নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: বুধবার সকালে খুব তীব্র ঘূর্ণিঝড় ‘অর্ণব’ অন্ধ্রপ্রদেশ উপকূল দিয়ে স্থলভূমিতে প্রবেশ করার পর যথারীতি দুর্বল হতে শুরু করেছে। তবে আগামী দিনতিনেক এর প্রভাব দেশের একাধিক রাজ্যে থাকবে। জানিয়েছে কেন্দ্রীয় আবহাওয়া দপ্তর। এইসময়ে অর্ণবের পরোক্ষ প্রভাব পশ্চিমবঙ্গেও থাকবে। জানিয়েছেন আবহাওয়া দপ্তরের পূর্বাঞ্চলীয় অধিকর্তা হবিবুর রহমান বিশ্বাস। দক্ষিণবঙ্গে আজ বৃহস্পতিবার হালকা থেকে মাঝারি মাত্রার বৃষ্টি হবে। ভারী বৃষ্টি হতে পারে দুই মেদিনীপুর, ঝাড়গ্রাম, বাঁকুড়া, পুরুলিয়া ও পশ্চিম বর্ধমান জেলার কিছু জায়গায়। শুক্রবার থেকে দক্ষিণবঙ্গের জন্য ভারী বৃষ্টির পূর্বাভাস দেওয়া হয়নি। তবে শুক্রবার হালকা থেকে মাঝারি মাত্রার বৃষ্টি হতে পারে দুই বর্ধমান, মুর্শিদাবাদ, নদীয়া প্রভৃতি জেলার কিছু স্থানে। শনিবারও হালকা বৃষ্টি হতে পারে নানা জায়গায়। আজ বৃহস্পতিবার থেকে শনিবার পর্যন্ত উত্তরবঙ্গের জেলাগুলির কোথাও কোথাও হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টির পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে। বৃহস্পতি ও শুক্রবার পাহাড় লাগোয়া কিছু এলাকায় ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা আছে।
বুধবার দক্ষিণবঙ্গের বিভিন্ন জায়গায় বজ্রমেঘ থেকে বৃষ্টি হয়েছে। এদিন সকাল সাড়ে ৮টা পর্যন্ত সবথেকে বেশি ৪৮ মিমি বৃষ্টি হয়েছে মেদিনীপুরে। আবহাওয়া দপ্তরের পরিসংখ্যান অনুযায়ী পুরুলিয়ার ফুলবেড়িয়াতে ৪৩.৬ মিমি, ঝাড়গ্রামের লালগড়ে ৪১.৪ মিমি, পূর্ব মেদিনীপুরের কাঁথিতে ৩৫ মিমি, বাঁকুড়ার কংসাবতী বাঁধে ৩০.৮ মিমি, কলকাতা (আলিপুর) ১৯ মিমি ও সাগরদ্বীপে ১৮ মিমি বৃষ্টি হয়েছে। পশ্চিমাঞ্চল ও উপকূলবর্তী এলাকায় অর্ণবের প্রভাবে তুলনামূলকভাবে বেশি বৃষ্টি হবে বলে আবহাওয়া দপ্তর আগেই জানিয়েছিল।
মঙ্গলবার রাত ২টো থেকে অর্ণবের ‘ল্যান্ডফল’প্রক্রিয়া শুরু হয়ে যায় অন্ধ্র উপকূলের বাপাতলা ও বিশাখাপত্তনমের মধ্যবর্তী এলাকায়। এইসময় ঝোড়ো হাওয়ার স্থায়ী গতিবেগ ছিল ঘণ্টায় ১২৫-১৩৫ কিমি। দমকা হাওয়ার গতিবেগ ১৫০ কিমি পর্যন্ত উঠেছিল বলে আবহাওয়া দপ্তর জানিয়েছে। বুধবার সকাল ৮টা নাগাদ ল্যান্ডফল প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ হয়। উপকূল অতিক্রম করার পর অর্ণব যথারীতি দুর্বল হতে শুরু করে।
এদিনই এটি ঘূর্ণিঝড়ের তকমা ছেড়ে স্থলভূমির উপর প্রথমে অতিগভীর নিম্নচাপ এবং পরে গভীর নিম্নচাপে পরিণত হবে বলে আবহাওয়া দপ্তর বিকেলে জানিয়েছে। আজ শুক্রবার এটি আরও দুর্বল হলে সুস্পষ্ট নিম্নচাপে পরিণত হবে। অর্ণবের গতিপথের অভিমুখ পরিবর্তিত হচ্ছে পূর্বাভাস অনুযায়ী। সমুদ্রের মধ্যে এটি প্রথমে পশ্চিম, উত্তর-পশ্চিম অভিমুখে ছিল। তারপর উত্তর-পশ্চিম অভিমুখে অগ্রসর হয়। স্থলভূমিতে এটি উত্তর- উত্তর-পশ্চিম অভিমুখে ছত্তিশগড়, মধ্যপ্রদেশ হয়ে উত্তরপ্রদেশের দিকে যাবে। আবহাওয়াবিদরা জানিয়েছেন, এর সরাসরি প্রভাবে প্রচুর বৃষ্টি হবে অন্ধ্র-ওড়িশা ছাড়াও তেলেঙ্গানা, মহারাষ্ট্রের বিদর্ভ, ছত্তিশগড় ও মধ্যপ্রদেশের কিছু এলাকায়। পরবর্তীকালে বৃষ্টি বাড়বে পূর্ব উত্তরপ্রদেশ, বিহার ও ঝাড়খণ্ডে।



