নয়াদিল্লি: ‘যুদ্ধ বন্ধ না হলে আপনাদের সঙ্গে আমরা আর বাণিজ্য করব না।’ এই হুঁশিয়ারি দিয়েই ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে সংঘাত ঠেকিয়েছেন। সোমবার এমনই দাবি করছিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তার একদিন পরেই ট্রাম্পের সেই দাবি উড়িয়ে দিল ভারতের বিদেশ মন্ত্রক। মন্ত্রকের তরফে জানানো হয়েছে, সংঘর্ষ বিরতির শর্ত হিসেবে কখনই বাণিজ্যের বিষয়টি সামনে আসেনি। এছাড়া কাশ্মীর সমস্যা মেটাতে ট্রাম্প যে মধ্যস্থতার প্রস্তাব দিয়েছিলেন, তাও এদিন খারিজ করে দেওয়া হয়েছে। বিদেশ মন্ত্রক জানিয়েছে, কাশ্মীর সমস্যা ভারত ও পাকিস্তান নিজেদের মধ্যেই মেটাবে। মঙ্গলবার বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল জানান, ভারতের অবস্থান স্পষ্ট। কাশ্মীর সমস্যা নয়াদিল্লি ও ইসলামাবাদের মধ্যে সমস্যা। এখন সমস্যা মূলত পাক অধিকৃত কাশ্মীর নিয়েই। এই অবস্থানের কোনও বদল হবে না। আপনারা সকলেই জানেন, পাকিস্তানের অবৈধভাবে দখলে থাকা ভারতীয় এলাকা খালি করে দেওয়াই একমাত্র বকেয়া ইস্যু।
সংঘর্ষ বিরতির দিন ট্রাম্প দাবি করেছিলেন, তিনি ভারত-পাকিস্তানের মধ্যে পরমাণু যুদ্ধ বন্ধ করেছেন। এদিন সেই বক্তব্যও খণ্ডন করেছেন রণধীর। তিনি বলেন, ‘কয়েকটি সংবাদমাধ্যম দাবি করেছে, পাকিস্তানের ন্যাশনাল কমান্ড অথরিটি (পরমাণু বোমার দায়িত্বপ্রাপ্ত সংস্থা) গত ১০ মে বৈঠকে বসেছিল। তারা এই দাবি খারিজ করে দিয়েছে। পাক বিদেশমন্ত্রীও পরমাণু হামলার কথা খারিজ করে দিয়েছেন।’ একইসঙ্গে ভারত পরমাণু যুদ্ধ নিয়ে কোনও ব্ল্যাকমেল সহ্য করবে না বলেও জানিয়েছেন রণধীর। তিনি অভিযোগ করেন, পাকিস্তান সন্ত্রাসবাদকে কার্যত শিল্পের পর্যায়ে নিয়ে গিয়েছে। অপারেশন সিন্দুরে যে সব জঙ্গিদের ঘাঁটি ভাঙা হয়েছে, তারা শুধু ভারতীয় নয়, সারা বিশ্বে নিরীহ মানুষদের মৃত্যুর জন্য দায়ী। ইসলামাবাদ জঙ্গিদের মদত দেওয়া বন্ধ না করলে সিন্ধু চুক্তি স্থগিত থাকবে বলে এদিন ফের একবার জানিয়ে দিয়েছে ভারত।
এদিকে, অপারেশন সিন্দুরের সাফল্য নিয়ে ৭০টি দেশের কূটনীতিকদের অবহিত করেছে ভারত। ভারতীয় সেনার ডিরেক্টর জেনারেল ডিফেন্স ইন্টেলিজেন্স এজেন্সি লেফটেন্যান্ট জেনারেল ডি এস রানা বিভিন্ন দেশের কূটনীতিকদের সামনে অপারেশন সিন্দুরের বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন। তিনি জানান, অপারেশন সিন্দুর ভারত-পাকিস্তানের মধ্যে সম্পর্কের ‘নিউ নর্মাল’ মাপকাঠি তৈরি করেছে। আধুনিক যুদ্ধাস্ত্র ব্যবহার করে ভারত নিজের সামরিক শ্রেষ্ঠত্ব, শক্তি ও সংকল্প দেখিয়ে দিয়েছে বলেও জানান সেনাকর্তা।