Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

রবিনসন স্ট্রিটের ছায়া সামশেরগঞ্জে, ঘরে মায়ের দেহ আগলে রাখল ছেলে

রবিনসন স্ট্রিটের ছায়া সামশেরগঞ্জেও। ষাটোর্ধ্ব বৃদ্ধা মায়ের মৃতদেহ তিনদিন ধরে বাড়িতেই আগলে বসেছিলেন ছেলে।

রবিনসন স্ট্রিটের ছায়া সামশেরগঞ্জে, ঘরে মায়ের দেহ আগলে রাখল ছেলে
  • ৭ আগস্ট, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

সংবাদদাতা, জঙ্গিপুর: রবিনসন স্ট্রিটের ছায়া সামশেরগঞ্জেও। ষাটোর্ধ্ব বৃদ্ধা মায়ের মৃতদেহ তিনদিন ধরে বাড়িতেই আগলে বসেছিলেন ছেলে। বুধবার সকালে ঘর থেকে প্রচণ্ড দুর্গন্ধ ছড়িয়ে পড়ায় সন্দেহ হয় এলাকাবাসীর। বিষয়টি জানাজানি হতে তীব্র চাঞ্চল্য ছড়ায়। মৃতার নাম বাসন্তী সাহা (৬১)। তাঁর বাড়ি সামশেরগঞ্জ থানার নিমতিতা পঞ্চায়েতের দুর্গাপুর গ্রামে। পুলিস মৃতদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য জঙ্গিপুর মহকুমা হাসপাতালের মর্গে পাঠিয়েছে। পুলিস সূত্রে জানা গিয়েছে, প্রাথমিক তদন্তে বাসন্তীদেবীর মৃত্যুর নেপথ্যে কোনও অসঙ্গতি পাওয়া যায়নি। মৃতার ছেলে সুজয় সাহাকে পুলিস আটক করে। পরে তার চিকিৎসার বন্দোবস্ত করা হয়। মা ও ছেলে উভয়েই মানসিক ভারসাম্যহীন ছিলেন বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে।

Advertisement

এ প্রসঙ্গে সামশেরগঞ্জ থানার পুলিস জানিয়েছে, মা ও ছেলে উভয়েই বদ্ধ উন্মাদ। দেহে পচন ধরেছিল, ফলে কীভাবে মৃত্যু হয়েছে বলা সম্ভব নয়। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট হাতে এলে তবেই মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানা যাবে।
সামশেরগঞ্জের দুর্গাপুর গ্রামে কর্মকার পাড়ায় একতলা বাড়িতে থাকতেন ৬১ বছরের বৃদ্ধা বাসন্তী সাহা। তাঁর বছর ত্রিশের ছোট ছেলে সুজয় তাঁর সঙ্গেই থাকতেন। স্থানীয় বাসিন্দাদের কথায়, বাসন্তী দেবী ও তাঁর ছেলে কিছুদিন ধরে মানসিক ভারসাম্যহীনতায় ভুগছিলেন। সুজয় আত্মীয় পরিজন থেকে পাড়াপড়শিকে দেখলেই ইট পাটকেল ও হাতের কাছে যা পেতেন তাই ছুড়ে মারতেন। দিন কয়েক আগে ঘরের দরজায় জোরে জোরে আঘাত করছিলেন সুজয়। গত শনিবার তাঁদের কথাবার্তা শুনতে পান এলাকাবাসী। তারপর তাদের আর কোনও সাড়াশব্দ পাওয়া যায়নি। এদিন ঘর থেকে দুর্গন্ধ ছড়ালে দরজা ভেঙে দেখা যায় পচাগলা মৃতদেহ আগলে বসে রয়েছেন ছেলে। এরপর স্থানীয় বাসিন্দারা খবর দেন থানায়। ঘটনাস্থলে আসে সামশেরগঞ্জ থানার পুলিস। ঘরের দরজা ভেঙে ঢুকে পুলিস দেখে, মেঝেতেই মহিলার পচাগলা মৃতদেহ পড়ে রয়েছে। 
সুজয় মেধাবী ছিলেন বলে প্রতিবেশীরা জানিয়েছেন। বছর চারেক আগে যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ফিজিক্যাল এডুকেশন বিভাগে মাস্টার্স করেন। এছাড়াও বিএসএফ নিয়োগ প্রক্রিয়ায় প্যানেল হওয়ার পর দু’ বার বাতিল হন। বছর দু›য়েক আগে তিনি মানসিক ভারসাম্য হারান। বহরমপুরে মানসিক হোমে তাঁকে রাখাও হয়েছিল। কিছুটা সুস্থ হয়ে উঠলে তাঁকে বাড়িতে আনা হয়। তবে ফের অসুস্থ হয়ে পড়েন সুজয়। সম্প্রতি তাঁর অত্যাচারে অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছিলেন পাড়া প্রতিবেশী। 
বৃদ্ধার স্বামীর বছর পাঁচেক আগে রোগে ভুগে মারা যান। ভাইয়ের অত্যাচারে অতিষ্ঠ হয়ে বাড়ি ছেড়ে জঙ্গিপুরে ভাড়াবাড়িতে থাকেন মৃতার বড় ছেলে শুভেন্দু সাহা। -নিজস্ব চিত্র

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ