ভালোবাসার আর এক নাম
১৯২৭ সালে আমাদের স্কুলের যাত্রা শুরু। এবার ৩ জানুয়ারি শুরু হবে শতবর্ষ উদ্যাপন। গত একশো বছর ধরে গৌরবের সঙ্গে এগিয়ে চলেছে বালিগঞ্জ গভর্নমেন্ট হাই স্কুল। এই ঐতিহাসিক মুহূর্তের সাক্ষী থাকতে পারব ভেবেই সারা শরীরে কেমন একটা শিহরন হচ্ছে। স্কুলের শতবর্ষে আমরা মাধ্যমিকের ব্যাচ। এই গৌরবকে পাথেয় করে ভবিষ্যতের পথে এগিয়ে যেতে পারব। বালিগঞ্জ সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় আমার কাছে ভালোবাসার আর এক নাম। আবেগের আর এক নাম। প্রথম যখন এই স্কুলে ভর্তি হই, তখন আমি প্রাক-প্রাথমিকের ছাত্র। দেখতে দেখতে কেটে গেল ১১ বছর। জীবনের প্রথম সবচেয়ে বড় পরীক্ষার মুখোমুখি। এখানকার শিক্ষক মহাশয়দের কাছ থেকে যে শিক্ষা ও ভালোবাসা পেয়েছি, তা সারা জীবন মনের মণিকোঠায় থেকে যাবে।
—ঈশান দাস, দশম শ্রেণি
সুপ্ত বীজের অঙ্কুরোদ্গম
আমরা ছিলাম সুপ্ত বীজের মতো। এখানকার শিক্ষক-শিক্ষিকারা শিক্ষা ও অফুরন্ত স্নেহ-ভালোবাসা দিয়ে আমাদের অঙ্কুরোদ্গম ঘটালেন। যাতে আমরা ভবিষ্যতের মহীরুহ হতে পারি। শুধু পুঁথিগত শিক্ষাই নয়, এখানকার ছাত্রদের দেওয়া হয় মানবিক শিক্ষাও। অন্যায় করলে যেমন জোটে বকুনি, তেমনই সামান্য ভালো কাজের জন্য পাওয়া যায় অঢেল প্রশংসা। এই স্কুল যেন ইট-কাঠ-পাথরের ইমারত নয়, এখানে প্রতিনিয়ত অনুভূত হয় প্রাণের স্পন্দন। শুধু একশো বছর নয়, আগামী সহস্র বছর এই শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এভাবেই গর্বের সঙ্গে এগিয়ে চলুক, এই কামনা করি।
—অরণ্য সরকার, নবম শ্রেণি
বালিগঞ্জ গভর্নমেন্ট হাই স্কুল
১৯২৭ সালের ৩ জানুয়ারি প্রতিষ্ঠিত হয় বালিগঞ্জ সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়। আগামী শনিবার এই গৌরবময় শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শতবর্ষ উদ্যাপন শুরু হচ্ছে। বিদ্যালয়ে ভর্তি হওয়া প্রথম ছাত্র ছিলেন ভবানীপুরের বাসিন্দা অমিত ঘোষ। শতবর্ষ প্রাচীন এই স্কুল বহু প্রতিথযশা ও কিংবদন্তির আঁতুড়ঘর। এই স্কুলের সেইসব প্রথিতযশা প্রাক্তনী বিশ্বখ্যাত হয়েছেন। আজও সেই ধারা অব্যাহত।
আগামী ৩ জানুয়ারি স্কুলের ছাত্র, শিক্ষক-শিক্ষাকর্মী, প্রাক্তনীদের নিয়ে জাঁকজমকপূর্ণ প্রভাতফেরির মাধ্যমে শতবর্ষের অনুষ্ঠানের সূচনা হবে। শতবর্ষ ঘিরে সারা বছরব্যাপী প্রাক্তনীদের সঙ্গে নিয়ে নানান কর্মসূচি আয়োজন করা হবে। রয়েছে সেমিনার, সাংস্কৃতিক ও ক্রীড়া প্রতিযোগিতা। সরস্বতী পুজো উপলক্ষ্যে রয়েছে বিজ্ঞান ও চিত্র প্রদর্শনী।
২০২৭ সালের ২ জানুয়ারি সমাপন অনুষ্ঠানের মাধ্যমে শতবর্ষ উদ্যাপনের সমাপ্তি ঘটবে। এই ঐতিহাসিক মাইল ফলক ছুঁতে পেরে আমরা অভিভূত।
—রণজিৎ গরাং,
ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক
আলোকচ্ছটায় উদ্ভাসিত
আমরা নবম শ্রেণির দ্বারপ্রান্তে। আর আগামী ৩ জানুয়ারি আমাদের স্কুলে প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী। শতবর্ষের আলোকচ্ছটায় আমরা হব উদ্ভাসিত। কলকাতা শহরের এমন এক নামী স্কুলে পড়াশোনার সুযোগ পেয়ে আমি ধন্য। প্রথম যখন স্কুলে ভর্তি হই, তখন মনের মধ্যে দুরু দুরু ভাব ছিল। কিন্তু সময়ের সঙ্গে সঙ্গে সেই ভয়, জড়তা সব কেটে গিয়েছে। শিক্ষক-শিক্ষিকাদের স্নেহ-ভালোবাসার জন্যই এটা সম্ভব হয়েছে।
—অনীশ বিশ্বাস, অষ্টম শ্রেণি
স্কুলই মানুষ গড়ে
শিক্ষা প্রতিষ্ঠান মানুষ গড়ে। আর শিক্ষক-শিক্ষিকারা হলেন মানুষ গড়ার কারিগর। মানুষের জীবনে স্কুলের প্রভাব অনেকখানি। আমরাও তার ব্যতিক্রম নই। সাত বছর আগে আমি এই স্কুলে ভর্তি হই। স্কুলের মাঠটা দেখে ভালো লেগে যায়। আমার সহপাঠীরা খুবই ভালো। এখানকার শিক্ষক-শিক্ষিকারাও যত্ন নিয়ে পড়ান। এখানে ভর্তি হওয়ার বছর দুয়েকের মধ্যে কোভিডের জন্য লকডাউন শুরু হয়। স্কুলটাকে এত ভালোবেসে ফেলেছিলাম, তখন খালি মনে হতো কবে আবার স্কুল খুলবে। বাড়িতে বসে হাঁফিয়ে গিয়েছিলাম। করোনা মহামারী বিদায় নিল। আবার সব কিছু ‘নর্মাল’ হয়ে গেল। আবার আমরা আগের মতো স্কুল করছি, আনন্দ করছি। আমি চাই, আমার স্কুল এভাবেই সুনামের সঙ্গে এগিয়ে চলুক।
—কিষাণ রায়, নবম শ্রেণি
নতুন ক্লাস, নতুন বন্ধু
বার্ষিক পরীক্ষা হয়ে গিয়েছে। এখন শুধু ফলের অপেক্ষা। নতুন বছরে আমরা নতুন ক্লাসে উঠে যাব। নতুন ক্লাস মানেই নতুন সেকশন আর নতুন বন্ধু। নতুন বন্ধু বলতে প্রায় সকলেই পরিচিত। হয়তো আগে কোনও ক্লাসে একই সেকশনে পড়েছি। এরই মধ্যে স্কুলের শতবর্ষের অনুষ্ঠান। একেবারে সাজ সাজ ব্যাপার-স্যাপার। ক্লাস শুরু হয়ে গেলে পড়াশোনার পাশাপাশি খেলাধুলো, আনন্দ, হইহই শুরু হয়ে যাবে।
—স্নেহজিৎ দাস,
অষ্টম শ্রেণি
মানুষের মতো, মানুষ হওয়া
এখানকার শিক্ষকদের কাছ থেকেই পেয়েছি মানুষ হওয়ার শিক্ষা। তাঁরা আমাদের শিখিয়েছেন, মানব ধর্মই আসল। আমাদের মানুষের মতো মানুষ হতে হবে। লেখাপড়ায় ফাঁকি দিলে চলবে না। চেষ্টা করতে হবে। তারপর নিজের মেধা অনুযায়ী ফল পাওয়া যাবে। ছাত্রজীবনই হল আমাদের ভবিষ্যতের ভিত্তি। তাই ভিত কোনওভাবে নড়বড়ে হয়ে গেলে ইমারত গড়ে তোলা সম্ভব নয়। আমার সৌভাগ্য যে, এমন সব মহান শিক্ষক-শিক্ষিকার সান্নিধ্য পেয়েছি।
—অভিরণ মণ্ডল,
অষ্টম শ্রেণি
আমার দ্বিতীয় বাড়ি
স্কুল যে আমার দ্বিতীয় বাড়ি, এ বিষয়ে কোনও সংশয় নেই। স্মৃতির পাতা ওল্টালে মনে হয়, এই তো সেদিন বাবা-মায়ের হাত ধরে প্রথম স্কুলে এলাম! মায়ের কাছে শুনি প্রথম দিন নাকি একটু-আধটু কান্নাকাটিও করেছিলাম। সে এগারো বছর আগের কথা। বয়স বেড়েছে, ক্লাস উঁচু হয়েছে তবে, টিফিনের ঘণ্টা বাজলে সেই আগের মতোই আনন্দ পাই। মনে হয় যেন সেই ছোটই আছি। পড়াশোনা, বন্ধুদের সঙ্গে আড্ডা-খেলাধুলো— স্কুল জীবন স্মরণীয় হয়ে থাকবে। শৃঙ্খলা ও মূল্যবোধের শিক্ষাও এখান থেকে পেয়েছি। শতবর্ষের দ্বার প্রান্তে দাঁড়িয়ে আমি গর্বিত যে, আমরা এই স্কুলের ছাত্র।
—ত্রিদিব মণ্ডল, দশম শ্রেণি