সংবাদদাতা, নবদ্বীপ: নবদ্বীপের মালঞ্চপাড়ার কুটিরপাড়ায় চলছে অবৈধভাবে পুকুর ভরাটের কাজ। এলাকাটি পুরসভার ১৬নম্বর ওয়ার্ডের অন্তর্গত। স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, ইতিমধ্যেই একটি পুকুরের পাড়ের দু’দিকের বেশকিছু অংশ ভরাট করে ফেলা হয়েছে।
সংবাদদাতা, নবদ্বীপ: নবদ্বীপের মালঞ্চপাড়ার কুটিরপাড়ায় চলছে অবৈধভাবে পুকুর ভরাটের কাজ। এলাকাটি পুরসভার ১৬নম্বর ওয়ার্ডের অন্তর্গত। স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, ইতিমধ্যেই একটি পুকুরের পাড়ের দু’দিকের বেশকিছু অংশ ভরাট করে ফেলা হয়েছে।
নবদ্বীপের বিষ্ণুপ্রিয়া হল্ট স্টেশন সংলগ্ন মালঞ্চপাড়া থেকে শ্রীরামপুর রোড যাওয়ার রাস্তায় বাঁপাশে কুটিরপাড়ার এই পুকুরটি অনেকদিনের। একটা সময় এই পুকুরে মাছ চাষ হতো। এমনকী, বর্ষায় আশপাশের সমস্ত অঞ্চলের বৃষ্টির অতিরিক্ত জল ওই পুকুরে গিয়ে পড়ত। এখন সেটি কেউ বা কারা ভরাট করছে। এব্যাপারে স্থানীয় বাসিন্দারা ভয়ে মুখ খুলতে চাইছেন না। স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, পুকুরে যাওয়ার ঢালাই রাস্তাটি ছ’-সাত ফুট চওড়া। সেই রাস্তা দিয়ে দু’-একবার ট্রাক্টর ঢোকানোর চেষ্টা করা হলে স্থানীয়রা বাধা দেন। তাই এখন মাটি এনে ফেলা হচ্ছে মূল রাস্তার পাশের ফাঁকা জায়গায়। সেখান থেকে শ্রমিকরা মাথায় করে মাটি নিয়ে এসে পুকুর বুঝিয়ে ফেলছেন। বেশ কিছুদিন ধরে একটু একটু করে চলছে এই পুকুর ভরাটের কাজ। অভিযোগ, সবকিছু জেনেও হেলদোল নেই প্রশাসনের।
শুক্রবার সকালে পুরসভার ১৬নম্বর ওয়ার্ডের কুটিরপাড়ায় পৌঁছে দেখা গেল, পুকুরের বেশকিছুটা অংশ ভরাট হয়ে গিয়েছে। স্থানীয়রা জানান, বেশ কিছুদিন ধরে এভাবেই পুকুরে মাটি ফেলা হচ্ছে। আমবাগান কুটিরপাড়ার এক বাসিন্দা বলেন, এই পুকুরের জল গ্রামের লোক ব্যবহার করত। আমরা চাইছি, পুকুর ভরাট বন্ধ হোক। স্থানীয় কাউন্সিলার নিতাইচন্দ্র দাস বলেন, আমি যতদূর জানি, এই পুকুরের মালিক পুরসভার ১নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা। তবে কে পুকুর ভরাট করছে, তা জানি না। কিন্তু, আমার কানে আসছে, এইভাবে পুকুর ভরাট করতে সময় লাগবে। পুকুরের পাশে স্থানীয় এক ব্যক্তির বাগান রয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের মারফত শুনতে পাচ্ছি, ওঁর বাগানের ভিতর দিয়ে ট্রাক্টর নিয়ে গিয়ে ওই পুকুরে মাটি ফেলা হবে। তিনি নাকি তাতে সম্মত হয়েছেন। আমিও প্রশাসনের কাছে সহযোগিতা চাইছি, পরিবেশকে বাঁচানোর স্বার্থে পুকুর বোজানো বন্ধ করা হোক। ইতিমধ্যে প্রশাসনিক আধিকারিকদের অনেকেই বিষয়টি জেনেছেন। আমিও শুক্রবার পুরপ্রধানকে মৌখিকভাবে জানিয়েছি। স্থানীয় দুই পড়ুয়া বলে, এই পুকুরটা পরিষ্কার করলে খুব ভালো হয়। আমরা তাহলে সাঁতার শিখতে এবং মাছ ধরতে পারব। বিগত ক’দিন ধরেই দেখতে পাচ্ছি, পুকুরের ধার দিয়ে মাটি ফেলা হচ্ছে।
স্থানীয় প্রবীণ বাসিন্দা কল্যাণ মুখোপাধ্যায় বলেন, বর্ষায় বৃষ্টির সময় রাস্তার সমস্ত জল পুকুরে গিয়ে পড়ত। এখন প্রোমোটাররাজ চলছে। কে লড়বে এদের সঙ্গে? প্রশাসন যদি কাজ না করে আমাদের তো করার কিছু নেই। প্রশাসনকে পদক্ষেপ নিতে হবে। আমরা চাই, পুকুরটা অক্ষত থাকুক। আমরা তো বরাবরই জানি যে পুকুর কোনওদিন ভরাট করা যায় না। নবদ্বীপ ব্লক ভূমি ও ভূমি সংস্কার দপ্তরের রাজস্ব পরিদর্শক(নবদ্বীপ পুরসভা) সোমদীপ চক্রবর্তী বলেন, আমি ঘটনাস্থলে গিয়েছিলাম। ভোররাতে এসব কাজকর্ম হচ্ছে। সবে পুকুরে মাটি ফেলা শুরু হয়েছে। আমি বারণ করে দিয়েছি যাতে পুকুর ভরাট করা না হয়। জরুরি ভিত্তিতে পদক্ষেপ নেওয়া হবে। বিষয়টি আমরা নজরে রেখেছি। যারা এধরনের কাজ করছে, তাদের বিরুদ্ধে উপযুক্ত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। জানা গিয়েছে, পুকুরের মালিক জনৈক নিমাই সাহা।কৃষ্ণনগর সদর মহকুমা শাসক শারদ্বতী চৌধুরী বলেন, বিএলআরওর রিপোর্ট দেখে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
• চলছে পুকুর ভরাট। নিজস্ব চিত্র