নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: বিমান সেবিকার প্রশিক্ষণ নেওয়া তরুণীকে ধর্ষণের অভিযোগে গ্রেপ্তার হলেন আয়কর দপ্তরের এক অফিসার। রাজেশ কুমার মণ্ডল নামে ওই অফিসারকে বুধবার রাতে গ্রেপ্তার করেছে রিজেন্ট পার্ক থানা। অভিযুক্ত বাড়িতে তরুণীকে ডেকে পাঠিয়ে ধর্ষণ করে বলে অভিযোগ। তরুণীর মেডিকো লিগ্যাল পরীক্ষা করানো হয়েছে।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, বজবজের বাসিন্দা ওই তরুণী বেসরকারি সংস্থায় বিমান সেবিকার প্রশিক্ষণ নিচ্ছেন। বিয়ের জন্য মাস আটেক আগে তাঁর পরিবার ম্যাট্রিমোনিয়াল সাইটে বিজ্ঞাপন দেয়। সেটি দেখে যোগাযোগ করেন অভিযুক্ত অফিসার রাজেশ। তরুণীর পরিবার ওই তরুণের সঙ্গে কথা বলেন। এরপর দুজনের মধ্যে বেশ কয়েক দফায় কথাও হয়। আয়কর অফিসারের কথাবার্তা ভালো লাগায় তাঁকে পছন্দ হয় বজবজের তরুণীর। মোবাইল নম্বর আদানপ্রদানের পর দুজনের মধ্যে নিয়মিত কথাবার্তা ও মেসেজ আদানপ্রদান চলত। এরপর দুজনে দেখাও করেন। চলতি মাসের শুরুতে ওই অফিসার রিজেন্ট পার্ক থানা এলাকায় বিয়ে সংক্রান্ত বিষয় নিয়ে আলোচনা করবে বলে নিজের ফ্ল্যাটে ডেকে পাঠান তরুণীকে। তরুণী অভিযুক্তের কথায় বিশ্বাস করে সেখানে হাজির হন। অভিযোগ সেখানে যাওয়ার পর তিনি খেয়াল করেন অভিযুক্ত একাই রয়েছে। জোর করে তাঁর সঙ্গে ঘনিষ্ঠ হয় রাজেশ। তাঁকে ধর্ষণ করা হয় বলে অভিযোগ। বিষয়টি প্রকাশ্যে না আনার জন্য তরুণীকে জানান অফিসার। এরপর নির্যাতিতার সঙ্গে যোগাযোগ কমিয়ে দেন অভিযুক্ত। তরুণী বিয়ের কথা বললে, তিনি এড়িয়ে যেতে থাকেন। এরপর ফোন ধরাও বন্ধ করে দেন। প্রতারিত হয়েছেন বুঝেই তরুণী প্রথমে বজবজ থানায় অভিযোগ দায়ের করেন। কিন্তু বজবজ থানা খোঁজখবর করতে গিয়ে জানতে পারে, ঘটনাটি ঘটেছে রিজেন্ট পার্ক থানা এলাকায়। জিরো এফআইআর করে তারা পাঠিয়ে দেয় কলকাতা পুলিশের কাছে। ১৬ সেপ্টম্বর রিজেন্ট পার্ক থানা বিয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়ে সহবাস ও ধর্ষণ সহ একাধিক ধারায় ওই আয়কর অফিসারের বিরুদ্ধে কেস রুজু করে। তরুণীর মেডিকো লিগ্যাল করানো হয়। বাজেয়াপ্ত করা হয় পরনের জামাকাপড়। পুলিশ অভিযুক্তের সিমের সাবস্ক্রাইবার আইডি ঘেঁটে তাঁর ঠিকানা জানতে পারে। এরপর রিজেন্ট পার্ক এলাকা থেকে তাঁকে বুধবার গ্রেপ্তার করা হয়। বৃহস্পতিবার অভিযুক্তকে আলিপুর আদালতে তোলা হয়। অভিযুক্ত পক্ষের আইনজীবী শুভঙ্কর রাই বলেন, সবকিছু সম্মতিতে হয়েছে। বিয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়ে ধর্ষণের কোনও ঘটনা ঘটেনি। সরকারি আইনজীবী সাজ্জাদ আলি খান বলেন. অভিযুক্তের বিরুদ্ধে নির্দিষ্ট তথ্য প্রমাণ রয়েছে। লিখিত অভিযোগে তরুণী সমস্ত ঘটনার কথা জানিয়েছেন। এরপরই অভিযুক্তকে পুলিশি হেফাজতে পাঠায় আদালত। অন্যদিকে এক নাবালিকাকে যৌন নির্যাতনের অভিযোগে সমীর আলম নামে এক যুবককে বুধবার রাতে গ্রেপ্তার করেছে এন্টালি থানা। ওই নাবালিকাকে বিয়ে করে অভিযুক্ত। নির্যাতিতা গর্ভবতী হয়ে পড়েন। সন্তান প্রসবের জন্য হাসপাতালে গেলে বিষয়টি জানাজানি হয়। এরপরই অভিযোগ করা হয় পুলিশে। তার ভিত্তিতে সমীর গ্রেপ্তার হয়।