুদ্রদর্শনের সঙ্গে যোগ হয়েছে জগন্নাথদেব দর্শন। প্রতিদিনই হাজার হাজার মানুষ জগন্নাথ মন্দির দেখতে ভিড় জমাচ্ছেন। তার সঙ্গে আকর্ষণীয় ঢেউসাগর পার্ক, নেচার পার্ক, লেজার পার্ক থেকে হরেকরকম বিনোদনের ডেস্টিনেশন রয়েছে দীঘায়। নানা অত্যাধুনিক বিনোদনের উপকরণে সমৃদ্ধ হচ্ছে অমরাবতী পার্ক। আগামী কিছুদিনের মধ্যেই নতুন সাজে পর্যটকদের চোখে ধরা দেবে এই পার্ক। সৈকতে বিশ্ববাংলা পার্কগুলিও নবরূপে সেজে রয়েছে। আর কিছুদিনের মধ্যে দীঘার জগন্নাথ মন্দিরের উল্টোদিকে ঝাউবনে চালু হতে চলেছে ডাইনোসর পার্কও। দীঘার রাস্তাঘাট হয়েছে ঝাঁ-চকচকে। আলোকমালায় সেজেছে জগন্নাথ মন্দির সহ দীঘার রাস্তাঘাট। সব মিলিয়ে দীঘা মোহময়ী রূপে পর্যটক তথা দর্শনার্থীদের সামনে হাজির হয়েছে। যার টানেই কাতারে কাতারে মানুষ দীঘা ছুটছেন। দীঘা-শঙ্করপুর হোটেলিয়ার্স অ্যাসোসিয়েশনের চেয়ারম্যান সুশান্ত পাত্র বলেন, শীতের আমেজ কমলেই দীঘায় পর্যটকদের ঢল নামে। এবারও ঢল নামবে বশে আশা করছি।