নিজস্ব প্রতিনিধি, ঝাড়গ্ৰাম: বেলপাহাড়ীর কুমারী অরণ্যের দিকে নজর পড়েছে জমি মাফিয়াদের। ভুলাভেদা, বদাডিহি, বামনির মতো জঙ্গল এলাকার সরকারি ও রায়তি জমি দখল করে একের পর এক বিলাসবহুল রিসর্ট গড়ে উঠছে। ধ্বংস হচ্ছে অরণ্য। উদ্বিগ্ন স্থানীয়রা।
নিজস্ব প্রতিনিধি, ঝাড়গ্ৰাম: বেলপাহাড়ীর কুমারী অরণ্যের দিকে নজর পড়েছে জমি মাফিয়াদের। ভুলাভেদা, বদাডিহি, বামনির মতো জঙ্গল এলাকার সরকারি ও রায়তি জমি দখল করে একের পর এক বিলাসবহুল রিসর্ট গড়ে উঠছে। ধ্বংস হচ্ছে অরণ্য। উদ্বিগ্ন স্থানীয়রা।
ঝাড়গ্রামের ডিএফও উমর ইমাম বলেন, ভুলাভেদা জঙ্গল এলাকায় বনভূমির জমি দখল করে দু’টি রিসর্ট গড়ে তোলা হয়েছিল। রিসর্টের মালিকদের ইতিমধ্যেই নোটিস পাঠানো হয়েছে। বামনি এলাকায় জঙ্গলে ভিতর রায়তি জমিতে একটি রিসর্ট গড়ে উঠেছে। বনভূমি দিয়ে নিয়ে যাওয়া বিদ্যুতের তার কেটে দেওয়া হয়েছে। বেআইনি নির্মাণ আর কোথাও হয়েছে কি না, তা দেখা হচ্ছে। বেলপাহাড়ী, কাঁকড়াঝোর, ঘাগড়া, গাডরাসিনী, লালজল গুহা, তারাফেনী নদী, ছোট হ্রদের সৌন্দর্যের টানে পর্যটকরা সারাবছর ছুটে আসেন। পর্যটনকে কেন্দ্র করে বছরে কয়েক কোটি টাকার বেশি ব্যবসা হচ্ছে। পর্যটন শিল্প লাভজনক হয়ে উঠতেই এক শ্রেণির ব্যাবসায়ী স্থানীয় বাসিন্দাদের জমি কেনা শুরু করছে। জঙ্গলের ভিতর রায়তি জমির উপর বিলাসবহুল রিসর্ট গড়ে তোলা হচ্ছে। বনভূমিও বাদ যাচ্ছে না। গভীর জঙ্গলের ভিতর নিয়ম ভেঙে কংক্রিটের রিসর্ট তৈরি হচ্ছে। ভুলাভেদা এলাকার বনভূমি দখল করে রিসর্ট গড়ে উঠছে। বামনি এলাকায় জঙ্গলের মাঝে রায়তি জমিতে রিসর্ট গড়ার কাজ চলছে। বনবিভাগের আধিকারিকরাই বনভূমির জমি বেহাত হবার কথা স্বীকার করছেন। বনভূমির জমি দখলের বেআইনি কারবার কাদের মদতে চলছে, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। জঙ্গল লাগোয়া গ্ৰামের মানুষরা ভয়ে প্রকাশ্যে মুখ খুলতে চাইছেন না। বদাডিহী এলাকার বছর পঞ্চাশের এক বাসিন্দা বলেন, গজপাহাড় জঙ্গলে আমাদের বসবাসস্থল। আমাদের পূর্বপুরুষরা এই এলাকা ছেড়ে কখনও যাননি। গরিব মানুষদের জমি বিক্রি করার জন্য প্রলোভন দেখানো হচ্ছে। জঙ্গলের ভিতর বড় বড় বাড়ি তৈরি করা হচ্ছে। আগামী দিনে এই এলাকা ছেড়ে আমাদের হয়তো চলে যেতে হবে। বেআইনি এই কারবার নিয়ে মুখ খোলার সাহস আমাদের নেই। বনভূমির ভিতর দিয়ে রাস্তা, বিদ্যুৎ ও পানীয় জল সরবরাহের ছাড়পত্র না পেয়েও কীভাবে রায়তি জমিতে রিসর্ট গড়ে উঠেছে, তা নিয়ে শিমূলপাল গ্ৰাম পঞ্চায়েতের উপপ্রধান লক্ষ্মীকান্ত মালিককে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, এই বিষয়ে কিছু জানি না। রায়তি জমিতে রিসর্ট করা যায় শুধু এইটুকু জানি। বিষয়টি খোঁজ নিয়ে দেখছি। বিনপুর-২ পঞ্চায়েত সমিতির এক সদস্য বলেন, বেলপাহাড়ী এলাকায় সরকারি ৫০টির মতো হোম স্টে ছাড়াও হোটেল, লজ, রিসর্ট আছে। নতুন যেসব রিসর্ট গড়ে উঠেছে তার তথ্য পঞ্চায়েত সমিতির কাছে নেই। ঝাড়গ্রাম হোটেল ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক শিবাশিস চট্টোপাধ্যায় বলেন, জেলার আর্থিক উন্নয়নে পর্যটন অন্যতম চালিকাশক্তি হয়ে উঠেছে। সরকারি নিয়ম মেনে পরিবেশ বান্ধব নিবাসস্থল গড়ে তোলা জরুরি।