ভারত-৪ : পাকিস্তান-৩
ভারত-৪ : পাকিস্তান-৩
নাগোয়া: হকি থ্রিলার বোধহয় একেই বলে। পাকিস্তানের বিরুদ্ধে ৩-০ গোলের লিড নিয়েছিলেন হরমনপ্রীতরা। সেখান থেকে ৩-৩! শেষপর্যন্ত অন্তিম মুহূর্তে অভিষেক নাইনের লক্ষ্যভেদে এশিয়াড হকির ফাইনালে উঠল ভারত। ৭ গোলের টানটান ম্যাচ দেখে বিশেষজ্ঞরা মুগ্ধ। ইতিমধ্যে মহিলাদের হকিতেও ফাইনালে পৌঁছেছে ভারতীয় দল। সবমিলিয়ে দুই বিভাগেই সোনা জয়ের হাতছানি ধ্যানচাঁদের দেশের সামনে।
ক্রিকেট হোক বা হকি, সাম্প্রতিককালে পাকিস্তানের উপর রোলার চালিয়েছে ভারত। বৃহস্পতিবার সেমি-ফাইনালেও শুরুতে হরমনপ্রীতের গোলে লিড নেয় ক্রেগ ফুলটন ব্রিগেড। পেনাল্টি কর্নার থেকে জাল কাঁপান তিনি (১-০)। এরপর ১৩ মিনিটেই ২-০। এক্ষেত্রেও পেনাল্টি কর্নার কাজে লাগাতে কোনো ভুল করেননি অভিজ্ঞ ড্র্যাগ ফ্লিকার হরমনপ্রীত। দ্বিতীয় কোয়ার্টারে হার্দিকদের দাপটে কোণঠাসা হয়ে পড়ে পাকিস্তান। ২৩ মিনিটে শিলানন্দ লাকরার রিভার্স ফ্লিক থেকে গোল সুখজিতের (৩-০)। অনেকেই ধরে নিয়েছিলেন বড়ো ব্যবধানে জয় স্রেফ সময়ের অপেক্ষা। কিন্তু সবাইকে অবাক করে দারুণভাবে লড়াইয়ে ফেরে পাকিস্তান। পেনাল্টি কর্নার থেকে জাল কাঁপান আবু মাহমুদ (৩-১)। তৃতীয় কোয়ার্টারে জাঁকিয়ে বসে পাকিস্তানই। ভারতীয় রক্ষণের দুর্বলতা কাজে লাগিয়ে হান্নান শাহিদ ও ওয়াহিদ রানা গোল করে সমতায় ফেরান পাক দলকে। শেষপর্যন্ত ম্যাচ শেষের ৪৯ সেকেন্ড আগে প্রতিপক্ষের ডি’বক্সে ঢুকে দুরন্ত হিট নেন অভিষেক। এক পাক ডিফেন্ডারের স্টিকে লেগে বল জালে জড়ায় (৪-৩)। তবে জিতলেও রক্ষণ নিয়ে ফুলটনের চিন্তা থাকছেই।
পাশাপাশি এদিন কুস্তি এবং সেইলিংয়ে ভারতের ঝুলিতে যোগ হল দু’টি রুপো। পুরুষদের কুস্তির ৯৭ কেজি গ্রেকো রোমান বিভাগে নীতেশ সিওয়াচ সোনার আশা জাগিয়েছিলেন। কিন্তু ফাইনালে জাপানের নাকাজাতোর কাছে ০-৪ পয়েন্টে হার মানেন তিনি। ফলে রুপোতেই সন্তুষ্ট থাকতে হয় নীতেশকে। ১৯৬২ সালের পর কুস্তির এই বিভাগে পদক পেলেন কোনো ভারতীয়। সেইলিংয়ের ৪৯ইআর বিভাগে অন্য রুপোটি জিতেছে প্রিন্স নোবেল ও মানু ফ্রান্সিস জুটি। এই বিভাগে সোনা দখল করে চীনের জুটি। পাশাপাশি স্কোয়াশে নজর কাড়ল ভারতীয় পুরুষ ও মহিলা দল। দুই বিভাগেই সেমি-ফাইনালে হেরে ব্রোঞ্জ পায় তারা। এছাড়া তিরন্দাজিতে ব্যক্তিগত কম্পাউন্ড ইভেন্টে ব্রোঞ্জ পেয়েছেন টিজি মণি রত্নম।