নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: উর্দি পরে এসে সোশ্যাল মিডিয়ায় ছবি। তা দেখিয়েই পুলিশকর্মী হিসাবে তরুণীর সঙ্গে আলাপ জমায় এক ব্যক্তি। পরে ওই তরুণীকে এনআরএস মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে চুক্তিভিত্তিক চাকরি পাইয়ে দেওয়ার প্রলোভন দেখানো হয় বলে অভিযোগ। সেই ফাঁদে পা দিয়েই প্রথম দফায় সাড়ে ১০ হাজার টাকা দেন তরুণী। এরপরেই বেপাত্তা হয়ে যায় ভুয়ো পুলিশ। নারকেলডাঙা থানায় লিখিত অভিযোগ জমা করেন তরুণী। কিন্তু, ঘটনাস্থল এন্টালি থানা এলাকার অধীনস্ত। তাই তরুণীর অভিযোগপত্রটি জিরো এফআইআর হিসাবে রুজু করে তা এন্টালি থানায় পাঠায় নারকেলডাঙা থানার পুলিশ। লালবাজার জানিয়েছে, ঘটনার তদন্ত শুরু হয়েছে।
অভিযোগকারী তরুণীর নাম ঋষিকা দত্ত (৩২)। তাঁর বাড়ি শিলিগুড়ি। কিন্তু, কর্মসূত্রে তিনি কলকাতায় থাকেন। সোশ্যাল মিডিয়ায় অরূপকুমার দে নামে এক যুবকের সঙ্গে তাঁর পরিচয় হয়। পুলিশ সূত্রে খবর, অরূপের সোশ্যাল মিডিয়ার অ্যাকাউন্টে নিজেকে পুলিশ অফিসার হিসাবে পরিচয় দেন। অ্যাকাউন্ট পরিচিতিতে লেখা রয়েছে— ‘ওয়ার্কড ইন কলকাতা পুলিশ ফোর্স’। সোশ্যাল মিডিয়া চ্যাটে নিজেকে মুচিপাড়া থানায় কর্মরত বলে পরিচয় দেয় অরূপ। তাঁর সঙ্গে একাধিকবার সাক্ষাৎ করেন ঋষিকা। অভিযোগকারীর কথায়, অফিস দেখানোর নাম করে প্রাচী সিনেমা হলের পাশের গলি দিয়ে তাঁকে মুচিপাড়া থানার সামনেও নিয়ে যায় অভিযুক্ত। বাইরে থেকেই থানা দেখানো হয়। বিশ্বাসযোগ্যতা অর্জনের জন্য থানার পাশের একটি চায়ের দোকান থেকে একসঙ্গে চা-ও খান তাঁরা। পুলিশ অফিসার হওয়ার স্বার্থে শহরের বিভিন্ন হাসপাতালে যোগাযোগ রয়েছে। এমনই জানায় অভিযুক্ত। কাজের ব্যবস্থা করে দেওয়ার জন্য তাঁর কাছেই আর্জি জানায় তরুণী। মোবাইল নম্বরের সূত্র ধরে অভিযুক্ত ট্র্যাক করার চেষ্টা করছেন তদন্তকারীরা। একইসঙ্গে, শিয়ালদহ চত্বরের যে যে এটিএম থেকে টাকা তুলেছিল তরুণী। সেগুলির সিসি ক্যামেরার ফুটেজ সংগ্রহ করছে পুলিশ।



