কলম্বো: বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের ফাইনালে ওঠার আশা জাগিয়ে রাখতে শ্রীলঙ্কার বিরুদ্ধে জেতাটা জরুরি। তাই দুই ম্যাচের টেস্ট সিরিজকে পাখির চোখ করেছে টিম ইন্ডিয়া। গিলরা দীর্ঘদিন পর লাল বলের ক্রিকেটে ফিরছেন। তাই ধাতস্থ হওয়ার জন্য একটি প্রস্তুতি ম্যাচ খেলারও সিদ্ধান্ত নিয়েছে টিম ম্যানেজমেন্ট। তিন দিনের ম্যাচটি শুরু শুক্রবার। শ্রীলঙ্কা একাদশের বিরুদ্ধে মাঠে নামার আগে বৃহস্পতিবার তিন ঘণ্টা ঘাম ঝরালেন ভারতীয় ক্রিকেটাররা।
নেট সেশনে দুটো ছবি ধরা পড়ল। একটা দিক ছিল স্পিনারদের দখলে। অন্যদিকে পেসাররা। নেট সেশনের শুরুতেই স্পিনারদের বিরুদ্ধে মহড়া সারেন লোকেশ রাহুল, যশস্বীরা। আসলে শ্রীলঙ্কার মাটিতে সাফল্য পেতে গেলে স্পিনের বিরুদ্ধে সফল মোকাবিলা করতেই হবে। তাই নেট সেশনের শুরুতে কুলদীপ যাদব, রবীন্দ্র জাদেজাদের খেলে ভুলত্রুটি খোঁজার চেষ্টা করলেন লোকেশ রাহুল, যশস্বী জয়সওয়ালরা। এমনিতেই অতিরিক্ত চার নেট বোলার সঙ্গে এনেছে টিম ইন্ডিয়া। তারা প্রত্যেকেই আবার স্পিনার। এটা থেকেই স্পষ্ট, ভারতীয় টিম ম্যানেজমেন্ট শ্রীলঙ্কার স্পিনারদের বাড়তি গুরুত্ব দিচ্ছে।
একদিকে যখন স্পিনের বিরুদ্ধে নেট করছিলেন লোকেশরা, তখন পাশে পেসারদের মোকাবিলা করলেন ক্যাপ্টেন শুভমান গিল। তবে শুরুতেই বিপত্তি। গুরনুর ব্রার বলে বুড়ো আঙুলে চোট পান ভারত অধিনায়ক। আতঙ্কা ছড়ায় শিবিরে। ছুটে যান ভারতীয় দলের ফিজিও কমলেশ জৈন। গিলের বুড়ো আঙুল স্ট্র্যাপড করে দেন। তারপর গিল আতঙ্ক সরিয়ে নকিংয়ে মেতে ওঠেন। এমনিতেই ভারতীয় দলের অবস্থা সিঁদুরে মেঘ দেখে ডরানোর মতই। মরশুমের প্রথম থেকে চোট সমস্যায় জর্জরিত টিম ইন্ডিয়া। শ্রীলঙ্কার বিরুদ্ধে টেস্ট সিরিজে স্কোয়াডে সুযোগ পেয়েও আনফিট হওয়ায় ছিটকে যান বুমরাহ। তাই সিরাজ, প্রসিদ্ধদের বাড়তি দায়িত্ব পালন করতে হবে। স্বস্তির খবর এটা, চোট সামলেই নেটে ব্যাট করেন গিল। প্রায় ৩০-৪০ মিনিটে তিনি পেসারদের মোকাবিলা করেন। তারপর স্পিনারদের বিরুদ্ধেও কিছুক্ষণ সময় কাটান। তাঁর সঙ্গী হয়েছিলেন দেবদূত পাদিক্কাল। আসলে সাই সুদর্শন যদি প্রথম টেস্টের আগে ফিট হয়ে উঠতে না পারেন, তাহলে বিকল্প হিসেবে দেবদূতকে তৈরি রাখছে দল।
তবে প্র্যাকটিস পিচে অতিরিক্ত ঘাস ছাড়া নিয়ে বিরক্ত ভারতীয় দল। কারণ, গল কিংবা কলম্বোর যে পিচে টেস্ট ম্যাচ হবে, সেখানে ঘাস প্রায় থাকবে না বললেই চলে।