গুয়াহাটি: বাঙালি বংশোদ্ভূত মুসলিম মহিলাকে বেআইনিভাবে বাংলাদেশে বিতাড়নের মামলায় বিপাকে অসম সরকার। ডিপোর্টেশন আইন লঙ্ঘন করে ভারত থেকে বাংলাদেশে পাঠানোর জন্য ওই মহিলাকে ২ লক্ষ টাকার ক্ষতিপূরণ দিতে হবে। এমনই রায় দিল গুয়াহাটি হাইকোর্ট। রায়কে কেন্দ্র করে রীতিমতো সাড়া পড়ে গিয়েছে। আদালতের সাফ নির্দেশ, ওই মহিলাকে বাংলাদেশ থেকে খুঁজে বের করে দেশে ফেরাতে হবে।
২০১৯ সালে অসমের নগাঁও জেলার বাসিন্দা মুমতাজ বেগমকে বিদেশি হিসাবে ঘোষণা করে নগাঁও ফরেনার্স ট্রাইবুনাল। সম্প্রতি এনিয়ে গুয়াহাটি হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয় মুমতাজের পরিবার। এরপরই ট্রাইবুনালকে মামলাটি পুনর্বিবেচনার নির্দেশ দেয় হাইকোর্ট। আদালত জানায়, এব্যাপারে মুমতাজের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার সময় সমস্ত নথিপত্র সঠিকভাবে খতিয়ে দেখেনি ট্রাইবুনাল। হাইকোর্টের নির্দেশ মতো চলতি বছরের ৩০ মে ট্রাইবুনালে হাজিরা দেন মুমতাজ। কিন্তু মামলাটি বিবেচনার পরিবর্তে অবিলম্বে তাঁকে গ্রেপ্তারের নির্দেশ দেন ট্রাইবুনালের বিচারক। তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়। এরপর কোনোরকম আইনি প্রক্রিয়া ছাড়াই তাঁকে বাংলাদেশে পাঠিয়ে দেওয়া হয় বলে অভিযোগ।
সমগ্র বিষয়টি নিয়ে ট্রাইবুনালকে তীব্র ভর্ৎসনা করেছে হাইকোর্ট। বিচারপতি কল্যাণ রাই সুরানা ও বিচারপতি সুস্মিতা ফুকান খাউন্দের বেঞ্চের বক্তব্য, ট্রাইবুনালের কার্যকলাপে আইনসঙ্গত অধিকার লঙ্ঘনের বিষয়টি স্পষ্ট। এই মামলায় বিদেশ মন্ত্রককেও পক্ষভুক্ত করা হল। মন্ত্রককে নির্দেশ দেওয়া হবে যাতে ওই মহিলাকে বাংলাদেশ থেকে খুঁজে বের করে দেশে ফিরিয়ে আনার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়।