সংবাদদাতা, সিউড়ি: সাঁইথিয়া শহরের রাস্তায় অবাধে চলছে টোল আদায়। তৃণমূল বাদে একাধিক শ্রমিক সংগঠন রাস্তায় আদায় করছে অবৈধ টোল। এমনই অভিযোগ তুলে জেলা শাসকের দ্বারস্থ সাঁইথিয়া শহরের বাসিন্দা তথা তৃণমূল ছাত্র পরিষদের নেতা প্রীতম দাস। বৃহস্পতিবার তিনি জেলাশাসক ও পুলিশ সুপারের কাছে লিখিত অভিযোগ জানান। কংগ্রেসের অবশ্য দাবি, সামনেই পুলিশের ব্যারিকেড রয়েছে। তাহলে পুলিশ কোনও ব্যবস্থা নিচ্ছে না কেন?
ছাত্র পরিষদের ওই নেতার দাবি, সিউড়ি সাঁইথিয়া রোডে অনুকূল ঠাকুরের আশ্রমের ঠিক সামনেই আইএনটিইউসি, সিটু এবং টিইউসিসি রমরমিয়ে টাকা আদায় করছে। তাঁরা অবৈধভাবে গাড়ি পিছু ১০ টাকা করে টোল নিচ্ছে। রাতের দিকে এই টোলের বাড়বাড়ন্ত আরও বেড়ে যায় বলে অভিযোগ। এর ফলে প্রচুর মানুষকে সমস্যার সম্মুখীন হতে হচ্ছে। তাঁর দাবি, ওই রাস্তাটি এমনিতেই অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তার উপর তিলপাড়া ব্রিজের কাজ চলছে, সাঁইথিয়া রেলব্রিজের কাজ চলছে। সাঁইথিয়ার ভাসা ব্রিজ বন্ধ। ফলে, প্রচুর ছোট বড় গাড়ি, প্রচুর বাইক আরোহী এবং পথচারী ওই রাস্তা দিয়ে যাতায়াত করে থাকেন। কিন্তু রাস্তায় এভাবে টোল নেওয়ার ফলে যানজট আরও বাড়ছে। তাতেই আটকে পড়ছেন সাধারণ মানুষ থেকে শুরু করে অ্যাম্বুলেন্সে থাকা রোগী। চরম বিপাকে পড়তে হচ্ছে সাধারণ মানুষকে। এই পরিস্থিতিতে সাতদিনের মধ্যে ওই টোলগুলি বন্ধ করার আবেদন জানিয়েছেন ওই ছাত্র নেতা। তিনি জানান, মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় অনেকদিন আগেই অবৈধ টোল মুক্ত রাজ্য গড়ার ডাক দিয়েছেন। সেই কারণে ওখানে শাসক দলের পক্ষ থেকে কোনও টোল নেওয়া হয় না। অথচ, ওই তিন সংগঠন অবাধে ওখান থেকে অবৈধভাবে টাকা তুলছে। কাদের মদতে এটা করা হচ্ছে, সেটা দেখা এবং ওই টোল বন্ধ করার আবেদন জানিয়েছি পুলিশ-প্রশাসনের কাছে।
যদিও অভিযোগ ভিত্তিহীন বলে দাবি করেছেন সিটুর জেলা সম্পাদক দীপঙ্কর চক্রবর্তী। তিনি জানান, ওখানে কোনও টাকা সিটু নেয় না। আমি যেটুকু শুনেছি জনপদ পরিবহণ ইউনিয়ন সংগঠন পরিচালনা ও দুঃস্থদের সহায়তা করার জন্য টাকা নেয়। তাও যাঁরা স্বেচ্ছায় দেয়, তাঁদের কাছে থেকে। অন্যদিকে, কংগ্রেসের রাজ্য সম্পাদক সঞ্জয় অধিকারী বলেন, যেখানে টোল নেওয়া হয় বলে অভিযোগ, তার কাছেই পুলিশের ব্যারিকেড রয়েছে। পুলিশ কেন ব্যবস্থা নিচ্ছে না? দল কোনভাবেই এই টাকা তোলাকে সমর্থন করে না।