Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

উত্তরবঙ্গ মেডিকেল চত্বরে অবৈধ দোকানপাট বাড়ছেই, নেপথ্যে তোলা তুলছে ‘অদৃশ্য হাত’

শুধু চিকিৎসাই নয়। নানাভাবে রোজগারের জায়গা হয়ে উঠেছে উত্তরবঙ্গ মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল।

উত্তরবঙ্গ মেডিকেল চত্বরে অবৈধ দোকানপাট বাড়ছেই, নেপথ্যে তোলা তুলছে ‘অদৃশ্য হাত’
  • ৭ জানুয়ারি, ২০২৬ ১৭:০১
Prefer us on Google

সংবাদদাতা, শিলিগুড়ি: শুধু চিকিৎসাই নয়। নানাভাবে রোজগারের জায়গা হয়ে উঠেছে উত্তরবঙ্গ মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল। স্থানীয়দের পাশাপাশি বাইরে থেকেও প্রতিদিন মানুষ আসছে নানা রকমের দোকান নিয়ে। চা, বিভিন্ন ধরনের খাবার, ফল ও  লটারির টিকিটের দোকান বসেই চলেছে। সেফটিপিন থেকে মাথার তেল, সাবান, জামাকাপড় সবকিছুই পাওয়া যায় এসব দোকানে। অভিযোগ, হাসপাতাল চত্বর জুড়ে এসব দোকান বসিয়ে অদৃশ্য হাতে তোলা উঠছে। স্থানীয় কতিপয় প্রভাবশালীর মদতেই এসব চলছে। 

Advertisement

উত্তরবঙ্গ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের প্রসূতি ওয়ার্ডের সামনে থাকা দীর্ঘদিনের বাজার সরিয়ে দেওয়া হলেও চত্বরে নিত্যনতুন দোকান বসার প্রবণতা বন্ধ করা যায়নি। উল্টে বেড়ে চলেছে দোকানের সংখ্যা। নতুন নতুন মুখ নানা পসরা সাজিয়ে বসছে। অথচ নীরব সব মহল। অভিযোগ, টাকা দিয়েই এখানে দোকান বাসাতে হয়। এক দোকানি বলেন, টাকা সবাইকেই দিতে হয়। দিনে কাউকে ৫০ টাকা তো কাউকে ৩০০ টাকা দিতে হয়। এর মাঝামাঝিও অনেক দর রয়েছে দোকান করার জন্য। দোকানিদের কথায়, একজন বাবু আসেন টাকা নিতে। কিন্তু কে সেই ‘বাবু’ তা কেউ বলতে রাজি হননি। এখানেই অভিযোগ, স্থানীয় কতিপয় প্রভাবশালী ব্যক্তির মদতেই উত্তরবঙ্গ মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল চত্বর এধরনের দোকানে ছেয়ে গিয়েছে। এতে হাসপাতালের পরিবেশ নষ্ট হচ্ছে। নিরাপত্তার ঝুঁকিও বাড়ছে। 
হাসপাতাল চত্বরে যত্রতত্র দোকান বসা বন্ধ করতে একাধিকবার উদ্যোগ নিয়েছে কর্তৃপক্ষ। রোগী কল্যাণ সমিতির বৈঠকে আলোচনাও হয়েছে। রোগী কল্যাণ সমিতির সরকারি প্রতিনিধি শিলিগুড়ির মেয়র গৌতম দেব জানিয়েছিলেন, এভাবে হাসপাতালে যত্রতত্র দোকান বসতে দেওয়া হবে না।  হাসপাতালের নির্দিষ্ট করে দেওয়া জায়গায় সবাইকে পর্যায়ক্রমে বসতে হবে। এই নিয়ম কেউ মানতে না চাইলে তাদের উঠিয়ে দেওয়া হবে। কারা, কীভাবে বসবে সেব্যাপারে মেয়র স্থানীয় প্রধান ও পঞ্চায়েত সদস্যদের দায়িত্ব দিয়েছিলেন। কয়েক মাস পেরিয়ে গেলেও সেই ঘোষণা বাস্তবায়িত হয়নি। কোনও উদ্যোগও নেই। উল্টে বাড়ছে দোকানের সংখ্যা। গোটা ঘটনায় বিরক্ত মেয়র। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ এব্যাপারে কার্যত হতাশ।  মাঝেমধ্যে পুলিশ অভিযান চালিয়ে দোকান সরিয়ে দিলেও পরমুহূর্তেই আবার দোকান বসেছে। 
উত্তরবঙ্গ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের প্রিন্সিপাল সঞ্জয় মল্লিক বলেন, আমরা সময়ে সময়ে পুলিশকে জানিয়েছি। জবরদখল সরিয়ে দেওয়ার দায়িত্ব পুলিশের। মেডিকেল ফাঁড়ির পুলিশ জানিয়েছে, অভিযোগ পাওয়ার পর প্রত্যেকবারই অভিযান চালিয়ে দোকান সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। পরে ফের দোকান বসে। স্থানীয় গ্রাম পঞ্চায়েত প্রধান কৃষ্ণ সরকার বলেন, এবিষয়ে কিছু বলব না। 
অভিযোগ, তোলা আদায়ের অদৃশ্য হাত এতটাই প্রভাবশালী যে, হাসপাতালে চত্বরে জবরদখল সরাতে কেউ কঠোর পদক্ষেপ করতে পারছে না। • নিজস্ব চিত্র।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ