নয়াদিল্লি: মার্কিন মুলুকে বসে ভারতকে পরমাণু যুদ্ধের হুমকি দিয়েছেন পাকিস্তানের সেনাপ্রধান আসিম মুনির। গত কয়েকদিন ধরেই তা নিয়ে বিতর্ক চলছে দুনিয়াজুড়ে। বুধবার সিন্ধু চুক্তি নিয়ে সুর চড়িয়েছেন পাক প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফও। তার ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই পাল্টা হুঁশিয়ারি দিল নয়াদিল্লি—দুঃসাহস দেখালে পাকিস্তানের পরিণতি হবে ভয়ংকর। ইসলামাবাদকে যে কোনওভাবেই রেয়াত করা হবে না, বৃহস্পতিবার সেটা সাফ বুঝিয়ে দিয়েছেন বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল। বলেছেন, ‘পাকিস্তানের উচিত তাদের বক্তব্য সংযত করা। তাদের যে কোনও দুঃসাহসিক কাজের পরিণতি হবে যন্ত্রণাদায়ক। যেমনটা সম্প্রতি হয়েছে।’ পহেলগাঁওয়ের বৈসরণ উপত্যকায় জঙ্গি হামলার জবাবে অপারেশন সিন্দুর চালিয়েছে ভারত। সেটাও একেবারে ইসলামাবাদের নাকের ডগায়। কেঁপে গিয়েছিল পাক প্রশাসন। বাঙ্কারে আশ্রয় নিতে বাধ্য হয়েছিলেন পাক সেনাপ্রধান আসিম মুনির এবং প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ। উল্লেখ না করে সেই ঘটনার কথা এদিন মনে করিয়ে দিয়েছেন বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্র।
আজ, শুক্রবার দেশের ৭৯তম স্বাধীনতা দিবস। এই অবস্থায় বৃহস্পতিবার সাপ্তাহিক সাংবাদিক বৈঠকেই পাকিস্তানকে নিশানা করেছেন রণধীর। তাঁর সাফ কথা, নিজেদের ব্যর্থতা ঢাকতে ভারত বিরোধী অবস্থানে শান দিচ্ছে ইসলামাবাদ। তিনি বলেন, ‘লাগামহীন বিষোদগার করা হচ্ছে। ভারত বিদ্বেষ জাগিয়ে রাখতে এটা একটা চেনা ছক।’
অপারেশন সিন্দুরের পর কিছুটা ব্যাকফুটে চলে গিয়েছিল পাকিস্তান। সে দেশের নেতারাও ভারতের প্রতি নরম মনোভাব দেখাতে শুরু করেছিলেন। পরিস্থিতি বদলায় আসিম মুনিরের মার্কিন সফরে। তাঁকে কার্যত জামাই আদর করেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এরপরই ভারতের প্রতি আবার বিদ্বেষমূলক মন্তব্য করতে শুরু করে পাকিস্তান। সম্প্রতি মার্কিন সফরে গিয়ে মুনির বলে বসেন, ‘আমাদের যদি কখনও ডুবে যাওয়ার মতো অবস্থা হয়, আমরা কিন্তু একা ডুবব না। অর্ধেক পৃথিবীকে নিয়েই ধ্বংস হব। মনে রাখবেন আমরাও পরমাণু শক্তিধর রাষ্ট্র।’ সিন্ধু চুক্তি ইস্যুতে ‘ভারতকে উচিত শিক্ষা’ দেওয়ার হুমকি দিয়েছেন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ। আর সে দেশের রাজনীতিক বিলাবল ভুট্টো বলেছেন, ‘ভারত যদি সিন্ধুর জল না দেয়, তবে যুদ্ধ ছাড়া কোনও পথ খোলা থাকবে না।’ এই অবস্থায় এদিন ভারতের হুঁশিয়ারি কার্যত পাকিস্তানকে আগের প্রত্যাঘাতের কথা মনে করিয়ে দিল।