


শিবাজী চক্রবর্তী, কলকাতা: সদ্য রিলিজ হয়েছে ‘ডন’। লোকের মুখে মুখে ঘুরছে সংলাপ। আর ঠোঁটে, ‘ইয়ে মেরা দিল পেয়ারকা দিওয়ানা...।’ তেমনই এক বিকেলে কুপারেজের কাঠের গ্যালারিতে আশা ভোঁসলেকে আবিষ্কার করে বিস্মিত বাণিজ্যনগরী। তবে পুরো খেলা দেখা হয়নি। ভক্তদের হুড়োহুড়িতে বিরতিতেই মাঠ ছাড়তে বাধ্য হন কিন্নরকণ্ঠী আশা। রোভার্স কাপ খেলতে মোহন বাগান তখন মুম্বইয়ে। কিংবদন্তিকে ম্যাচ দেখার আমন্ত্রণ জানিয়েছিলেন সুব্রত ভট্টাচার্য। মাঠে এসেওছিলেন তিনি। রবিবার আশা ভোঁসলের প্রয়াণে সুব্রতর স্মৃতিচারণ, ‘একবারের অনুরোধেই মাঠে আসতে রাজি হয়েছিলেন। পুরানো কত কথাই মনে পড়ছে। আশাজি এবার শন্তিতে বিশ্রাম নিন।’
আসলে রোভার্স কাপ ঘিরে তখন উত্তাল বাণিজ্যনগরী। ইস্ট বেঙ্গলের ম্যাচ মানেই পানের ডিবে হাতে শচীনকত্তার উপস্থিতি মাস্ট। আরডি বর্মনও পাঁড় ইস্ট বেঙ্গল সমর্থক। দিলীপ কুমারেরও দেখা মিলত অহরহ। সেই সোনালি অতীত এখন স্রেফ গল্পকথা। আশার প্রয়াণে কোথাও যেন গলার কাছে দলা পাকাচ্ছে কান্না। প্রশান্ত ব্যানার্জি সেবার মহমেডানে। গানের রেকর্ডিং দেখার আমন্ত্রণে কয়েকজন সতীর্থকে সঙ্গী করে স্টুডিওয় হাজির তিনি। বাকিটা গল্পের মতো। গায়ক ভূপিন্দার সিংয়ের সঙ্গে আড্ডা দিচ্ছেলেন আরডি। গল্পের বাকিটুকু প্রশান্তর মুখেই শোনা যাক। বললেন, ‘ভূপিন্দারকে মজা করে জেসিটি নামে ডাকছিলেন আরডি। পাঞ্জাবের জেসিটি তখন ফুটবল ময়দানের প্রবল প্রতিপক্ষ। যাই হোক, এমন সময়ে আশাজির প্রবেশ।’ তারপর? প্রশান্তর অনুরোধে খালি গলায় আশা গেয়ে ওঠেন, ‘যেতে দাও আমায় ডেকো না। কবে কি আমি বলেছি মনে রেখো না...।’
মনখারাপের স্মৃতিচারণায় উলটে চলেছে একের পর এক ডায়েরির পাতা। ১৬, অক্রুর দত্ত লেনের বাড়িতে থাকতেন মোহন বাগান সদস্য অলোক ঘোষ। তাঁদের পারিবারিক বন্ধু ভি বালসারা। কলকাতায় অনুষ্ঠানে এসে এক বিকেলে বালসারাকে প্রণাম করতে হাজির লতা ও আশা। সেদিন ছিল সরস্বতী পুজো। তবে মাতৃ প্রতিমার সামনে ছবি তোলার অনুরোধ সবিনয়ে প্রত্যাখান করেন তাঁরা। জানান, বাগদেবীর সঙ্গে এক ফ্রেমে বন্দি হওয়ার মতো ধৃষ্টতা তাঁদের নেই। তবুও মনের মণিকোঠায় সেই মুহূর্ত আজও আগলে রেখেছেন ৮১ বছরের মোহন বাগানী। আবার ইস্ট বেঙ্গলের আমন্ত্রণে ১৯৭৭-এ নেতাজি ইন্ডোর স্টেডিয়ামে আরডি’র সঙ্গে উপস্থিত হয়েছিলেন আশা। পরবর্তীকালে তারকা ক্রিকেটার ব্রেট লি’র সঙ্গে জুটিতে বানিয়েছিলেন মিউজিক অ্যালবাম। রবিবারের পর খেলার দুনিয়াও আশাহত। কিংবদন্তির প্রয়াণে ময়দানের অদৃশ্য কলারটিউনে বেজে চলেছে— চোখে নামে বৃষ্টি, মনে ওঠে ঝড় যে...।