দীপেন্দু বিশ্বাস: মরশুম সবে শুরু। কলকাতার দুই প্রধান এখনও সেভাবে নিজেদের গুছিয়ে উঠতে পারেনি। ডুরান্ড কাপে সবে মাত্র দু’টি করে ম্যাচ খেলেছে তারা। তাই এখনই তুলনা টানা ঠিক হবে না। তবে দলের ভারসাম্য বিচার করলে অবশ্যই ইস্ট বেঙ্গলের থেকে মোহন বাগানকে কিছুটা হলেও এগিয়ে রাখব। তার অন্যতম কারণ ভারতীয় স্কোয়াডের গভীরতা। বিশাল, মনবীর, লিস্টন, সাহাল, আপুইয়া, অভিষেকরা ছিলই, এবার দলের সঙ্গে যোগ দিয়েছে রাহুল ভেকে ও লালিয়ানজুয়ালা ছাংতে। আনোয়ার দল ছাড়ার পর একজন ভালোমানের ভারতীয় ডিফেন্ডারের খোঁজে ছিলেন বাগান কর্তারা। রাহুল ভেকে অবশ্যই ভালো বিকল্প। প্রথম দু’টি ম্যাচে সে তা প্রমাণ করেছে। একইসঙ্গে বিদেশি বিভাগে মিগুয়েলের যোগ দেওয়াটা অবশ্যই বড়ো চমক। গত মরশুমে মাঝমাঠে খেলা তৈরি করার লোকের অভাবে বারবার ভুগেছিল মোহন বাগান। ব্রাজিলিয়ান মিডিও আসায় সেই সমস্যা অবশ্যই মিটবে। বিপক্ষ বক্সে এবার আরও বেশি বিপজ্জনক হয়ে উঠতে পারে ম্যাকলারেন।
ইস্ট বেঙ্গল দলেও এসেছে অনেক পরিবর্তন। বিদেশি স্কোয়াডে রশিদ ছাড়া বাকি সবাই নতুন। মনে রাখতে হবে, গতবার লাল-হলুদের আইএসএল খেতাব জয়ের পিছনে কেভিন সিবলের বড়ো ভূমিকা ছিল। আর্জেন্তাইন ডিফেন্ডারের দল ছাড়াটা অবশ্যই মশাল বাহিনীর জন্য বড়ো ধাক্কা। সেই তুলনায় স্বদেশি ব্রিগেড অনেক বেশি ব্যালান্সড। আনোয়ার, জিকসন, বিষ্ণু, বিপিনরা গতবার ধারাবাহিক ভাবে পারফর্ম করেছে। ব্যক্তিগত ধারণা, ডেভিডকে আরও বেশি করে ব্যবহার করুক ইস্ট বেঙ্গল। ওর মধ্যে প্রতিভার অভাব নেই। মহামেডানে খুব কাছ থেকে ওকে দেখেছি।
ফুটবলারদের পাশাপাশি দুই প্রধানেই এবার নতুন কোচ। হাবাস ভারতীয় ফুটবলে চেনা মুখ। তবে ইস্ট বেঙ্গলে তাঁর সামনে কঠিন চ্যালেঞ্জ। প্রথম ম্যাচেই কেরিয়ারের প্রথম ডার্বিতে হারের মুখ দেখেছে অভিজ্ঞ স্প্যানিয়ার্ড। তাই নিজেকে নতুন করে প্রমাণের তাগিদ থাকবে তাঁর সামনে। সেই তুলনায় মোহন বাগান কোচ অনেক বেশি চাপমুক্ত। অভিষেকেই ডার্বি জয়। ফলে শুরুতেই সমর্থকদের আস্থা অর্জন করতে সফল এই গ্রিক কোচ।
মরশুমের শুরুতে সব দলই চায় দুর্বল প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে খেলে নিজেদের আত্মবিশ্বাস বাড়িয়ে নিতে। সেই জায়গায় ডুরান্ড কাপে গ্রুপ পর্বে সাউথ ইউনাইটেড, সিআইএসএফের মতো দলের বিরুদ্ধে যথাযথ প্রস্তুতি সারার সুযোগ পাচ্ছে দুই প্রধান। এই বড়ো জয় ফুটবলারদেরও আত্মবিশ্বাস বাড়াবে। তবে সত্যি বলতে, একজন প্রাক্তন ফুটবলার হিসেবে ডুরান্ড কাপে এই লড়াই দেখে খুবই হতাশ। মনে আছে, টিএফএ’তে থাকাকালীন আমরা যোগ্যতা অর্জনের ম্যাচ খেলে তারপর ডুরান্ড কাপের মূলপর্বে পৌঁছাতাম। এখন তো অনামী দলগুলিও সরাসরি টুর্নামেন্টে খেলার সুযোগ পাচ্ছে। ফলে প্রতিদ্বন্দ্বিতার মান ক্রমশ পড়েছে। আয়োজকদের উচিত, এই বিষয়টা নিয়ে সচেতন হওয়া।