Bartaman Logo
৯ জুন, ২০২৬
বর্তমান / খেলা

মোতেরায় লজ্জার হার ভারতের

ডিজে অনেকভাবে চেষ্টা করছেন দর্শকদের উজ্জীবিত করতে। কখনও চালানো হচ্ছে লুঙ্গি ড্যান্স..., কখনও আবার বিড়ি জ্বালাই লে...। কিন্তু কোনও সাড়া নেই।

মোতেরায় লজ্জার হার ভারতের
  • ২৩ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

সুকান্ত বেরা, আমেদাবাদ: ডিজে অনেকভাবে চেষ্টা করছেন দর্শকদের উজ্জীবিত করতে। কখনও চালানো হচ্ছে লুঙ্গি ড্যান্স..., কখনও আবার বিড়ি জ্বালাই লে...। কিন্তু কোনও সাড়া নেই। মোতেরা স্টেডিয়ামের গ্যালারি জুড়ে শুধুই শ্মশানের নিস্তবদ্ধতা। যেন স্বজন হারানোর শোকে ডুবলেন ৮৫ হাজার দর্শক। সেটাই স্বাভাবিক। দক্ষিণ আফ্রিকার ৭ উইকেটে ১৮৭ রানের জবাবে রীতিমতো মুখ থুবড়ে পড়ল টিম ইন্ডিয়া। ১৮.৫ ওভারে ভারতীয় ইনিংস গুটিয়ে গেল ১১১ রানে। মাত্র ৫১ রানে ৫ উইকেট পড়ার পরেই দেওয়াল লিখন স্পষ্ট হয়ে গিয়েছিল। তবুও সূর্যকুমার যাদব যতক্ষণ ছিলেন, ছেঁড়া কাঁথায় শুয়ে লাখ টাকার স্বপ্ন দেখা জারি ছিল। ভারত অধিনায়ক ফিরতেই ফাঁকা হতে শুরু করল গ্যালারি। সুপার এইটের প্রথম ম্যাচে প্রোটিয়াদের কাছে ৭৬ রানে হেরে বিপাকে গতবারের চ্যাম্পিয়নরা। পরিস্থিতি যা দাঁড়াল, তাতে গ্রুপ পর্বে অপরাজিত জিম্বাবোয়েও চিপকে পরের ম্যাচে চোখ রাঙাবে সূর্য বাহিনীকে। 

Advertisement

প্রচলিত ধারণা, টি-২০ ব্যাটারদের গেম। কিন্তু রবিবার ভারতের সাধের ব্যাটিংয়ের ভরাডুবি দেখে তেমনটা মনে হল না। চলতি বিশ্বকাপে গত চারটি ম্যাচে সূর্যরা জিতেছিলেন আগে ব্যাট করে। এদিন প্রথমবার রান তাড়া করতে নেমে ঝুলি থেকে বেরিয়ে পড়ল বিড়াল। এই ছেলেখেলার জন্য কোটি কোটি টাকা খরচ করে কোচ রাখার কি দরকার? আমেরিকা, নামিবিয়া, নেদারল্যান্ডস ও ধুঁকতে থাকা পাকিস্তানকে হারানোর পর ঈশান কিষান, অভিষেক শর্মাদের হাবভাব দেখে মনে হচ্ছিল, দক্ষিণ আফ্রিকাকে হারানো জলভাত হবে। কিন্তু হল ঠিক উলটো। মার্করামরা এদিন যে ক্রিকেট উপহার দিলেন, তাকে কুর্নিশ জানাতেই হবে। ২০ রানে ৩ উইকেট হারানোর পর ৭ উইকেটে ১৮৭ তোলা দক্ষিণ আফ্রিকার ব্যাটারদের থেকে কি কিছুই শিক্ষা নিলেন না তিলকরা? বাউন্ডারি হাঁকিয়ে শূন্যের গেরো কাটাতে সফল হলেও অভিষেক ফর্মের ধারেকাছে নেই। ব্যাটে-বলে সুন্দরকে লাগল বড়ই কুৎসিত। 
অভিশপ্ত মোতেরায় ভারতের লজ্জার হারে সমান দায়ী বোলাররাও। বুমরাহ-অর্শদীপের পেসের দাপটে পাওয়ার প্লে’তে একটা সময় দক্ষিণ আফ্রিকা ছিল ২০-৩। কুড়ি ওভারের ম্যাচে এর থেকে ভালো স্টার্ট আর কী হতে পারে! কিন্তু সেই সাফল্য ধরে রাখতে পারল না ভারত। এক্ষেত্রে ডেভিড মিলারের প্রশংসাও জরুরি। চাপের মুখে ব্রেভিসের সঙ্গে ৫১ বলে ৯৭ রানের জুটি গড়েন তিনি। এটাই হয়ে ওঠে ম্যাচের টার্নিং পয়েন্ট। ছক্কা হাঁকিয়ে হাফ-সেঞ্চুরি পূর্ণ করার পর মিলার-স্টাবসের পরিকল্পনা ছিল চালিয়ে খেলে রান রেট বাড়িয়ে নেওয়া। মিডল ওভারে ভারত ৭ ওভারে দেয় ৮৩ রান। তাও আবার এক উইকেটের বিনিময়ে। সেটাও দুবের শিকার ব্রেভিস (৪৫)। দক্ষিণ আফ্রিকার কৌশল ছিল উইকেট বাঁচিয়ে রেখে শেষ পাঁচ ওভারে ঝোড়ো ব্যাটিং করা। কিন্তু মিলার ৬৩ রানে বরুণের বলে আউট হওয়ার পর মন্থর হয়ে পড়ে রানের গতি। তার উপর বুমরাহর ঝাঁঝালো বোলিং আর মাথা তুলতে দেয়নি স্টাবসদের। ক্রমাগত উইকেট পড়ায় দক্ষিণ আফ্রিকার দুশোর আশাও কমতে থাকে। তবুও হার্দিকের শেষ দুই বলে বিশাল ছক্কা হাঁকিয়ে স্টাবস দলকে পৌঁছে দেন লড়াইয়ের জায়গায়। 
আসলে এই দক্ষিণ আফ্রিকাকে আর চোকার্স বলা যাবে না। বাভুমার নেতৃত্বে টেস্ট বিশ্বকাপ জয় চাকা ঘুরিয়েছে ম্যান্ডেলার দেশের। ভারতকে হারিয়ে টি-২০ বিশ্বকাপেও খেতাবের দাবি জোরালো করল প্রোটিয়া ব্রিগেড। একইসঙ্গে ২০২৪ টি-২০ বিশ্বকাপ ফাইনালে পরাজয়ের শোধও নিলেন মিলাররা।
সংক্ষিপ্ত স্কোর- দক্ষিণ আফ্রিকা ১৮৭-৭ (মিলার ৬৩, ব্রেভিস ৪৫, স্টাবস অপরাজিত ৪৪, বুমরাহ ৩-১৫, অর্শদীপ ২-২৮)। ভারত: ১৮.৫ ওভারে ১১১ (শিবম ৪২, জানসেন ৪-২২, মহারাজ ৩-২৪)।  ৭৬ রানে জয়ী দক্ষিণ আফ্রিকা।
 ম্যাচের সেরা: ডেভিড মিলার।

সম্পর্কিত সংবাদ