Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

শতাধিক বেহারার কাঁধে চেপে বিসর্জন শোভাযাত্রায় জোড়াবাঘ গৌরাঙ্গিনী মাতা

শতাধিক বেহারার কাঁধে চেপে বিসর্জন শোভাযাত্রায় গেলেন যোগনাথতলার জোড়াবাঘ গৌরাঙ্গিনী মাতা।

শতাধিক বেহারার কাঁধে চেপে বিসর্জন শোভাযাত্রায় জোড়াবাঘ গৌরাঙ্গিনী মাতা
  • ৭ নভেম্বর, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

সংবাদদাতা, নবদ্বীপ: শতাধিক বেহারার কাঁধে চেপে বিসর্জন শোভাযাত্রায় গেলেন যোগনাথতলার জোড়াবাঘ গৌরাঙ্গিনী মাতা। প্রথা মেনে এই দেবীর বিশেষ শোভাযাত্রা সাঙকে ঘিরে উৎসাহ-উদ্দীপনা ছিল তুঙ্গে। বৃহস্পতিবার দুপুরে নির্ধারিত সময়েই পুজো মণ্ডপ থেকে যোগনাথতলার গৌরাঙ্গিনী মাতা শোভাযাত্রায় বের হন। 

Advertisement

গৌরাঙ্গিনী মাতা পুজো কমিটির সম্পাদক জয়শঙ্কর পোদ্দার বলেন, প্রায় একশো জনের মতো বেহারার কাঁধে চেপে দেবী বিসর্জনে যান। ধুবুলিয়ার ঘাটেশ্বর থেকে আসেন বেহারারা। ৮০ জন বেহারা কাঁধে করে নিয়ে যান প্রতিমা। কিন্তু তাঁদের সঙ্গে থাকেন আরও অনেকে, মোট ১০৮ জন বেহারা। অনেকেই গৌরাঙ্গিনী মাতাকে ভালোবেসে বিসর্জন শোভাযাত্রায় চলে আসেন।
 বুধবার রাত দুটোর পর থেকে বৃহস্পতিবার ভোর পর্যন্ত সাঙের শোভাযাত্রার বাঁশ বাধার কাজ হয়। নবদ্বীপের রাসের ইতিহাসে এই একটিমাত্র প্রতিমা ঐতিহ্য মেনে বেহারাদের কাঁধে চেপে শোভাযাত্রায় বের হন আজও। বেহারা সর্দার বৃদ্ধ রামপ্রসাদ সরদার বলেন, আগে বেহারা হিসেবে আসতাম। এখন আমি বেহারা সর্দার হয়েছি। ৩০ বছরের বেশি সময় ধরে কাঁধে করে এই প্রতিমা বিসর্জন দিয়ে আসছি। আগে আমাদের বাপ-ঠাকুরদারা এই প্রতিমা বিসর্জন দিতেন। আমাদের কাছে টাকা পয়সার থেকেও বেশি গুরুত্ব এই ঐতিহ্য— যা আমরা বংশ পরম্পরায় বহন করে আসছি। 
বৃহস্পতিবার দুপুর ১টায় যোগনাথতলা গৌরাঙ্গিনী মাতা পুজো মণ্ডপ থেকে বের হন। প্রথমে আগমেশ্বরী পাড়া মোড়ের কাছ পর্যন্ত নিয়ে যাওয়া হয়। সেখান থেকে ঘুরিয়ে আবারো পুজো মণ্ডপের সামনে দিয়ে যোগনাথতলা মোড় হয়ে পোড়ামাতলা, ঢপওয়ালির মোড়, রাধাবাজার হয়ে দণ্ডপাণিতলা মোড় পর্যন্ত প্রতিমা নিয়ে যাওয়া হয়। সেখান সামান্য কিছু সময়ের জন্য রাখা হয়। সেখান থেকে আবার ঘুরে এসে রাধাবাজার মোড়ে এবং পোড়ামাতলায় কিছুটা সময় রাখা হয়। এরপর পীরতলার খালে নিয়ে গিয়ে গৌরাঙ্গিনী মাতাকে বিসর্জন দেওয়া হয়। তবে প্রতিমা বিসর্জনের আগে সকালেই গৌরাঙ্গিনী মাতার ঘট ভাগীরথী নদীতে বিসর্জন দেওয়া হয়।
এদিন এর কিছু আগে সকালের দিকে বাদ্যযন্ত্র সহকারে প্রথমে পোড়ামাতলার প্রাচীনতম কংসবণিকদের কাঁসারী কালী অর্থাৎ বড় ঠাকরুনকে পীরতলা খালে বিসর্জন দেওয়া হয়। এরপর বের হয় হরিসভাপাড়ার ভদ্রকালী, পাকাটোল রোডের সিংহবাহিনী, ওলাদেবীতলার মুক্তকেশী মাতা, চারিচারা বাজারের ভদ্রকালী এবং বড় বাজারের শ্রীরাজ গণেশ। এদিন বিকেলের মধ্যে কোনও কোনও প্রতিমা বিসর্জন দেওয়া হয়, আবার কিছু প্রতিমা মণ্ডপে ফিরিয়ে আনা হয়। শুক্রবার সকালে সেই সব প্রতিমা নির্দিষ্ট জলাশয়ে বিসর্জন দেওয়া হবে।
বৃহস্পতিবার দিনের বেলায় ৭টি, সন্ধ্যায় নবদ্বীপের পথে আলোকসজ্জায় সজ্জিত হয়ে বিভিন্ন বাদ্যযন্ত্র সহকারে ১৭৮টি বারোয়ারির প্রতিমা লোহার বিশেষ গাড়ি করে বের হয় আড়ংয়ে। প্রতিটি প্রতিমা শোভাযাত্রায় সার্কুলার রোড হয়ে রাতে যে যার পুজো মণ্ডপে ফিরে যায়। এর মধ্যে রাতে আড়ংয়ের কিছু প্রতিমার বিসর্জন হলেও শুক্রবার সকাল থেকেই নবদ্বীপ ফাঁসিতলা গঙ্গায় ও  পিরতলা খাল সহ অন্যান্য জলাশয়ে বাকি অনেক প্রতিমাই বিসর্জন দেওয়া হবে। এবছর বেশি সংখ্যক প্রতিমা শোভাযাত্রায় বের হবে। সে কারণে শুক্রবার সন্ধ্যায় সেই সব প্রতিমা শোভাযাত্রায় বের হবে। যথারীতি নির্দিষ্ট সার্কুলার রোড ঘুরে আসার পর শনিবার সকাল থেকেই ওই সব প্রতিমা বিভিন্ন ঘাটে বিসর্জন দেওয়া হবে। শনিবার পুরসভার পরিচালনায় কার্নিভালের আয়োজন করা হয়েছে। তাতে অংশ নেবে ১৫টি প্রতিমা।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ