নয়াদিল্লি: ২০১৪ সালে ক্ষমতায় আসার পর সে বছরই আগস্ট মাসে প্রধানমন্ত্রী জনধন যোজনা চালু করেছিল নরেন্দ্র মোদি সরকার। জাতীয় এই কর্মসূচির লক্ষ্য ছিল, ভারতের প্রতিটি পরিবারকে ব্যাংকিং ব্যবস্থার আওতায় এনে আনুষ্ঠানিকভাবে দেশের অর্থনৈতিক ব্যবস্থায় অন্তর্ভুক্ত করা। কিন্তু চালু হওয়ার ১২ বছর পর কেন্দ্রের এই কর্মসূচি ঠিক কী অবস্থায় রয়েছে? তথ্যের অধিকার (আরটিআই) আইনে এবিষয়ে একটি প্রশ্নের জবাবে অর্থমন্ত্রক থেকে মিলেছে অবাক করে দেওয়ার মতো তথ্য। জানা গিয়েছে, মোট ৫৯ কোটি জনধন অ্যাকাউন্টের এক-চতুর্থাংশই (১৫.৩৬ কোটিরও বেশি) লেনদেনের না হওয়া সহ বিভিন্ন কারণে নিষ্ক্রিয় হয়ে পড়ে রয়েছে। আর ৫ কোটি ৭২ লক্ষ অ্যাকাউন্টের ব্যালান্স শূন্য। অর্থাৎ, এই অ্যাকাউন্টগুলিতে কানাকড়িও গচ্ছিত নেই! জনধন অ্যাকাউন্টগুলির এই বেহাল দশার নিরিখে রাজ্যগুলির মধ্যে শীর্ষে উত্তরপ্রদেশ। জনধন অ্যাকাউন্ট ও ডিজিটাল ইন্ডিয়ার প্রচার সত্ত্বেও প্রধানমন্ত্রী মোদির এই সাধের প্রকল্প যে রীতিমতো ধুঁকছে, সরকারি পরিসংখ্যান থেকেই তা স্পষ্ট। ক’দিন আগেই কেন্দ্র দাবি করেছে, শেষ ত্রৈমাসিকে আর্থিক বৃদ্ধির হার হয়েছে ৭.৮ শতাংশ। বিরোধী শিবির ও অর্থনীতিবিদদের একটা অংশ বৃদ্ধির এই উচ্চ হারের বাস্তবতা নিয়ে প্রশ্ন তুলছে। সেই বিতর্কের মধ্যেই জনধন অ্যাকাউন্ট নিয়ে খোদ সরকারি পরিসংখ্যানে নতুন প্রশ্ন উঠছে— দেশের কোটি কোটি নাগরিকদের হাতে ব্যাংকে রাখার মতো টাকা কই? মানুষের আর্থিক সামর্থই যদি তৈরি না হয়, ঘটা করে ব্যাংক অ্যাকাউন্ট খুলে লাভ কী? এবিষয়ে অবশ্য সরকারের কোনো প্রতিক্রিয়া মেলেনি।



