Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

বর্তমানের খবরের জের, দুঃস্থ শিল্পী সঞ্জিতাকে ডেকে পাঠাল শিল্পদপ্তর

বর্তমানের খবরের জেরে দুঃস্থ হস্তশিল্পী সঞ্জিতাকে ডেকে পাঠাল শিল্পদপ্তর।

বর্তমানের খবরের জের, দুঃস্থ শিল্পী সঞ্জিতাকে ডেকে পাঠাল শিল্পদপ্তর
  • ৮ এপ্রিল, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

সংবাদদাতা, গঙ্গারামপুর: বর্তমানের খবরের জেরে দুঃস্থ হস্তশিল্পী সঞ্জিতাকে ডেকে পাঠাল শিল্পদপ্তর। কুশমণ্ডির প্রত্যন্ত গ্রাম ঊষাহরণের মহিষবাথানের শিল্পী সঞ্জিতা সরকার পাট ও কটন মিশিয়ে কার্পেট, ব্যাগ সহ ঘর সাজানোর নানা জিনিস তৈরি করেন। শুধু দেশ নয়, দেশের বাইরেও সঞ্জিতার হাতের কাজ প্রশংসিত হয়েছে। ভিনদেশে যাচ্ছে তাঁর হাতে তৈরি করা জিনিস।

Advertisement

গত শনিবার সুদূর লন্ডন থেকে অ্যাগনেস নামে এক মহিলা সঞ্জিতার বাড়ি এসে কার্পের্টের অর্ডার দিয়েছেন। তাঁর কাজের প্রশংসা করে একটি সাইড ব্যাগও কিনে নিয়েছেন। রাজবংশী সম্প্রদায়ের এই শিল্পীর তৈরি জিনিস ভিয়েতনামেও পাঠানো হয়েছে। 
দেশবিদেশে তাঁর হাতের শিল্পকর্ম পাড়ি দিলেও শিল্পী সঞ্জিতার অবস্থা করুণ।  অর্থের অভাবে সেলাই মেশিন কিনতে পারছেন না তিনি। সোমবার ‘বর্তমান’ পত্রিকায় সেই খবর প্রকাশিত হতেই নড়েচড়ে বসল জেলা প্রশাসন। জেলা শিল্প দপ্তর কুশমণ্ডির এই শিল্পীর খোঁজখবর নিতে শুরু করেছে।
এই শিল্পীকে সরকারি সাহায্য তুলে দিতে জেলায় জরুরি তলব করা হয়েছে শিল্প দপ্তরের তরফে। জেলা শিল্প দপ্তরে ডাক পেয়ে অর্থনৈতিকভাবে পিছিয়ে পড়া এই শিল্পী মঙ্গলবার জেলা শিল্প দপ্তরে যাবেন। জেলা শিল্প দপ্তরের জেনারেল ম্যানেজার স্বপন প্রামাণিক বলেন, ‘বর্তমান’ পত্রিকায় খবর প্রকাশিত হওয়ার পর আমরা শিল্পীর সঙ্গে যোগাযোগ করি। শিল্পী মঙ্গলবার দপ্তরে আসবেন। তাঁকে প্রয়োজনীয় কিছু নথি আনতে বলা হয়েছে। আমরা দেখব, কীভাবে তাঁর পাশে দাঁড়ানো যায়। আর্থিক সাহায্য ও ভবিষৎ ক্রেডিট কার্ড করে দেওয়ার চেষ্টা চলছে। 
কুশমণ্ডি ব্লক প্রশাসনও শিল্পী সঞ্জিতার পাশে দাঁড়াতে উদ্যোগী হয়েছে। শিল্পীকে দপ্তরে ডেকে প্রয়োজনীয় সাহায্যের আশ্বাস দিয়েছেন বিডিও নয়না দে। সঞ্জিতার মাধ্যমে ব্লকের মহিলাদেরও স্বনির্ভর করা যায় কিনা, সেটাও দেখছে প্রশাসন।
বিডিও বলেন, পঞ্চায়েত সমিতির তরফ থেকে শিল্পীকে একটি মেশিন দিয়ে সাহায্য করা হবে। আমরা জেলা প্রশাসনের কাছে আবেদন জানাব, যাতে সঞ্জিতাকে নিয়ে একটি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র চালু করা যায়।
শিল্পী সঞ্জিতা বলেন, জেলা শিল্পদপ্তর থেকে আমাকে ডেকে পাঠিয়েছে। সরকারি সাহায্য পাওয়া যায় কিনা তা নিয়ে আধিকারিকদের সঙ্গে কথা বলে দেখব। আর্থিক সাহায্য পেলে আরও কাজ করা যাবে। ব্লক প্রশাসন প্রশিক্ষণ কেন্দ্র খুললে আমি মহিলাদের এই কাজ শেখাতে প্রস্তুত।   কার্পেট বুনছেন সঞ্জিতা। - নিজস্ব চিত্র।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ