সংবাদদাতা, নবদ্বীপ: নবদ্বীপ স্টেট জেনারেল হাসপাতালের পুরনো জরুরি বিভাগে ঢোকার রাস্তার বেশকিছুটা অংশজুড়ে চলছে অবৈধ গাড়ি পার্কিং। প্রতিদিন সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত একশ্রেণির মানুষ এই গাড়ি পার্কিং করে রাখছে। মূল গেট থেকে শুরু করে হাসপাতালের ভিতরে পুরনো জরুরি বিভাগের সামনে পর্যন্ত রাস্তার দু’ধারে যত্রতত্র সাইকেল, স্কুটি, বাইক, টোটো পার্কিং করা থাকে। ফলে প্রতিদিনই সমস্যায় পড়তে হচ্ছে হাসপাতালে চিকিৎসা করাতে আসা মুমূর্ষু রোগী ও তাদের পরিজনদের। সবকিছু জেনেও সংশ্লিষ্ট দপ্তর নীরব দর্শক। এমনই অভিযোগ রোগীর পরিবার ও স্থানীয় বাসিন্দাদের।
হাসপাতাল সুপার অনঘ বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, এই বিষয়টি নিয়ে সাধারণ মানুষকে অনেকবার বলা হয়েছে। নিরাপত্তারক্ষীদের দিয়ে মাঝেমধ্যে সকলকে নিষেধ করা হয়। তবুও এরা কারও কথা শোনে না। আমাদের সীমিত সংখ্যক নিরাপত্তারক্ষী রয়েছেন। তারমধ্যে থেকে কাউকে গেটের সামনে দাঁড় করিয়ে রাখার মতো অবস্থা নেই। এব্যাপারে বিভিন্ন জায়গায় জানানো হয়েছে। হাসপাতাল সূত্রে জানা গিয়েছে, সম্প্রতি নবদ্বীপ হাসপাতালের নতুন ভবনের সামনে সাইকেল ও বাইক রাখার গ্যারেজ তৈরি করে দেওয়া হয়েছে। সেখানেই গাড়ি রাখছেন রোগীর বাড়ির লোকজন। কিন্তু হাসপাতালের মূল প্রবেশপথে, পুরনো জরুরি বিভাগের সামনে যত্রতত্র সাইকেল, বাইক রাখা চলছেই। এমনকী, একশ্রেণির চালক এমনভাবে টোটো দাঁড় করিয়ে রাখছেন যে, সমস্যায় পড়তে হচ্ছে রোগী নিয়ে আসা অ্যাম্বুলেন্স সহ অন্যান্য চারচাকা গাড়িগুলিকে।
মঙ্গলবার সকালে হাসপাতালে গিয়ে দেখা গেল, পুরনো জরুরি বিভাগের সামনে ‘নো পার্কিং জোন’ সাইনবোর্ড লাগানো রয়েছে। অথচ, তারই সামনে যত্রতত্র দাঁড়িয়ে সাইকেল ও বাইক! এই পুরনো ভবনে রয়েছে প্রসূতি বিভাগ। তাছাড়া, সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত চলছে বহির্বিভাগ। এমনকী, এই ভবনে রয়েছে এক্স-রে সহ বিভিন্ন প্যাথলজিকাল ল্যাবও। এদিনও, ওই বহির্বিভাগে নদীয়া এবং পূর্ব বর্ধমান থেকে নতুন-পুরনো মিলিয়ে প্রায় ৬০০-৭০০জন রোগী চিকিৎসা করাতে এসেছিলেন। মহিশুরা পঞ্চায়েতের বাসিন্দা মুস্তাকিন শেখ বলেন, বিষয়টি প্রশাসনের দেখা উচিত। পাশাপাশি হাসপাতালের প্রবেশপথ পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন থাকা প্রয়োজন। পূর্ব বর্ধমান জেলার জামালপুরের বাসিন্দা অনুপমা দাস বলেন, আমি অন্তঃসত্ত্বা। চিকিৎসার জন্য এসেছি। অন্ততপক্ষে হাসপাতালের যাতায়াতের এই রাস্তায় প্রচুর যানবাহন দাঁড়িয়ে। সকলের সুবিধার্থে এই রাস্তাটি অন্তত পরিষ্কার রাখা উচিত। প্রাচীন মায়াপুরের বাসিন্দা দীপক রাজবংশী বলেন, হাসপাতালে পরিষেবা থাকলেও বাইরের পরিবেশের অবস্থা খুব খারাপ। গাড়ির ভিড় কমালে আরও ভালোভাবে পরিষেবা পাওয়া যাবে।