ভারত- ১ : উরুগুয়ে- ৬
ভারত- ১ : উরুগুয়ে- ৬
সঞ্জয় সরকার, কলকাতা: গত ম্যাচে ভারতীয় দলকে চার গোলের মালা পরিয়েছিল ব্রাজিল। সেই হার থেকে শিক্ষা নিয়ে উরুগুয়ের বিরুদ্ধে লড়াইয়ের বার্তা দিয়েছিলেন কোচ খালিদ। কিন্তু আদতে নিজেই সেটা করলেন কোথায়! গত ম্যাচে গোলরক্ষক গুরপ্রীতের ভুলের খেসারত দিতে হয়েছিল দলকে। অথচ মঙ্গলবার উরুগুয়ের বিরুদ্ধে আশ্চর্যজনকভাবে তাঁকে রেখেই দল সাজান ভারতীয় কোচ। ফের দীর্ঘকায় গোলরক্ষকের ব্যর্থতায় বিফলে গেল বাকিদের লড়াই। ম্যাচের দ্বিতীয়ার্ধে পাঁচ মিনিটের ব্যবধানে দু’গোল খেল ভারত। দায় এড়াতে পারেন না গুরপ্রীত। গ্যালারিতে ‘গো ব্যাক স্লোগানও উঠল।’ এরপরও কি খালিদ তাঁকে বয়ে বেড়াবেন? যদিও ম্যাচ শেষে হারের যাবতীয় দায় নিজের কাঁধেই নিলেন কোচ।
মঙ্গলবার যুবভারতীতে ভারতকে হাফ ডজন গোলের মালা পরাল ফোরলান ব্রিগেড। জোড়া লক্ষ্যভেদে নায়ক ম্যাক্সিমিলিয়ানো আরাহু। এছাড়া স্কোরশিটে নাম তোলেন ডারউইন নুনেজ, জারাজার, হুয়ান সানাব্রিয়া ও রডরিগো আগুইরে। ম্যাচে ভারতের একমাত্র প্রাপ্তি অনিরুদ্ধ থাপার গোল। দু’বারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের বিরুদ্ধে শুরুটা ইতিবাচক করেও নিজেদের ব্যর্থতায় পিছিয়ে পড়ে ভারত। প্রতি-আক্রমণে বক্সে হানা দেওয়া ফেডেরিকো ভিনাজকে ফাউল করেন পরমবীর। পেনাল্টি থেকে গোল করতে ভুল করেননি নুনেজ (১-০)। ব্রাজিলের দৃষ্টিনন্দন ফুটবল ঘরানা থেকে অনেকটাই আলাদা উরুগুয়ে। মূলত রাফ-অ্যান্ড টাফ ফুটবলের জন্যই পরিচিত তারা। ১৬ মিনিটে ম্যাক্সি আরাহুর শট পোস্টে লাগে। অবশেষে ২২ মিনিটে আসে সেই মাহেন্দ্রক্ষণ। মাঝমাঠ থেকে বল ধরে গতি বাড়িয়ে আক্রমণে ওঠেন রায়ান উইলিয়ামস। প্রতিপক্ষ বক্সের কাছাকাছি পৌঁছেই চকিত শট নেন তিনি। উরুগুয়ের গোলরক্ষক কারডোজা তা তালুবন্দি করতে ব্যর্থ হতেই ফিরতি বল জালে জড়িয়ে ভারতকে সমতায় ফেরান অনিরুদ্ধ থাপা (১-১)। এই পর্বে আরও বেশি আক্রমণাত্মক দেখায় ভারতকে। সহজ পরিস্থিতি পা ছাড়া করলেন এডমুন্ডও। এরপর প্রবল বজ্রপাতের কারণে ২৭ মিনিটে খেলা থামাতে বাধ্য হন রেফারি। প্রায় ৩৮ মিনিট বন্ধ থাকার পর খেলা শুরু হলেও খালিদ ব্রিগেডের ছন্দ উধাও। বরং ম্যাচে জাঁকিয়ে বসে উরুগুয়ে। নানডেজের সেন্টার থেকে অনায়াসেই জাল কাঁপান ম্যাক্সিমিলিয়ানো (২-১)। বিরতির পর স্রেফ রোলার চালায় উরুগুয়ে। ৫৩ মিনিটে ভারতের বক্সের সামনে হেডে বল নামিয়ে দেন নুনেজ। তা ধরে দুরন্ত শটে গোল জারাজারের (৩-১)। ৫৮ মিনিটে ম্যাক্সিমিলিয়ানোর দ্বিতীয় গোলের ক্ষেত্রে দর্শকের ভূমিকায় গুরপ্রীত (৪-১)। ৭১ মিনিটে হুয়ান সানাব্রিয়ার লক্ষ্যভেদ (৫-১)। ৮৬ মিনিটে ভারতের কফিনে শেষ পেরেকটি পোঁতেন আগুইরে (৬-১)। খালিদের স্ট্র্যাটেজি নিয়েও প্রশ্ন উঠছে। সমতা ফেরানোর পর কাছা খুলে আক্রমণে যাওয়ার অর্থ খুঁজে পাচ্ছেন না অনেকেই। ম্যাচের পর অনিরুদ্ধ থাপার মন্তব্য, ‘প্রতিপক্ষের মবিলিটি অনেক বেশি। তবে গোল পাওয়া অবশ্যই তৃপ্তির।’ উল্লেখ্য, ক্যানসারের বিরুদ্ধে সচেতনতার বার্তা দিতে গোলাপি মোজা পরে মাঠে নেমেছিলেন উরুগুয়ের ফুটবলাররা।
ভারত: গুরপ্রীত (আলবিনো), অভিষেক (ভালপুইয়া), আনোয়ার, পরমবীর (বিজয়), আকাশ, অনিরুদ্ধ, আপুইয়া (রিকি), মনবীর (রহিম), রায়ান, আশিক (সানান) ও এডমুন্ড (সাহাল)।