Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

ট্রান্সফরমারের নীচেও দখল, কাঠগড়ায় পার্কিং ব্যবসায়ীরা, অগ্নিকাণ্ডেও টনক নড়েনি আসানসোল পুর প্রশাসনের

সোমবারই ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে ভস্মীভূত হয়ে গিয়েছিল পাঁচটি দোকান। ট্রান্সফরমারে আগুন লেগে গিয়েছিল। খনি শহরে ছড়িয়েছিল আতঙ্ক। কিন্তু তারপরেও টনক নড়েনি পুরসভা ও প্রশাসনের।

ট্রান্সফরমারের নীচেও দখল, কাঠগড়ায় পার্কিং ব্যবসায়ীরা, অগ্নিকাণ্ডেও টনক নড়েনি আসানসোল পুর প্রশাসনের
  • ২ জুলাই, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, আসানসোল: সোমবারই ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে ভস্মীভূত হয়ে গিয়েছিল পাঁচটি দোকান। ট্রান্সফরমারে আগুন লেগে গিয়েছিল। খনি শহরে ছড়িয়েছিল আতঙ্ক। কিন্তু তারপরেও টনক নড়েনি পুরসভা ও প্রশাসনের। মঙ্গলবারও বিদ্যুতের ট্রান্সফরমারের খুঁটি দখল করে চুটিয়ে কারবার করতে দেখা গেল ব্যবসায়ীদের। দীর্ঘদিন ধরে আসানসোল বাজারের অরাজকতা নিয়ে প্রশাসন কঠোর পদক্ষেপ না করায় একাধিক প্রশ্ন সামনে আসছে। পাশাপাশি উঠে এসেছে চাঞ্চল্যকর অভিযোগ। অভিযোগ, আসানসোল বাজারের বিভিন্ন এলাকায় পার্কিং লটের বরাত নিয়েছে প্রভাবশালীদের ঘনিষ্ঠরা। তাদেরই একাংশ টাকার বিনিময়ে বিভিন্ন এলাকায় ফুটপাতে দোকান বসাচ্ছে। যার জেরে একদিকে পার্কিংয়ের জায়গা কমছে, অন্যদিকে ফুটপাত, রাস্তা বেদখল হয়ে যাচ্ছে। বাদ যাচ্ছে না ট্রান্সফরমারের তলাও। এই অসাধু কারবার নিয়ে আসানসোল পুরসভার বোর্ড মিটিংয়ে একাধিক বার প্রশ্ন উঠলেও কোনও পদক্ষেপ হয়নি। আসানসোল পুরসভার চেয়ারম্যান অমরনাথ চট্টোপাধ্যায় বলেন, এই অভিযোগ পুরসভার বোর্ড মিটিংয়েও উঠেছে। আমরা নজর রাখছি। 

Advertisement

আসানসোল পুর এলাকা এখন কার্যত জতুগৃহ। অন্যদিকে, একাধিক ভগ্নপ্রায় বাড়ি যে কোনও সময়ে মানুষের ঘাড়ে ভেঙে পড়তে পারে। বাজারের রাস্তা ও ফুটপাত সম্পূর্ণ ভাবে দখল হয়ে গিয়েছে। যার জেরে আসানসোল বাজারের স্থায়ী দোকানদারদের বিক্রিবাটা লাটে উঠেছে। মানুষ সেইসব দোকানে ঢুকতেই পারছে না। ফুটপাত দখল হয়ে যাওয়ায় রাস্তা পারাপারও করা যায় না। পরিস্থিতি এতটাই মারাত্মক যে, বেআইনি দখলদারদের হাত থেকে রক্ষা পাচ্ছে না বিদ্যুতের ট্রান্সফরমারও। বাজারের ম঩ধ্যে থাকা ট্রান্সফরমার ও অন্যান্য বৈদ্যুতিক যন্ত্রাংশগুলি ঘিরে দোকান বসিয়ে দেওয়া হচ্ছে। এই অভিযোগের ‘ময়নাতদন্ত’ করতে গিয়েই উঠে এসেছে ভয়ঙ্কর অভিযোগ। বহুকাল ধরেই আসানসোল বাজার এলাকায় পার্কিং ব্যবসায়ীদের প্রশ্নাতীত দাপট। জানা যায়, তাঁদের মাথায় উপর বিভিন্ন দাদাদের হাত থাকে। এরফলে ৫ টাকা  দিয়ে বাইক রাখার নিয়ম থাকলেও ইচ্ছেমতো ১০ টাকা ২০ টাকা নেওয়া হয়। পুরসভাকে নিয়মিত টাকাও দেয় না এইসব পার্কিং লটের ইজারাদাররা। অবৈধ পার্কিংয়েরও অভিযোগ রয়েছে। এদের একাংশের বিরুদ্ধেই অভিযোগ, তারা নিজেদের পার্কিং এলাকা ব্যবসায়ীদের ‘বিক্রি’ করছে। কেউ আবার ট্রান্সফরমারের নীচে দোকান করার ‘অনুমতি’ দিচ্ছে। এই দাদাগিরির জেরে বাজারে জবরদখল বেড়েই চলেছে। তবে এদের বিরুদ্ধে পুরসভা থেকে প্রশাসন— কেউই কোনও পদক্ষেপ করার সাহস দেখায় না। আইএনটিটিইউসি নেতা রাজু আলুওয়ালিয়া বলেন, পার্কিং নিয়ে বড় বেনিয়ম রয়েছে। তারা পার্কিং এলাকায় অবৈধ ভাবে দোকান বসায়, পাইকারি মাল ওঠানো নামানো করতে দেয় অর্থের বিনিময়ে। পুরসভার বিপুল টাকা বয়েকা রেখেই পার পেয়ে যায়। কংগ্রেস কাউন্সিলার এসএম মোস্তাফা বলেন, পুরসভাকে দোষ দিয়ে কী হবে। আমরা সবা‌ই ঩মিলে সিদ্ধান্ত নিলাম হটন রোড জবরদখল মুক্ত করব। তৃণমূলের একটি লবি তা থামিয়ে দিল। আসানসোলের মেয়র বিধান উপাধ্যায় বলেন, আমি তো চাই আসানসোলের মানুষকে জবরদখল মুক্ত শহর দিতে। অবৈধ কারবার ভেঙে দিতে। এখন দেখি কতটা কী করা যায়!-নিজস্ব চিত্র

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ