সোমনাথ বসু, কলকাতা: বৃহস্পতিবার রাতে শহরে এল পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা। ভিনিসিয়াস, মার্কুইনহোস, এনড্রিকরা বিমানবন্দর থেকে ঢুকে পড়লেন বাইপাস সংলগ্ন হোটেলে। কলকাতার রাজপথে হোর্ডিংয়ে নিজেদের ছবি দেখে খুশি আনসেলোত্তি-ব্রিগেড। টিমবাসে নিজেদের মধ্যে গল্পে মাততে দেখা গেল এনড্রিক-ব্রুনো গুইমারেসকে। ভিনিসিয়াস হয়তো ভাবছিলেন, ২০১৭ সালে অনূর্ধ্ব-১৭ বিশ্বকাপ খেলতে তাঁর এখানেই আসার কথা ছিল। কিন্তু রিয়াল মাদ্রিদের ছাড়পত্র না মেলায় সেই আশা ভঙ্গ হয়। তাই এবার কলকাতার ফুটবল অনুরাগীদের মন মাতাতে তৈরি তিনি।
ব্রাজিলের এই সফর ঘিরে অল ইন্ডিয়া ফুটবল ফেডারেশন এবং রাজ্য সরকারের উৎসাহের অন্ত নেই। কিন্তু সাধারণের মধ্যে এই হাই-ভোল্টেজ ম্যাচ নিয়ে আগ্রহের অভাব চোখে পড়ার মতো। আসলে বাঙালি এখন পুজো মোডে ঢুকে পড়েছে। শপিং, প্যান্ডেল হপিংয়ের পরিকল্পনা নিয়েই ব্যস্ত সব্বাই। তাছাড়া ভিনিসিয়াস ছাড়া ব্রাজিলের এই দলে তেমন কেউ নেই যাঁর নামে চড়া দামের টিকিট বিক্রি হবে। বিশ্বকাপের পর নেইমার অবসর নেওয়ায় ভারতীয়রা হতাশ। তিনি থাকলে হাইপ যে শরতের আকাশ ছুঁতে চাইত, সে বিষয়ে সন্দেহ নেই।
শনিবার সন্ধ্যা সাড়ে সাতটায় যুবভারতী ক্রীড়াঙ্গনে ভারতের বিরুদ্ধে খেলবে ব্রাজিল। তার আগে শুক্রবার বিশেষ নৈশভোজের আয়োজন করা হয়েছে। উপস্থিত থাকবেন কলকাতার তিন প্রধানের প্রতিনিধিরা। ইতিমধ্যেই তাঁদের আমন্ত্রণ পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে। ব্রাজিল দলের সঙ্গে নৈশভোজের সুযোগ পেয়ে উচ্ছ্বসিত কর্তারা। শুরু হয়ে গিয়েছে উপহারের পরিকল্পনা। গোল্ডেন সেন্টিনারি কয়েন বক্স দেবে ইস্ট বেঙ্গল। চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী মোহন বাগানও পিছিয়ে নেই। ব্রাজিল ও উরুগুয়ে দলের জন্য রুপোর তৈরি ক্লাবের প্রতীক ‘পালতোলা নৌকা’ তুলে দেওয়া হবে দুই দেশের প্রতিনিধির হাতে। কলকাতার আরেক প্রধান মহমেডান স্পোর্টিং তৈরি করতে দিয়েছে সাদা-কালো রংয়ের বিশেষ মেমেন্টো। সবমিলিয়ে গালা ডিনার স্মরণীয় করে রাখতে মরিয়া তিন ঐতিহ্যমণ্ডিত ক্লাব।
তিন প্রধানের কর্তারাই চাইছেন, নিজেদের ক্লাব সম্পর্কে বিস্তারিত ধারণা শুক্রবারের নৈশভোজে ব্রাজিল দলের উপস্থিত প্রতিনিধিদের সামনে তুলে ধরতে। তবে সেই সুযোগ তাঁরা পাবেন কিনা তা সময়ই বলবে।