Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

জেলার ১৮৫ পঞ্চায়েতের ১১১টিতে একটি বাড়িও সম্পূর্ণভাবে তৈরি হয়নি, গতি আনতে ‘বাড়ি সম্পূর্ণকরণ সপ্তাহ’ পালনের উদ্যোগ

নদীয়া জেলায় গ্রাম পঞ্চায়েতের সংখ্যা ১৮৫টি। যার মধ্যে ১১১টি গ্রাম পঞ্চায়েতেই এখনও পর্যন্ত একটি বাড়িও সম্পূর্ণভাবে তৈরি হয়নি। বাংলার বাড়ি প্রকল্পের এই রিপোর্ট সামনে আসতেই জেলা প্রশাসনের অন্দরে ব্যাপক শোরগোল পড়েছে।

জেলার ১৮৫ পঞ্চায়েতের ১১১টিতে একটি বাড়িও সম্পূর্ণভাবে তৈরি হয়নি, গতি আনতে ‘বাড়ি সম্পূর্ণকরণ সপ্তাহ’ পালনের উদ্যোগ
  • ১০ জুলাই, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, কৃষ্ণনগর: নদীয়া জেলায় গ্রাম পঞ্চায়েতের সংখ্যা ১৮৫টি। যার মধ্যে ১১১টি গ্রাম পঞ্চায়েতেই এখনও পর্যন্ত একটি বাড়িও সম্পূর্ণভাবে তৈরি হয়নি। বাংলার বাড়ি প্রকল্পের এই রিপোর্ট সামনে আসতেই জেলা প্রশাসনের অন্দরে ব্যাপক শোরগোল পড়েছে। কারণ আগামী কয়েক মাসের মধ্যেই উপভোক্তাদের অ্যাকাউন্টে দ্বিতীয় দফার টাকা ঢোকার প্রক্রিয়া শুরু হবে। তার আগে বাড়ি তৈরির কাজের এই ধীর গতি উদ্বেগ বাড়িয়েছে প্রশাসনের আধিকারিকদের। জেলাশাসক এস অরুণ প্রসাদ বলেন, এই কাজ নিয়ে কোনরকম গড়িমসি করা যাবে না।‌ নদীয়া জেলা বাংলার বাড়ি কাজে প্রথম থেকেই এগিয়ে রয়েছে। সেই ধারা বজায় রাখাই আমাদের উদ্দেশ্য।

Advertisement

সরকারি তথ্য অনুযায়ী, জুলাই পর্যন্ত ২০২১টি বাড়ি তৈরির কাজ সম্পূর্ণ হয়েছে। কিন্তু, প্রশাসনের শীর্ষ আধিকারিকরা মনে করছেন, আদতে এই সংখ্যাটা অনেক বেশি। কিন্তু, সমীক্ষার দলের গড়িমসির কারণে, উপভোক্তারা সঠিক সময় বাড়ি তৈরির কাজ শেষ করলেও তা নথিভুক্ত করা হচ্ছে না সরকারি খাতায়। গত মঙ্গলবার এই নিয়ে নদীয়া জেলা প্রশাসনের শীর্ষ আধিকারিকরা ব্লকের আধিকারিক ও সমীক্ষকদের সঙ্গে বৈঠক করেন। সেখানে কাজের এই ধীর গতি নিয়ে জেলাশাসক এস অরুণ প্রসাদ ধমক দেন সকলকে। তিনি সাফ জানিয়ে দেন, বাংলার বাড়ি প্রকল্পের কাজ নিয়ে কোনওরকম গড়িমসি বরদাস্ত করা হবে না। সেইমতো, ‘বাড়ি সম্পূর্ণকরণ সপ্তাহ› নামে কর্মসূচি শুরুর নির্দেশ দেন তিনি। তাতে সমীক্ষাকরা গ্রামে গিয়ে দেখবেন যে উপভোক্তারা বাড়ি তৈরির কাজ কতটা সম্পূর্ণ করেছেন। পাশাপাশি উপভোক্তারা যাতে দ্রুত বাড়ি তৈরির কাজ শেষ করেন, সেই নিয়েও তদ্বির করবেন।‌
২০২৪ সালের ডিসেম্বর মাসে নদীয়া জেলায় প্রথম দফায় ৪৬ হাজার ৩৭৯ জন উপভোক্তাকে বাংলার বাড়ি প্রকল্পের প্রথম কিস্তির ৬০ হাজার টাকা দেওয়া হয়। ২০২৫ সালের মে মাসে তার মধ্যে ৪৫ হাজার ৫৮৭জন উপভোক্তা দ্বিতীয় কিস্তির টাকা পেয়েছেন। তারপর প্রায় আড়াই মাস অতিক্রান্ত হয়েছে।‌ এখনও পর্যন্ত মাত্র ২০০০ জন উপভোক্তা বাড়ি তৈরির কাজ সম্পূর্ণ করেছেন। প্রশাসনের আধিকারিকদের কথায়, এই সময়ের মধ্যে অন্ততপক্ষে ১২ থেকে ১৪ হাজার উপভোক্তার বাড়ি তৈরির কাজ শেষ হওয়ার কথা। তা নিয়ে নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে প্রশাসনের অন্দরে। 
প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, চাকদহ ব্লকে ৪টি, চাপড়া ব্লকে ৯টি, হাঁসখালি ব্লকে ৭টি, হরিণঘাটা ব্লকে ৩টি, কালীগঞ্জ ব্লকে ১৫টি, কল্যাণী ব্লকে ৬টি, নবদ্বীপ ব্লকে ৪টি, নাকাশিপাড়া ব্লকে ১৪টি, সহ ১৮টি ব্লকের ১১১টি গ্রাম পঞ্চায়েতে একটি বাড়িও সম্পূর্ণভাবে তৈরি হয়নি। 
যার জন্য এই বিশেষ ‘বাড়ি সম্পূর্ণকরণ সপ্তাহ’ পালনের উদ্যোগ নিয়েছে নদীয়া জেলা প্রশাসন।‌ যেখানে গত ৯ জুলাই থেকে ১৩ জুলাই পর্যন্ত সমীক্ষকরা দেখবেন বাড়ির তৈরির কাজ কতটা এগিয়েছে। পাশাপাশি দ্বিতীয় দফায় ৩৮ হাজার ৯৬১জন উপভোক্তার নথি যাচাইয়ের কাজ এখনও শেষ হয়নি। সেটাও এক সপ্তাহের মধ্যেই শেষ করতে হবে।‌ নদীয়া জেলার অতিরিক্ত জেলাশাসক(জেলা পরিষদ) অনুপকুমার দত্ত বলেন, আমাদের কাছে ৮৯৩ জন সমীক্ষক এবং ৫৭৩ জন সুপার চেকিং করার প্রতিনিধি রয়েছেন। তাঁরা এই সমস্ত কাজ করবেন।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ