Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

ময়ূরাক্ষী থেকে দেদার বালি চুরির অভিযোগ, মুখ্যমন্ত্রীকে চিঠি পাঠালেন এলাকাবাসী

সাঁইথিয়া ব্লকে ময়ূরাক্ষী নদীর গর্ভ থেকে অবৈধভাবে দেদার বালি তোলা হচ্ছে।

ময়ূরাক্ষী থেকে দেদার বালি চুরির অভিযোগ,  মুখ্যমন্ত্রীকে চিঠি পাঠালেন এলাকাবাসী
  • ২৬ মে, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, সিউড়ি: সাঁইথিয়া ব্লকে ময়ূরাক্ষী নদীর গর্ভ থেকে অবৈধভাবে দেদার বালি তোলা হচ্ছে। অভিযোগ, দেড়িয়াপুর পঞ্চায়েত ও হরিসরা পঞ্চায়েত সংলগ্ন নদীতে নৌকায় সাকশন মেশিন লাগিয়ে যথেচ্ছ হারে বালি তোলার কাজ চলছে। স্থানীয়দের আশঙ্কা, এভাবে বালি তোলার জন্য সংলগ্ন এলাকায় থাকা আমবাগান ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। ঘটনায় এবার রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ দাবি করে স্থানীয়রা চিঠি পাঠালেন। স্থানীয়দের তরফে দাবি করা হয়েছে, শনিবার ডাক মারফৎ রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে চিঠি পাঠিয়ে অবৈধ বালি তোলার কাজে ইতি টানার আবেদন জানানো হয়েছে। ঘটনা প্রসঙ্গে স্থানীয় প্রশাসনের কর্তাদের দাবি, এই সংক্রান্ত কোনও অভিযোগ জমা পড়েনি। তবে, অবৈধভাবে বালি তোলার কোনও অভিযোগ এলেই দ্রুত পদক্ষেপ গ্রহণ করা হচ্ছে। এক্ষেত্রে বিষয়টি খতিয়ে দেখা হবে। 

Advertisement

বীরভূম জেলায় অবৈধভাবে নদী থেকে বালি তুলে পাচার কোনও নতুন কথা নয়। বিগত কয়েক মাস আগে নবান্নের সভাঘর থেকে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী এবিষয়ে উষ্মা প্রকাশ করেছিলেন। এবার সেই মুখ্যমন্ত্রীকেই স্থানীয়রা চিঠি পাঠালেন। অভিযোগ, প্রায় এক সপ্তাহ ধরে ওই এলাকা থেকে নৌকায় সাকশন মেশিন লাগিয়ে বালি তোলার কাজ চলছে। ঘটনার প্রতিবাদ করলেই প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হচ্ছে বলেও অভিযোগ। স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, এভাবে বালি তোলার কাজ চলতে থাকলে যে কোনও সময় বিপদ ঘটতে পারে। তবে জলস্তর নামতে শুরু করায় সমস্যা আরও প্রকট হচ্ছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, এই কাজে বহিরাগত প্রভাবশালী যোগ রয়েছে। অন্যদিকে, এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে এবার শাসক বিরোধী রাজনৈতিক তরজাও শুরু হয়েছে। তবে স্থানীয়রা সব কিছুর ঊর্ধ্বে উঠে সমস্যার সমাধান চাইছেন। তাঁদের দাবি, নদীগর্ভ থেকে অবৈধভাবে বালি উত্তোলনের কাজ বন্ধ হোক। 
স্থানীয় বাসিন্দা চিন্ময় ঘোষ বলেন, নদী থেকে অবৈধভাবে বালি তোলার জেরে সংলগ্ন এলাকার জলস্তর নামছে। তীব্র গরমে এলাকায় জল সঙ্কট দেখা দিতে শুরু করেছে। এভাবেই চলতে থাকলে এই সমস্যা আরও প্রকট হবে। এছাড়াও সংলগ্ন এলাকার আম বাগানের অস্থিত্বও সঙ্কটে। 
অন্যদিকে, অবৈধভাবে বালি তোলার প্রতিবাদ করলেই প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হচ্ছে। তাই আমরা নিরুপায় হয়ে এই ঘটনায় উপযুক্ত পদক্ষেপ গ্রহণের জন্য মুখ্যমন্ত্রীর কাছে আবেদন জানিয়েছি। আশা করছি মুখ্যমন্ত্রীর হস্তক্ষেপে এই অবৈধ কাজে ইতি পড়বে। তবে বিজেপির জেলা সহ সভাপতি দীপক দাস অবশ্য ভিন্ন দাবি করলেন। তিনি বলেন, যারা এই কাজ করছে তারা সকলেই শাসকদলের আশীর্বাদ ধন্য। সেক্ষেত্রে এই অভিযোগ জানিয়ে কোনও লাভ হবে বলে আমার মনে হচ্ছে না। তবে, শাসক নেতৃত্বরা বিজেপির অভিযোগ ভিত্তিহীন দাবি করেছেন। জেলা তৃণমূল কংগ্রেসের সহ সভাপতি মলয় মুখোপাধ্যায় বলেন, অবৈধভাবে বালি তোলার বিরুদ্ধে জেলা প্রশাসন ও পুলিস নজর রাখছে। ব্যবস্থাও নিচ্ছে। আমরাও দলগতভাবে দেখব। কোথাও যাতে অন্যায়ভাবে বালি তোলা না হয় সেদিকে আমরাও নজর রাখব।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ