নরমুণ্ড ভয়ানক-ভূতগুলি ভয়ঙ্কর, এখন আত্মারাম খাঁচাছাড়া করা ছবি ডোমপাড়ায়
  • ২৯ অক্টোবর, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

সুকান্ত বসু, কলকাতা: যাঁদের হার্ট একটু দুর্বল তাঁদের এখন ডোমপাড়ার দিকে না যাওয়াই ভালো। কারণ সেখানে রক্তমাখা নরমুণ্ড গড়াগড়ি খাচ্ছে। আর শুধু মুন্ডু তো নয়, মুখ দিয়ে রক্ত ঝড়ছে এমন শিয়াল দাঁড়িয়ে আছে যত্রতত্র, আচমকা সামনে পড়লে পিলে চমকে যায়। কোথাও ত্রিপল ঢাকা দোকানটা একটু অন্ধকার অন্ধকার। সেখানে দাঁড়িয়ে ভূত-পেত্নি। আত্মারাম খাঁচাছাড়া করা চেহারা সেগুলির। এছাড়া কালী তো আছেনই। তিনি নরমুণ্ড গলায় জড়িয়ে দাঁড়িয়ে। লাল জিহ্বা লকলক করছে। পায়ের নীচের শিয়ালটা রক্ত খাবে বলে মুখব্যাদান করেছে। সবমিলিয়ে সেন্ট্রাল অ্যাভিনিউয়ের পাশে ডোমপাড়া এখন গা ছমছমে। হার্ট যাঁদের উইক তাঁরা এই ক’দিন না গেলেই ভালো।

Advertisement

কালীপুজো যত এগিয়ে আসছে ততই বাড়ছে ডোমপাড়ার শিল্পীদের ব্যস্ততা। কথা বলার কার্যত সময় নেই তাঁদের। এসব ভয়ঙ্কর ভয়ঙ্কর জিনিস বানাতে হচ্ছে বলে নিজেদের মেজাজও বোধহয় সপ্তমে চড়ে রয়েছে। রমেশ দত্ত স্ট্রিট, অদ্বৈত মল্লিক লেন সহ বিস্তীর্ণ ডোমপাড়ায় দেখা যাবে, শিল্পীরা মজে পুজো সামগ্রী তৈরি করতে। এক জায়গায় বিশাল মাপের শিবমূর্তি তৈরি চলছে। সর্বত্র চলছে কালীমূর্তি তৈরি। বাঁশ কেটে শিল্পীরা মূর্তি করছেন এমন, যেন তা জীবন্ত। একটি বাড়ির তলায় রাখা একটি শিয়াল। তার কিছুটা দূরে চোখ গেলে থতমত খেতে হয়, একটি সাদা কাপড় জড়ানো ভূত দাঁড়িয়ে রয়েছে। আচমকা দেখলে মনে হবে সাদা কাপড় মুড়ি দিয়ে কেউ একজন দাঁড়িয়ে। এসব নিয়ে কালীপুজোর আগে ডোমপাড়া এখন ভয়ঙ্কর ভয়ময়। দুপুরে দুই যুবক এলেন এক শিল্পীর কাছে। বড়ো একটা নরমুণ্ড লাগবে তাঁদের। কেমন হবে সে মুন্ডু? তা বোঝালেন তাঁরা। সেই মতো শিল্পী সাদা কাগজে মুন্ডু আঁকলেন। তারপর বায়না করলেন যুবক দু’জন। অসমের নগাঁও জেলার ধূপগুড়ি থেকে এসেছে বাঁশের কঞ্চি। তা দিয়েই তৈরি হচ্ছে এই সমস্ত সামগ্রী। বাঁশের কঞ্চির গায়ে আটা দিয়ে সাঁটা হচ্ছে সাদা কাগজ। তার উপর পড়বে রঙের প্রলেপ। বিভিন্ন ধরনের জিনিস তৈরি হবে। তা পৌঁছবে বিভিন্ন পুজো মণ্ডপে। বাঁশের কঞ্চি দিয়ে ছোটো বড়ো সব মণ্ডপ তৈরি হচ্ছে। কেউ বানাচ্ছেন নৌকা। কোথাও হচ্ছে চালচিত্র।
একজন কৌতূহল দেখিয়ে শিয়াল আর ভূতটির দাম জিজ্ঞেস করলেন। সেসব শুনে এবং কিনবেন না বুঝে, বেজায় রেগে গেলেন শিল্পী। বললেন, ‘কাজ করতে দেবেন, না দেবেন না? আপনার প্রশ্নের জবাব দিতে বসে রয়েছি এখানে? আসুন এখন।’ কয়েকজন শিল্পী বললেন, ‘কাজের চাপ আরও বাড়বে। বৃষ্টিও চিন্তা বাড়াচ্ছে। বৃষ্টি হলেই সর্বনাশ।’ তাঁর পাশে বসা সহশিল্পী বললেন, ‘মুন্ডুতে রক্তটা ঠিকঠাক ফুটছে কি না দেখে বলতো বস, তাহলে এই লালটাই রাখব...’
এরকম অসংখ্য ভবিষ্যতের ভূত তৈরি হচ্ছে ডোমপাড়ায়। ক্রমশ সামনে আসবে আরও সেসব ছবি। হার্ট যাঁদের উইক নয়, তাঁরা 
নজর রাখুন।  নিজস্ব চিত্র