Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

নবদ্বীপের হাসপাতাল চত্বরে টোটো, স্কুটির অবৈধ পার্কিং, জেরবার রোগী

ব্যস্ত সরকারি হাসপাতাল। রোজ কত রোগীর আনাগোনা। কিন্তু দিনের পর দিন হাসপাতাল চত্বরে অবৈধ গাড়ি পার্কিং ও অস্থায়ী দোকানের রমরমা বেড়েই চলেছে।

নবদ্বীপের হাসপাতাল চত্বরে টোটো, স্কুটির অবৈধ পার্কিং, জেরবার রোগী
  • ২০ নভেম্বর, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

সংবাদদাতা, নবদ্বীপ: ব্যস্ত সরকারি হাসপাতাল। রোজ কত রোগীর আনাগোনা। কিন্তু দিনের পর দিন হাসপাতাল চত্বরে অবৈধ গাড়ি পার্কিং ও অস্থায়ী দোকানের রমরমা বেড়েই চলেছে। এই অব্যবস্থার শিকার নবদ্বীপ স্টেট জেনারেল হাসপাতাল। অভিযোগ, রোজ সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত এক শ্রেণির মানুষ বেআইনিভাবে গাড়ি পার্কিং করছে এখানে। হাসপাতাল চত্বরের ভিতরে যত্রতত্র সাইকেল, স্কুটি, বাইক তো আছেই এমনকি, মূল প্রবেশদ্বারের দু’পাশেই যেখানে, সেখানে টোটোর অবৈধ পার্কিং। ফলে হাসপাতালে চিকিৎসা করাতে আসা মুমূর্ষু রোগী ও তাঁদের পরিবারকে রোজই নানা সমস্যায় পড়তে হচ্ছে। ভুগতে হচ্ছে রোগী নিয়ে আসা অ্যাম্বুলেন্স চালকদের। সবকিছু জেনেও সংশ্লিষ্ট দপ্তরের মুখে কুলুপ। 

Advertisement

যদিও হাসপাতাল সুপার অনঘ বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, বিষয়টি নিয়ে অনেকবার বলা হয়েছে। আমাদের যে সীমিত সংখ্যক সিকিউরিটি গার্ড আছে মাঝেমধ্যে তাঁদের দিয়ে অনেকবার টোটো ও গাড়িচালকদের বলার চেষ্টা হয়েছে। কিন্তু  কে শোনে কার কথা! এর সঙ্গে আবার হাসপাতালের পুরনো বিল্ডিং-এর জন্য যে সংখ্যক নিরাপত্তারক্ষী রয়েছেন তাঁদের দিয়েই নতুন ও পুরনো দু’টি বিল্ডিংয়েরই বিশাল চত্বর ২৪ ঘণ্টা দেখভাল করাতে হয়। আমাদের সিকিউরিটি গার্ডদের হাসপাতালের ভিতরে রোগীর নিরাপত্তা নিয়ে ব্যস্ত থাকতে হচ্ছে। সেই সুযোগটাই কাজে লাগান এক শ্রেণির টোটো চালক। যেখানে সেখানে টোটো পার্কিংয়ের বিষয়ে পুলিশকে বারবার জানানো হয়েছে। আউটডোরে সকালের দিকে যদি পুলিশ একটু বেশি নজরদারি চালায় তবে এই সমস্যার অনেকটাই সমাধান হবে বলে আমার ধারণা। হাসপাতাল সূত্রে জানা গিয়েছে, হাসপাতালের নতুন  ভবনের সামনে সাইকেল ও মোটর বাইক গ্যারেজ আছে। সেখানেই গাড়ি রাখছেন চিকিৎসা করতে আসা রোগীর পরিজনরা।  কিন্তু হাসপাতালের মূল গেট থেকে শুরু করে পুরনো জরুরি বিভাগের গেটের সামনে পর্যন্ত রাস্তার দু’ধারে টোটো, বাইক, স্কুটি সহ নানা রকম যানবাহন পার্কিং করে রাখা থাকে। যা নিয়ে যানজট ও  সমস্যা দেখা দেয়। 
বুধবার সকালে নবদ্বীপের এই হাসপাতালে গিয়ে দেখা গেল নো-পার্কিং জোন সাইন বোর্ড লেখা থাকলেও পুরনো জরুরি বিভাগের সামনে যত্রতত্র দাঁড় করিয়ে রাখা সাইকেল, বাইক ও স্কুটি। এই পুরনো ভবনেই  রয়েছে গাইনোকলজি বিভাগ। সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত চলে আউটডোর। এই ভবনে রয়েছে এক্স-রে সহ বিভিন্ন প্যাথলজি ল্যাবও। 
হাসপাতালে বাইরেই স্থায়ী দোকান রয়েছে অমর ঘোষ, অনির্বাণ ঘোষদের। তাঁরা জানান,  হাসপাতালের ভিতরে যত্রতত্র পেয়ারা, মুড়ি ঘুগনি, ঝাল মুড়ির একাধিক দোকান গজিয়ে উঠেছে। সেই সঙ্গে পাল্লা দিয়ে হাসপাতাল চত্বরের ভিতরে দু’দিকে রয়েছে টোটো ও রিকশ স্ট্যান্ড। 
অন্য দোকানি সুব্রত ঘোষ, নারায়ণ দাস, তমাল দেবনাথরা জানালেন, অস্বাস্থ্যকর পরিবেশের মধ্যে চলছে দোকানগুলি। এনিয়ে আমরা  হাসপাতাল সুপারের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছিলাম। উনি বিষয়টি দেখার আশ্বাস দিলেও কাজের কাজ কিছুই হয়নি। -নিজস্ব চিত্র

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ