নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: তাঁর মেয়েকে অপহরণ করে একটি হোটেলে আটকে রাখা হয়েছে। মেয়ের গলাও ফোনে শোনানো হয় বাবাকে। নাবালিকা কান্নাকাটি করে বাবাকে জানায়, তাকে মুক্ত করতে গেলে টাকা দিতে হবে। সেই মতো চিকিৎসক বাবা ধাপে ধাপে ১ কোটির বেশি টাকা দিয়েও দেন। এরপর চিকিৎসক বাবার ছোটো মেয়ে অর্থাৎ ‘অপহৃত’ নাবালিকার বোনকেও ‘অপহরণ’ করা হয়। তখন পঞ্চসায়র থানায় অভিযোগ করেন বাবা। তদন্ত এগতেই ফাঁস হয়ে গেল গোটা কাহিনি!
সোমবার রাতে গ্রেপ্তার করা হয় বি-টেক পড়ুয়া ওই ছাত্রীর বয়ফ্রেন্ড সাগ্নিক ভট্টাচার্যকে। অভিযুক্তও একই কলেজে গার্লফ্রেন্ডের সঙ্গে ইঞ্জিনিয়ারিং পড়ছে। উদ্ধার করা হয়েছে ধৃতের গার্লফ্রেন্ড এবং তার বোনকে। অভিযুক্ত ছাত্রকে জিজ্ঞাসাবাদে তদন্তকারীরা জানতে পারেন, শুধু সে নয়, ঘটনায় জড়িত তার গার্লফ্রেন্ডও। বাবার কাছ থেকে টাকা হাতাতেই অপহরণের গল্প ফেঁদেছিল বড়ো মেয়ে।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, পঞ্চসায়র থানা এলাকার বাসিন্দা, পেশায় চিকিৎসক রজত চক্রবর্তীর দুই মেয়ে। বড়ো মেয়ে একটি বেসরকারি কলেজ থেকে বি-টেক পড়ছে। গড়িয়াহাট এলাকার একটি নামকরা ইংরেজি মাধ্যম স্কুলে পড়ার সময় তার পরিচয় হয় সাগ্নিকের সঙ্গে। স্কুলজীবনেই দুজনে প্রণয়ঘটিত সম্পর্কে জড়ায়। চিকিৎসকের বড়ো মেয়ে প্রথম থেকে বিলাসবহুল জীবনযাবনে অভ্যস্ত ছিল। ছ’মাস আগে বাড়ি থেকে চলে যায় সে। পুলিশ জেনেছে, তখন থেকেই তার সঙ্গে থাকছিল বয়ফ্রেন্ড সাগ্নিক। বাড়ি থেকে বেরিয়ে যাওয়ার কয়েকদিন পর চিকিৎসকের নম্বরে ফোন করে মেয়ে জানায়, তাকে অপহরণ করে একটি হোটেলে আটকে রাখা হয়েছে। অভিযুক্ত বয়ফ্রেন্ডও ফোন করে চিকিৎসককে জানায়, টাকা না দিলে মেয়েকে ছাড়া হবে না। মেয়েকে অপহরণকারীদের হাত থেকে উদ্ধার করতে তাদের পাঠানো অ্যাকাউন্টে ধাপে ধাপে টাকা পাঠাতে শুরু করেন বাবা। তারপরেও তাকে ছাড়া হয়নি। উলটে মেয়ে ফোন করে বলে, আরও টাকা না দিলে তাকে নাকি ছাড়বে না বলছে অপহরণকারীরা। বাবা আরও টাকা পাঠাতে থাকেন। সব টাকা জমা পড়ে বয়ফ্রেন্ডের মায়ের অ্যাকাউন্টে। এর মাঝে মেয়েটি তার ছোটো বোনকে ফোন করে তার কাছে আসতে বলে। গত ১৯ অক্টোবর বোন পাড়ার অনুষ্ঠানে গিয়ে আর বাড়ি ফেরেনি। ফোনে বাবা যোগাযোগ করতে না পেরে ওই রাতেই মিসিং ডায়েরি করেন পঞ্চসায়র থানায়।
তদন্তে নেমে চিকিৎসকের বড়ো মেয়ে যে মোবাইল থেকে ফোন করছিল, সেটির নম্বর হাতে আসে পুলিশের। সেটির সূত্র ধরে দক্ষিণ কলকাতায় একটি ডেরায় হানা দিয়ে দুই বোনকে মঙ্গলবার রাতে উদ্ধার করে পুলিশ। গ্রেপ্তার করা হয় বি-টেকের ছাত্রকে। অভিযুক্ত সাগ্নিক পুলিশকে জানিয়েছে, বাবার কাছ থেকে টাকা হাতাতে চিকিৎসকের বড়ো মেয়ে এবং সে অপহরণের গল্প সাজিয়েছিল। বুধবার অভিযুক্তকে আলিপুর আদালতে তোলা হয়। সরকারি আইনজীবী বলেন, ‘অপহরণের কথা বলে হাতানো টাকা কোথায় কোথায় গিয়েছে, তা জানতে ধৃতকে জেরার প্রয়োজন রয়েছে।’



