চতুষ্পর্ণীর জন্য পুজোর ফ্যাশন শ্যুটে এসে আড্ডা দিলেন অভিনেত্রী সুস্মিতা চট্টোপাধ্যায়। সাজগোজ নিয়ে দিলেন টিপস।
চতুষ্পর্ণীর জন্য পুজোর ফ্যাশন শ্যুটে এসে আড্ডা দিলেন অভিনেত্রী সুস্মিতা চট্টোপাধ্যায়। সাজগোজ নিয়ে দিলেন টিপস।
দুর্গাপুজোর জন্য ফ্যাশন শ্যুট করা হবে শুনে এককথায় রাজি হয়ে গেলেন অভিনেত্রী
সুস্মিতা চট্টোপাধ্যায়। তাঁর জন্য দুটো ভিন্ন লুক ভাবা হয়েছিল। প্রথমটি ছিল, তসরের মধ্যে জামদানি কাজের শাড়ি আর দ্বিতীয়টি মসলিন শাড়িতে জামদানি কাজ। বলে রাখা ভালো এই দু’ধরনের শাড়িই এবার পুজোর বাজারে দারুণ জনপ্রিয় হয়েছে। সপ্তমীর সকালে বন্ধুদের সঙ্গে আড্ডা হবে নিশ্চয়ই। আড্ডায় চাই আরামদায়ক শাড়ি। সেই কথা ভেবে ভায়োলেট তসর জামদানির সঙ্গে ম্যাচ করা তুঁতে রঙের স্লিভলেস ব্লাউজ বেছে নিলেন ‘প্রেম-টেম’-এর অভিনেত্রী। সঙ্গে গলায় পরলেন ভারী অক্সিডাইজড নেকপিস, কানে ঝুমকো। হাতে একগাদা সরু অক্সিডাইজড চুড়ির সঙ্গে সামনে গোল্ড-সিলভার টিন্টে একটা বড় চুড়ি। এর সঙ্গে খোলা চুল আর হালকা লিপস্টিকে অনন্য সুস্মিতা।
পরের লুকটি পুজোর মধ্যে অষ্টমীর দিনের কথা মনে রেখে করা হয়েছে। ঐতিহ্যবাহী এমন সাজেই সেজে ওঠেন বাংলার অসংখ্য নারী। সুস্মিতার জন্য রাখা ছিল খুব সরু লাল পাড়ের সাদা মসলিন জামদানি (ছবি দুইয়ের পাতায়)। তার মধ্যে কপার জরি ও সাদা সুতোয় মেশানো জামদানি কাজ। এই সাবেকি সাজে সুস্মিতার সঙ্গী ম্যাচিং সিল্কের লাল ব্লাউজ। অলঙ্কারে সাদার সঙ্গে সঙ্গত করে আনা হল পার্ল চোকার। তাতে রুবি রঙা বিডস ও গোল্ডেন নকশা। কানে ওইরকমই দুল। হাতে একগোছা মুক্তো বসানো গোল্ডেন বর্ডার দেওয়া চুড়ি। মাথায় সুন্দর করে খোঁপা করে দেওয়া হল জুঁই ফুলের মালা। কপালে একটা ছোট্ট লাল টিপ। চড়া সাজ ব্যালান্স করতে ঠোঁটে খুব হালকা লিপস্টিক। ব্যস অষ্টমীর সকালের অঞ্জলি দেওয়ার জন্য রেডি সুস্মিতা।
> প্রথম পাতার পর
এই ফ্যাশন শ্যুটের ফাঁকেই আমরা সেরে নিলাম পুজোর আড্ডাও।
পুজো প্ল্যান কীরকম?
পুজোতে প্রত্যেকবারই প্ল্যান থাকে প্যান্ডেল হপিং করার। কারণ আমার ঠাকুর দেখতে খুব ভালো লাগে। সারা রাত ঘুরে ঘুরে ঠাকুর দেখতে চাই। খাবার খেতেও খুব ভালো লাগে। নতুন জামা পরতেও খুব ভালো লাগে। বন্ধুদের সঙ্গে আড্ডা দিতেও দারুণ লাগে। তাই এবারও সেটাই আমার প্ল্যান। বন্ধুদের সঙ্গে ঘুরব প্যান্ডেলে প্যান্ডেলে, অনেক খাবারদাবার খাব, চুটিয়ে আড্ডা দেব।
পুজোর নতুন পোশাক বলতে ওয়ার্ডরোবে কী কী জুড়ছে?
আমি পুজোতে শাড়ি পরতেই ভালোবাসি। ষষ্ঠীর সন্ধে থেকে শুরু করে মানে ঠাকুর দেখা শুরু হলেই আমারও শাড়ি পরার শুরু। শাড়ি পরতে এমনিও দারুণ লাগে। অষ্টমীর সকালে অঞ্জলির জন্য তো শাড়ি মাস্ট। নবমী পার্টি নাইট হলেও আমি সেখানেও শাড়ি পরেই যাই। দশমীর বিসর্জনের সময়েও শাড়িতেই সাজি। এবার কোনওদিন হয়তো এথনিক ধরনে সাজলাম, শাড়িতে স্টাইলিং সেইভাবে করলাম। কোনওদিন আবার একটু ওয়েস্টার্ন কায়দায় শাড়ি পরলাম। সব মিলিয়ে শাড়িই আমার ওয়ার্ডরোবে থাকবে। পুজোয়
প্রতিদিনই শাড়ি।
কতগুলো শাড়ি হল?
নিজে একটাও এখনও কিনিনি। সব উপহার পাচ্ছি। তাও চার পাঁচটা তো হয়েই গেল।
‘চতুষ্পর্ণী’-র পাঠকদের জন্য সাজগোজের টিপস? যাতে সবার থেকে আলাদা হয়ে নজর কাড়া যায়?
দেখুন সবার চেয়ে সবাই তো এমনিতেই আলাদা। কারণ আমরা সবাই আলাদারকম দেখতে। সবাই সুন্দর দেখতে। আমার মনে হয় যেহেতু এখানে গরম খুব বেশি, সেহেতু কটনের শাড়ি পরলেই ভালো হয়। সঙ্গে থাকুক হালকা মেকআপ। একটু কাজল বা আইলাইনার। ন্যুড কালারের লিপস্টিক বা একটু লিপ বাম। তার সঙ্গে ব্লাশ অন আর মাস্কারা। ছোট্ট একটা টিপ। আর হেয়ার স্টাইলিংয়ে খুব গরম লাগলে বান করে নিতে পারেন। তা নাহলে খোলাও রাখা যায় আউট কার্লস করে। বিচ ওয়েভস করা যায়, কিংবা পনিটেল। কেউ চাইলে একটু উঁচু করে খোঁপা করে তাতে ফুল দিতে পারেন। যেমন এই সাদা, সরু লাল পাড় মসলিন শাড়ির সঙ্গে আমি দিয়েছি। একদম সাবেকি সাজ। আর একটা কথা, প্যান্ডেলে ঘুরতে গেলে কিন্তু ফ্ল্যাট চটিই পরুন। হিল একদম নয়। নয়তো পা ব্যথায় ঠাকুর দেখাটাই মাটি হয়ে যাবে।
বিশেষ বন্ধুর সঙ্গে ঠাকুর দেখা হবে?
পুজোর সময় সবার সঙ্গেই ঘুরব! প্রথমে তো আমার পুজো পরিক্রমা আছে। সেখানে তো যাবই। এছাড়া আমার অনেকের সঙ্গে ঘোরার প্ল্যান আছে। এখনও অবধি জানি না কার সঙ্গে কোথায় যাব। কিন্তু দেখা সবার সঙ্গেই করব।
অন্বেষা দত্ত