পিনাকী ধোলে বলরামপুর
পিনাকী ধোলে বলরামপুর
না আছে প্রশাসনের কোনও অনুমোদন। না আছে পর্যাপ্ত ছাড়পত্র! তা সত্ত্বেও বছরের পর বছর ধরে বনদপ্তরের জমি দখল করে অবৈধ পাথর খাদান চলছে পুরুলিয়ার বলরামপুরে। বেলা পঞ্চায়েতের অন্তর্গত দাঁতিয়ার ওই খাদানটিতে দিনরাত ফাটছে ডিনামাইট। কান ফাটানো শব্দে অতিষ্ঠ স্থানীয় বাসিন্দারা। ফলে, সঙ্কটে বন্যপ্রাণ। এনিয়ে নির্দিষ্ট অভিযোগও জমা পড়েছে প্রশাসনের কাছে। কিন্তু, তা সত্ত্বেও কোনও পদক্ষেপ নেয়নি প্রশাসন। কেন? কার মদতে চলছে এই অবৈধ পাথর খাদান? সরকারের কোটি কোটি টাকার রাজস্ব ফাঁকি দিয়ে সেই টাকা আত্মসাৎ করছে কারা?
বলরামপুর থেকে ১৮ নম্বর জাতীয় সড়ক ধরে জামশেদপুরের দিকে প্রায় আট কিলোমিটার গেলেই পড়ে পুলিসের ইন্টার স্টেট নাকা চেকপোস্ট। সেই চেকপোস্ট থেকে চার-পাঁচশো মিটার দূরে রাস্তার ডানদিকেই রয়েছে অবৈধ ওই খাদানটি। প্রশাসনের একটি সূত্রের খবর, পাথর খাদানটি চালায় ঝাড়খণ্ডের এক ব্যবসায়ী। প্রায় ৩২ একরের বেশি জায়গাজুড়ে রীতিমতো সাম্রাজ্য বিস্তার করেছে ওই ব্যবসায়ী। বাইরে থেকে যাতে কেউ ঢুকতে না পারে তার জন্য কয়েকশো মিটারজুড়ে সীমানা প্রাচীর তৈরি করা হয়েছে। ২৪ ঘণ্টা সেখানে পাহারার ব্যবস্থাও রয়েছে। আর সেই প্রাচীরের ভিতরে বছরের পর বছর ধরে চলছে এই অবৈধ কারবার। দেদার ফাটছে ডিনামাইট।
ভূমিদপ্তর সূত্রে জানা গিয়েছে, যে জায়গা দখল করে ওই অবৈধ করবার চলছে, তা বনদপ্তরের নামে সংরক্ষিত। যদিও অভিযোগ, বছর খানেক আগে কোনও এক অদৃশ্য জাদুবলে সেই রেকর্ড পরিবর্তন হয়ে যায়! বদলে যায় জমির মালিকানা। যা ১৯৮০ সালের বন সংরক্ষণ আইন বিরোধী এবং ১৯৯৬ সালের গোদাবর্মন মামলায় সুপ্রিম কোর্টের রায়ের পরিপন্থী। ওই রায়ে স্পষ্ট বলা রয়েছে, একবার যে জমি বনদপ্তরের নামে নোটিফায়েড, সেই জমির চরিত্র এবং মালিকানা কোনওভাবেই বদল করা যায় না। তাহলে তা হল কীভাবে? এর পিছনে বন এবং ভূমি-উভয় দপ্তরের আধিকারিকরাই জড়িত বলে অভিযোগ। তাছাড়া, একটি খাদান চালাতে গেলে পরিবেশ দপ্তরের ছাড়পত্র লাগে। ডিনামাইট বিস্ফোরণ করাতে অনুমতি লাগে ডিরেক্টরেট জেনারেল অব মাইনস সেফটির (ডিজিএমএস)। যদিও সেসবের কোনও বালাই নেই। তা সত্ত্বেও কীভাবে চলছে ওই খাদানটি?
পুরুলিয়ার অতিরিক্ত জেলাশাসক(ভূমি ও ভূমি সংস্কার) রাজেশ রাঠোর বলেন, ‘বিষয়টি খতিয়ে দেখা হবে।’ ভূমিদপ্তরের আর এক শীর্ষ পদাধিকারী বলেন, ‘যতদূর জানি ওই খাদানটি বনদপ্তরের জমি দখল করে চলছে। বিষয়টি তো বনদপ্তরেরই দেখা দরকার। তারা কেন ব্যবস্থা নিচ্ছে না সেই প্রশ্ন বনদপ্তরের আধিকারিকদের করুন।’ পুরুলিয়ার ডিএফও অঞ্জন গুহ বলেন, ‘এনিয়ে আমরা হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয়েছি। আদালত যতক্ষণ না আমাদের নির্দেশ দিচ্ছে, ততক্ষণ কোনও ব্যবস্থা নিতে পারছি না।’
স্থানীয় বিজেপি বিধায়ক বাণেশ্বর মাহাত বলেন, ‘বিষয়টি আমি বহুবার প্রশাসনকে জানিয়েছি। কিন্তু, প্রশাসন ব্যবস্থা নেয়নি।’ সরকারের রাজস্ব ফাঁকি দিয়ে কোটি কোটি টাকা লুট হচ্ছে। তৃণমূলের জেলা চেয়ারম্যান তথা বলরামপুরের প্রাক্তন বিধায়ক শান্তিরাম মাহাত বলেন, বিষয়টি আমার জানা নেই।