স্বার্ণিক দাস, কলকাতা: ঝাড়খণ্ডের জামশেদপুরের ব্যবসায়ী খুনে সুপারি কিলারদের সঙ্গে ‘নিয়মিত’ যোগাযোগ ছিল কলকাতা পুলিশের মহিলা সিভিকের। এই তথ্য আগেই পেয়েছিল ঝাড়খণ্ড পুলিশ। কেঁচো খুঁড়তে কেউটে বের হয়েছিল। অভিযুক্তদের পালানোর জন্য গাড়ির ব্যবস্থা করে দেওয়া থেকে পুলিশি নজর এড়াতে নানা প্রযুক্তিগত সাহায্য সবই করেছে বেলেঘাটা ট্রাফিক গার্ডের মহিলা সিভিক ভলান্টিয়ার টুইঙ্কল দাস। অভিযোগ, তার সঙ্গে সহযোগী হিসেবে কাজ করেছেন ট্রাফিক গার্ডেরই এক সার্জেন্ট অয়ন গুপ্ত। এই অভিযোগ প্রকাশ্যে আসতেই যথেষ্ট ব্যাকফুটে কলকাতা পুলিশ। তাই তড়িঘড়ি এবার ড্যামেজ কন্ট্রোলে লালবাজার। কলকাতার সব সিভিক ভলান্টিয়ারদের গতিবিধির উপর নজর রাখবেন উচ্চপদস্থ আধিকারিকরা। আগামী মাস থেকেই সিভিকের ডানা ছাঁটার প্রক্রিয়া শুরু করছে কলকাতা পুলিশ।
লালবাজার সূত্রের খবর, প্রত্যেকটি থানা ও ট্রাফিক গার্ডকে তাদের আওতাধীন সিভিক ভলান্টিয়ারদের তালিকা তৈরি করতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। দেওয়া হয়েছে বেশ কিছু মাপকাঠি। মাপকাঠির ভিত্তিতে বাছাই করে সিভিকদের নাম তালিকাভুক্ত করতে হবে। কীভাবে নির্ধারিত হবে সেই মাপকাঠি? লালবাজারে একটি বিশেষ সূত্র জানাচ্ছে, সংশ্লিষ্ট সিভিকের নিয়োগের প্রক্রিয়া কীভাবে হয়েছিল, তা খতিয়ে দেখা হবে। সেই নিয়োগ প্রক্রিয়ায় কোনো রাজনৈতিক প্রভাব রয়েছে কি না, তাও যাচাই করা হবে। রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে নিয়োগ হলে এই সমস্ত সিভিককে আলাদাভাবে চিহ্নিত করে রাখতে হবে। এখানেই শেষ নয়, সিভিকের আগের কর্মজীবনেও এবার নজর দেবে লালবাজার। সিভিকের বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ রয়েছে কি না, তা নিয়ে সংশ্লিষ্ট থানা বা ট্রাফিক গার্ডের আধিকারিকরা রিপোর্ট দেবেন লালবাজারে। একইসঙ্গে পদস্থ আধিকারিকদের নির্দেশ অমান্যের অভিযোগ থাকলেও, তা মাপকাঠিতে বিচার্য। কলকাতা পুলিশে নিযুক্ত প্রতিটি সিভিকের যাবতীয় রিপোর্ট জমা পড়বে লালবাজারে। সিভিক ভলান্টিয়ারদের বিরুদ্ধে তোলাবাজি, ভয় দেখানো, উচ্চপদস্থ আধিকারিকদের নির্দেশ অমান্যের মতো গুরুতর অভিযোগ থাকলে, তাদের সরিয়ে দেওয়া হতে পারে বলে লালবাজার সূত্রে খবর।
পাশাপাশি নবান্নের তরফেও কর্তব্যরত সিভিক ভলান্টিয়ারদের উপর নজরদারি চালানো হবে বলে জানা গিয়েছে। তাদের শিক্ষাগত যোগ্যতা, শারীরিক সক্ষমতা যাচাই করবে স্বরাষ্ট্রদপ্তর। সঙ্গে পূর্ববর্তী দু’বছরের কাজের রেকর্ড যাচাই করবে নবান্ন। কলকাতা পুলিশের এক পদস্থ আধিকারিক জানিয়েছেন, ভুয়ো শংসাপত্র জমা দিয়ে যদি কোন সিভিক ভলান্টিয়ার কলকাতা পুলিশের চাকরি জুটিয়ে থাকে, তাহলে তার বিরুদ্ধে যথোপযুক্ত আইনত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। সঙ্গে কোন রাজনৈতিক দলের ক্যাডার হিসেবে কলকাতা পুলিশে কাজ করলে, সে ক্ষেত্রেও উপযুক্ত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে সংশ্লিষ্ট সিভিক ভলান্টিয়ারের বিরুদ্ধে। কলকাতা পুলিশ সূত্রে খবর, ঝাড়খণ্ডের ব্যবসায়ী খুন কাণ্ডে সিভিক ভলান্টিয়ার টুইঙ্কল দাসের গ্রেপ্তারিতে একের পর এক চাঞ্চল্যকর তথ্য বেরিয়ে আসছে।