নিজস্ব প্রতিনিধি, শিলিগুড়ি ও সংবাদদাতা, দার্জিলিং: পুলিশ কনস্টেবল থেকে বিনোদন জগতে পা। গায়ক থেকে অভিনেতা। নেপালি সিনেমা থেকে সাড়াজাগানো ওয়েব সিরিজে অভিনয়। উল্কা গতিতে উত্থান। তাঁকে ঘিরেই রাতারাতি পালটে গিয়েছিল পাহাড়ের রাজনীতি। ইন্ধন জুগিয়েছিল গোর্খাল্যান্ড আন্দোলন, এমনকি স্বয়ং বিমল গুরুংয়ের উত্থানে। রবিবার মাত্র ৪২ বছর বয়েসে দিল্লিতে প্রয়াত হলেন পাহাড়ের সেই শিল্পী প্রশান্ত তামাং। তাঁর স্ত্রী ও তিন বছরের কন্যাসন্তান বর্তমান। প্রয়াত শিল্পীর বোন অনুপমা তামাংয়ের দাবি, প্রচণ্ড ঠান্ডার জেরে জ্বর, সর্দিতে আক্রান্ত হয়েছিলেন প্রশান্ত। তা থেকেই শ্বাসকষ্টে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যু হয়েছে বলে তাঁর শ্যালিকা ফোনে জানিয়েছেন। গায়কের আকস্মিক মৃত্যুতে শোকস্তব্ধ পাহাড়, সমতল ও বিনোদন দুনিয়া। শোকপ্রকাশ করেছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ও। প্রশান্তের মৃত্যুর খবর চাউর হতেই শোকে কাতর দার্জিলিং। শৈলশহরের ১৪ নম্বর ওয়ার্ডের টুংসুং এলাকায় তাঁর বাড়ি। ১৯৮৩ সালের ৪ জানুয়ারি জন্ম। বাবা মদন তামাং ও মা রূপা তামাং আগেই প্রয়াত হয়েছেন। পাহাড়ে পড়াশোনা শেষ করার পর কলকাতা পুলিশের কনস্টেবল পদে যোগ দেন প্রশান্ত। পুলিশ অর্কেস্ট্রা সেটে সক্রিয়ভাবে জড়িত ছিলেন। ২০০৭ সালে টিভি রিয়েলিটি শো ‘ইন্ডিয়ান আইডল’ জিতে ব্যাপক জনপ্রিয়তা অর্জন করেন। সেই সময় তাঁর সাফল্য নিয়ে মুম্বইয়ের এক রেডিও জকি রসিকতা করেছিলেন— ‘এবার থেকে বাড়ি ও অফিসের দারোয়ানদের গানের আসরে গাইবার সুযোগ দিতে হবে।’ এতেই জ্বলে উঠেছিল পাহাড়, যার নেতৃত্বে ছিলেন বিমল গুরুং ও রোশন গিরিরা। তার আঁচ পড়েছিল সমতলেও। বিমলদের র্যালি ঘিরে শিলিগুড়িতে দুই গোষ্ঠীর মধ্যে ব্যাপক হাঙ্গামা হয়। সেই বিক্ষোভ সামাল দিতে কার্যত ব্যর্থ হয় তৎকালীন বামফ্রন্ট সরকার। পাহাড়ে জন্ম নেয় নতুন রাজনৈতিক দল গোর্খা জনমুক্তি মোর্চা। পাহাড় ছেড়ে সমতলে পালিয়ে আসতে বাধ্য হন জিএনএলএফ প্রধান সুবাস ঘিসিংও।



