Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

অমিল পৃথক শৌচালয়-পানীয় জল, চরম দুর্ভোগ রঘুনাথগঞ্জের প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পড়ুয়াদের

রাজ্য সরকার নির্মল বিদ্যালয় অভিযান ও শিক্ষা ব্যবস্থার আধুনিকীকরণে জোর দিচ্ছে।

অমিল পৃথক শৌচালয়-পানীয় জল, চরম দুর্ভোগ রঘুনাথগঞ্জের প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পড়ুয়াদের
  • ১২ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

সংবাদদাতা, জঙ্গিপুর: রাজ্য সরকার নির্মল বিদ্যালয় অভিযান ও শিক্ষা ব্যবস্থার আধুনিকীকরণে জোর দিচ্ছে। অথচ রঘুনাথগঞ্জ চক্রের ৩৬ নম্বর এনায়েতনগর প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ছবিটা সম্পূর্ণ উল্টো। স্বাধীনতার পর কয়েক দশক পার হয়ে গেলেও এখনও এই স্কুলে ছাত্র ও ছাত্রীদের জন্য পৃথক শৌচালয় তৈরি হয়নি। এমনকি, স্কুলে পরিস্রুত পানীয় জলের ন্যূনতম ব্যবস্থাটুকুও নেই। স্কুল কর্তৃপক্ষের অভিযোগ, এব্যাপারে প্রশাসনের দরজায় বারংবার কড়া নেড়েও কোনো সুরাহা হয়নি। অভিভাবকরা স্কুলে শীঘ্রই শৌচালয় ও পানীয় জলের দাবি তুলেছেন। এব্যাপারে দ্রুত পদক্ষেপ গ্রহণ করতে বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নজরে আনার আশ্বাস দিয়েছেন প্রশাসনের কর্তারা।
রঘুনাথগঞ্জ-১ ব্লকের বিডিও সুবীর দাস বলেন, শৌচালয়ের বিষয়টি ইতিমধ্যেই সংশ্লিষ্ট দপ্তরে জানানো হয়েছে। তবে, পানীয় জলের বন্দোবস্ত শীঘ্রই করা হবে।

Advertisement


বিদ্যালয় সূত্রে জানা গিয়েছে, দীর্ঘদিন ধরেই পড়ুয়ারা একটিমাত্র শৌচালয় ব্যবহার করতে বাধ্য হচ্ছে। ছাত্র ও ছাত্রীদের জন্য আলাদা কোনো ব্যবস্থা নেই। এমনকি, একটি শৌচালয় শিক্ষক-শিক্ষিকা সহ ছাত্রছাত্রীরা সকলেই ব্যবহার করে থাকেন। ফলে সকলকেই চরম অস্বস্তিতে পড়তে হয়। বিশেষ করে ছাত্রীদের সমস্যার শেষ নেই। খুদে পড়ুয়াদের দীর্ঘক্ষণ শৌচালয়ের সামনে লাইনে দাঁড়িয়ে থাকতে হয়। শৌচালয় ছাড়াও বড়ো সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে পানীয় জল। স্কুলে পানীয় জলের স্থায়ী কোনো ব্যবস্থা নেই। ফলে বাধ্য হয়েই পড়ুয়াদের বাড়ি থেকে জল বয়ে আনতে হয়। কিংবা পার্শ্ববর্তী এলাকা থেকে জল নিয়ে আসতে হয়। গরমের দিনে এই সমস্যা আরও প্রকট আকার ধারণ করে। স্কুল কর্তৃপক্ষের দাবি, শিক্ষাদপ্তর এবং স্থানীয় প্রশাসনকে প্রায় বছর দু’য়েক আগেই লিখিতভাবে সমস্যার কথা জানানো হয়েছে। প্রতিবারই আশ্বাস মিলেছে। কিন্তু বাস্তবে পরিকাঠামোর উন্নয়নে কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। এলাকার এক অভিভাবক বলেন, সন্তানকে স্কুলে পাঠিয়েও সবসময় চিন্তায় থাকতে হয়। স্কুলে শৌচালয়, পানীয় জলের ব্যবস্থা কিছুই নেই। শিক্ষাদপ্তর সব জেনেও কেন চুপ করে আছে, বুঝতে পারছি না।স্কুলের প্রধান শিক্ষক মহম্মদ ওয়াসিউল মুল্ক বলেন, আমরা সাধ্যমতো চেষ্টা করছি পড়ুয়াদের উপযুক্ত পরিবেশ দিতে। কিন্তু পরিকাঠামোগত সমস্যার সমাধান আমাদের হাতে নেই। পৃথক শৌচালয় এবং পানীয় জলের ব্যবস্থার জন্য উপর মহলে বারবার আবেদন করেছি। দ্রুত ব্যবস্থা না নেওয়া হলে ছাত্রছাত্রীদের স্বাস্থ্যঝুঁকি বাড়বে। -নিজস্ব চিত্র

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ