Bartaman Logo
২২ জুলাই, ২০২৬
বর্তমান / খেলা

এই প্রজন্মের হাত ধরে স্প্যানিশ ফুটবলে নবজাগরণ

বিশ্বকাপ জয়ের পর স্প্যানিশ ফুটবলে নবজাগরণ ঘটেছে। যুব এবং মহিলা ফুটবলে সাফল্য অব্যাহত। বিস্তারিত জানুন।

এই প্রজন্মের হাত ধরে স্প্যানিশ ফুটবলে নবজাগরণ
  • ২২ জুলাই, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

কার্লেস কুয়াদ্রাত: বিশ্বকাপ জয়ের পর কেটে গিয়েছে ৪৮ ঘণ্টা। তবে গোটা দেশ এখনও সেলিব্রেশনে মত্ত। বিভিন্ন রেস্তরাঁ, পাব, নাইট ক্লাব এমনকি মেট্রো স্টেশনগুলিতেও বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের জার্সি গায়ে দেখা গিয়েছে মানুষের ঢল। দ্বিতীয়বার বিশ্বকাপ জয় অবশ্যই আমাদের কাছে বড়ো প্রাপ্তি। তবে মনে রাখতে হবে, স্পেন কিন্তু পুরুষদের পাশাপাশি মহিলা ফুটবলেও বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়ন। শুধু তাই নয়, সম্প্রতি অনূর্ধ্ব-১৯ ইউরো শিরোপা জিতেছি আমরা। ফাইনালে জার্মানিকে ২-০ গোল বশ মানায় দেশের তরুণ তুর্কিরা। মজার বিষয় হল, বয়সের নিরিখে এই টুর্নামেন্টে অনায়াসেই খেলতে পারত সদ্য বিশ্বকাপ জয়ী পাও কুবার্সি ও লামিনে ইয়ামাল। আসলে লুই ডে লা ফুয়েন্তে দায়িত্ব নেওয়ার পর স্পেন ফুটবলের চিত্রটাই পুরো বদলে গিয়েছে। আর এই প্রজন্মের হাত ধরে স্প্যানিশ ফুটবলে নতুন করে ঘটেছে নবজাগরণ।

Advertisement

পুরুষ সিনিয়র ফুটবলে শেষ চারটি মেজর টুর্নামেন্টের মধ্যে তিনটিতে চ্যাম্পিয়ন স্পেন। শুধু নেশনস কাপ ফাইনালে পতুর্গালের কাছে টাই-ব্রেকারে হারতে হয়েছিল রড্রিদের। বাকি টুর্নামেন্টে খুব সহজেই জয় ছিনিয়ে নেয় তারা। পরিসংখ্যানের দিক থেকে যা এককথায় অনবদ্য। তবে প্রতিটি টুর্নামেন্টে যে দাপটের সঙ্গে ফুটবলাররা নিজেদের মেলে ধরেছে, তার জন্য আলাদা করে বাহবা দিতেই হবে। গোটা টুর্নামেন্টে মাত্র একটি গোল হজম করা। বিশ্বকাপের আসরে যা এক অনন্য রেকর্ড।
রবিবার ফাইনালে আর্জেন্তিনার খেলায় বেশ হতাশ হয়েছি। গোটা ম্যাচে একবারের জন্য তাদের দেখে মনে হয়নি, জয়ের জন্য খেলছে মেসিরা। ৯০ মিনিটে একবারও বিপক্ষ গোল লক্ষ্য করে শট নিতে পারেনি তারা। পুরো ম্যাচটাই স্পেন নিয়ন্ত্রণে রাখে। স্রেফ এমিলিয়ানো মার্তিনেজের একের পর এক দুরন্ত সেভের জেরে ম্যাচটা অতিরিক্ত সময়ে গড়িয়েছিল। শেষ পর্যন্ত ফেরান তোরেসের গোল খেতাব এনে দেয়। এই গোল আমাকে মনে করাচ্ছে ২০১০ ফাইনালে ইনিয়েস্তাকে। এমনই পরিস্থিতিতে সেবার জাল কাঁপিয়েছিল দেশের অন্যতম এই তারকা মিডিও। 
পুরুষ, মহিলা, যুব স্তর থেকে ক্লাব ফুটবল—সব জায়গাতেই সাফল্যের ধারা অব্যাহত। বিশেষত প্রতিটি স্তরে যেভাবে ফুটবলার ও কোচেদের সঠিক প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়, তারই ফসল মিলছে। দেশের প্রতিটি ক্লাব সেই কাজটাই নিষ্ঠার সঙ্গে করে চলেছে। শুধু দেশীয় ফুটবল নয়, বিদেশি লিগগুলিও আমাদের অনুসরণ করছে। স্প্যানিশ কোচেদের হাত ধরেই তারা সাফল্যের মুখ দেখছে। দীর্ঘ সময় ধরে আমি ভারতীয় ফুটবলের সঙ্গে যুক্ত ছিলাম। সেখানেও ক্লাব ফুটবলে স্প্যানিশ কোচদের রমরমা। আইএসএলে শেষ ১২ বছরের মধ্যে ন’বার খেতাব জয়ী দলের দায়িত্বে ছিলেন কোনো না কোনো স্প্যানিয়ার্ড, যা সত্যিই অবিশ্বাস্য!

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ