Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

কঙ্কালীতলার গর্ভগৃহেই উদ্দাম নেচে রিল, সেবায়েতদের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন

সতীপীঠ কঙ্কালীতলার গর্ভগৃহে উদ্দাম নাচ। সেই নাচের রিল সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্ট হতেই শুরু হয়েছে তীব্র সমালোচনা। ধর্মীয় স্থানে এই ধরনের কার্যকলাপকে ভক্ত ও পুণ্যার্থীরা প্রবল নিন্দা করেছেন।

কঙ্কালীতলার গর্ভগৃহেই উদ্দাম নেচে রিল, সেবায়েতদের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন
  • ২ জুলাই, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

সংবাদদাতা, বোলপুর: সতীপীঠ কঙ্কালীতলার গর্ভগৃহে উদ্দাম নাচ। সেই নাচের রিল সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্ট হতেই শুরু হয়েছে তীব্র সমালোচনা। ধর্মীয় স্থানে এই ধরনের কার্যকলাপকে ভক্ত ও পুণ্যার্থীরা প্রবল নিন্দা করেছেন। ইতিমধ্যেই রিল ভিডিওটি নিয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। ভিডিওতে দেখা গিয়েছে, মন্দিরের চারজন সেবাইতের সামনে এক ব্যক্তি উদ্দাম নাচ করলেও তাকে বারণ করা হয়নি। এর ফলে মন্দিরের সেবাইতদের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। এই নিয়ে সমালোচনা শুরু হতেই কঙ্কালী মায়ের গর্ভগৃহে ছবি ও ভিডিও তোলা নিষিদ্ধ করল শ্রীশ্রীকঙ্কালীমাতা ঠাকুরানি উন্নয়ন ট্রাস্ট। পাশাপাশি, ওই ব্যক্তির বিরুদ্ধে কড়া ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন ট্রাস্ট সম্পাদক নারায়ণ চৌধুরী।

Advertisement

জানা গিয়েছে, রিল ভিডিওটির পোস্টদাতা হীরু দাস, কাটোয়ার বাসিন্দা। সোশ্যাল মিডিয়ায় তাঁর পেজে তাঁকে বিভিন্ন জায়গায় নাচ করতে দেখা গিয়েছে। দিন চারেক আগে তিনি সতীপীঠ কঙ্কালীতলার গর্ভগৃহে নাচের ওই ভিডিওটি পোস্ট করেন। সেখানে তিনি দাবি করেন, অনুমতি নিয়েই ভিডিওটি করা হয়েছে। পোস্ট করার সঙ্গে সঙ্গে সেই ভিডিওটি বিদ্যুৎগতিতে ভাইরাল হয়ে যায়। অভিনেতা মিঠুন চক্রবর্তীর ‘অন্ধ বিচার’ সিনেমার ‘ভুলিনি মা দূরে থেকে তোমায় দেখেছি’ গানে নাচটি করা হয়েছে। ১৯ সেকেন্ডের ওই ভিডিওটি ইতিমধ্যেই প্রায় ১০ লক্ষ (এক মিলিয়ন) মানুষ দেখেছে। ৩৮ হাজার মানুষ তাতে রিঅ্যাকশন দিয়েছে। দেড় হাজার মানুষ তাতে মন্তব্য করেছে। অধিকাংশ মন্তব্যেই কটুক্তি ছুড়ে দেওয়া হয়েছে। কঙ্কালী মন্দিরের ফেসবুক পেজ থেকে পোস্টদাতা হীরু দাসকে উদ্দেশ্য করে হুঁশিয়ারিও দেওয়া হয়েছে। পেজ অ্যাডমিন লেখেন, হিন্দু ছেলে হয়ে দু’পয়সার জন্য মন্দিরে উঠে তিড়িং বিড়িং করে লাফাচ্ছেন।‌ এটা করতে আপনার লজ্জা লাগল না? এটা ঠিক হয়নি। তাড়াতাড়ি ভিডিওটি ডিলিট করুন। না হলে, আপনার বিরুদ্ধে আমরা আইনানুগ ব্যবস্থা নেব। কিন্তু, হীরুবাবু নির্বিকার। তারপরেও অন্যান্য নাচের ভিডিও পোস্ট করেছেন। তবে বিতর্কিত ভিডিওতে তিনি কোনও প্রতিক্রিয়া দেননি। আর তাতেই বিরক্ত প্রকাশ করেছে মন্দির ট্রাস্ট। ভবিষ্যতে এই ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে গর্ভগৃহে ছবি ও ভিডিও করা নিষিদ্ধ করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন মন্দিরের সেবাইত অর্ক চৌধুরী।
ট্রাস্টের সম্পাদক নারায়ণ চৌধুরী বলেন, এরকম অশ্লীল নাচের ক্ষেত্রে উনি কোনও অনুমতি নেননি। তাই ওঁকে ফোন করে ভিডিওটি ডিলিট করতে বলা হয়েছে। অন্যথায় শান্তিনিকেতন থানায় ওই ব্যক্তির বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তবে পরবর্তীকালে এই ধরনের ঘটনা যাতে না ঘটে, তারজন্য বিজ্ঞপ্তি জারি করে ছবি ও ভিডিও তোলা নিষিদ্ধ করা হয়েছে। যদিও প্রতিবেদন লেখার সময় পর্যন্ত পোস্টদাতা হীরু দাস ওই ভিডিও ডিলিট করেননি।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ