Bartaman Logo
১১ জুন, ২০২৬

চলতি বছরেই ১৪৬ কোটি পেরবে ভারতের জনসংখ্যা: রাষ্ট্রসঙ্ঘের রিপোর্ট, কমছে সন্তান প্রসবের হার

তারিখের পর তারিখ। লাগাতার টালবাহানা। অবশেষে দিনকয়েক আগে জনগণনার দিনক্ষণ ঘোষণা করেছে মোদি সরকার। ২০২৬ সাল থেকে দেশের চারটি পাহাড়ি রাজ্যে শুরু হবে সেন্সাসের কাজ। ২০২৭ সালে বাকি দেশে চলবে জনগণনা।

চলতি বছরেই ১৪৬ কোটি পেরবে ভারতের জনসংখ্যা: রাষ্ট্রসঙ্ঘের রিপোর্ট, কমছে সন্তান প্রসবের হার
  • ১১ জুন, ২০২৫ ১৭:০৬
Prefer us on Google

নয়াদিল্লি: তারিখের পর তারিখ। লাগাতার টালবাহানা। অবশেষে দিনকয়েক আগে জনগণনার দিনক্ষণ ঘোষণা করেছে মোদি সরকার। ২০২৬ সাল থেকে দেশের চারটি পাহাড়ি রাজ্যে শুরু হবে সেন্সাসের কাজ। ২০২৭ সালে বাকি দেশে চলবে জনগণনা। কিন্তু তার আগেই ভারতের জনসংখ্যা সংক্রান্ত একটি রিপোর্ট সামনে আনল রাষ্ট্রসঙ্ঘ। তাদের দাবি, চলতি বছরের মধ্যেই ১৪৬ কোটি পেরবে ভারতের জনসংখ্যা। চীনকে ছাপিয়ে জনসংখ্যার নিরিখে ভারতই থাকবে শীর্ষস্থানে। পাশাপাশি একটি উদ্বেগের খবরও শোনানো হয়েছে রিপোর্টে। তা হল, ভারতে জন্মহারও কমবে। অর্থাৎ বাড়বে প্রবীণের সংখ্যা। 

Advertisement

সম্প্রতি রাষ্ট্রসঙ্ঘের জনসংখ্যা বিষয়ক বিভাগ ইউএনএফপিএ একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে। ‘বিশ্ব জনসংখ্যার অবস্থা’ শীর্ষক সেই রিপোর্টেই ভারত সম্পর্কে এমন আভাস দেওয়া হয়েছে। এর আগে ২০২৩-এ প্রকাশিত এমন একটি রিপোর্টে ভারতের জনসংখ্যা ১৪২ কোটি ৮৬ লক্ষ বলে দাবি করা হয়। অর্থাৎ দু’বছরের মধ্যে বৃদ্ধির পরিমাণ প্রায় ৪ কোটি। উল্লেখযোগ্য বিষয় হল, জনসংখ্যা বাড়লেও কমছে জন্মহার। এর নেপথ্যে বর্তমান প্রজন্মে প্রজনন ক্ষমতা হ্রাস পাওয়া। জানা গিয়েছে, পরবর্তী প্রজন্মে জনসংখ্যার আকার ঠিক রাখতে প্রয়োজনের তুলনায় কম সন্তানের জন্ম দিচ্ছেন ভারতীয় মহিলারা। ভারতে মহিলা প্রতি প্রজননের হার ২.১ থেকে ১.৯-এ নেমে এসেছে। অর্থাৎ আগে একজন ভারতীয় মহিলা গড়ে দু’টি সন্তানের জন্ম দিতেন। এখন সেই গড় কমে দাঁড়িয়েছে ১.৯। এই সমস্যাকে ‘দ্য রিয়েল ফার্টিলিটি ক্রাইসিস’ হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে এই রিপোর্টে। সন্তান ধারণের ক্ষেত্রে অর্থনৈতিক প্রতিবন্ধকতা, দুর্বল স্বাস্থ্য, পরিবার ও সামাজিক চাপ, ভবিষ্যতের অনিশ্চয়তা... এমন একাধিক কারণ এর নেপথ্যে রয়েছে বলে জানানো হয়েছে।
ভারতে নিযুক্ত ‘ইউএনএফপিএ’ মুখপাত্র আন্দ্রিয়া এম ওজনার বলেছেন, ‘প্রজনন হার হ্রাসের ক্ষেত্রে ভারতের অবস্থান উল্লেখযোগ্য। গত শতাব্দীর সাতের দশকেও তা ছিল মহিলা পিছু পাঁচটি সন্তান। সেটা এখন দুইতে এসে দাঁড়িয়েছে। মায়ের মৃত্যুহার আগের থেকে কমেছে। তবে বিভিন্ন রাজ্য, জাতির মধ্যে সামাজিক বৈষম্য লক্ষণীয়।’ এই সমস্যা থেকে বেরিয়ে আসার উপায়ও বাতলেছেন তিনি। তাঁর মতে, সঠিক প্রজননের অধিকার, অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি ঘটানোর মাধ্যমে এই সমস্যার সমাধান পাওয়া যেতে পারে। 
সাম্প্রতিক রিপোর্ট বলছে, ভারতে তরুণ প্রজন্মের সংখ্যা এখনও পর্যন্ত উল্লেখযোগ্য। মোট জনসংখ্যার ২৪ শতাংশ ০-১৪ বছর বয়সি। ১৭ শতাংশ ১০-১৯ বছরের মধ্যে, ২৬ শতাংশ ১০-২৪ বছর বয়সি। আবার প্রবীণদের সংখ্যাও বেশি। ৬৫ বছরের উপরের জনসংখ্যা ৭ শতাংশ। জীবনের প্রতি প্রত্যাশা বাড়ায় আগামী দশকগুলিতে তা আরও বাড়বে। ২০২৫ সালের মধ্যে ভারতে পুরুষদের গড় আয়ুষ্কাল হবে ৭১ এবং মহিলাদের ৭৪ বছর। আগামী ৪০ বছরের মধ্যে ১৭০ কোটিতে পৌঁছবে ভারতের জনসংখ্যা। সেটিই সর্বোচ্চ। তারপর থেকে জনসংখ্যা কমতে শুরু করবে।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ