Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

মুঙ্গের অতীত, ঝাড়খণ্ডের দুমকাতেই তৈরি হচ্ছে বেআইনি নানা আগ্নেয়াস্ত্র! দাম কম হওয়ায় বীরভূম দিয়ে পাচার হচ্ছে রাজ্যে

মুঙ্গেরের কারিগররা আগ্নেয়াস্ত্র তৈরি করছে ঝাড়খণ্ডে বসে। ফলে সহজেই সীমানা পেরিয়ে তা চলে আসছে বীরভূমে।

মুঙ্গের অতীত, ঝাড়খণ্ডের দুমকাতেই তৈরি হচ্ছে বেআইনি নানা আগ্নেয়াস্ত্র! দাম কম হওয়ায় বীরভূম দিয়ে পাচার হচ্ছে রাজ্যে
  • ১৯ নভেম্বর, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

সংবাদদাতা, রামপুরহাট: মুঙ্গেরের কারিগররা আগ্নেয়াস্ত্র তৈরি করছে ঝাড়খণ্ডে বসে। ফলে সহজেই সীমানা পেরিয়ে তা চলে আসছে বীরভূমে। আগ্নেয়াস্ত্র সহজলভ্য হওয়ায় বীরভূমে বার বার শ্যুট আউটের ঘটনা ঘটেছে। নানা কৌশলে পুলিসের চোখকে ফাঁকি দিয়ে ঝাড়খণ্ড থেকে অবৈধ অস্ত্র আনা হচ্ছে এই জেলায়। ছোটখাটো চোর, নেশারুদের টাকার লোভ দেখিয়ে আগ্নেয়াস্ত্রের ক্যরিয়ার হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে। 

Advertisement

পুলিস সূত্রে জানা গিয়েছে, আগে বিহারের মুঙ্গের থেকে বেআইনি অস্ত্র আসত বাংলায়। এখন মুঙ্গের থেকে কারিগর এনে ঝাড়খণ্ডের দুমকায় তৈরি করা হচ্ছে আগ্নেয়াস্ত্র। মুঙ্গেরের তুলনায় ঝাড়খণ্ডে তৈরি পাইপগানের দাম কম। ফলে চাহিদা বেশি। ১০-১২ হাজারের মধ্যেই মেলে পাইপগান। সঙ্গে এক রাউন্ড কার্তূজ ফ্রি। শুধু পাইপগান নয়, ৭.৬৫ এমএম পিস্তল ও কার্তুজও তৈরি হচ্ছে। ঝাড়খণ্ড থেকে বীরভূম হয়েই মূলত দক্ষিণবঙ্গে অস্ত্র ঢুকছে। নলহাটি থেকে মুঙ্গেরের তুলনায় ঝাড়খণ্ডের দূরত্ব কম। পাশাপাশি ঝুঁকি ও দাম দুটোই কম। ঝাড়খণ্ডের সঙ্গে বীরভূমের সীমানা বেশি। দু‌ই রাজ্যের সংযোগকারী সড়কে পুলিশি নজরদারি চলায় পাচারকারীরা সোজা রাস্তা ছেড়ে জঙ্গল কিংবা গ্রামের পথ ধরে অস্ত্র নিয়ে আসছে। বগটুই কাণ্ডের পর মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশে রাজ্যজুড়ে বোমা, অস্ত্র উদ্ধার চালিয়ে যাচ্ছে পুলিস। তাতেই প্রতিনিয়ত কোনও না কোনও থানায় অস্ত্র সহ গ্রেফতার হচ্ছে দুষ্কৃতীরা। তবে শুধু ঝাড়খণ্ড নয়, মুর্শিদাবাদ থেকেও এই জেলায় ঢুকছে আগ্নেয়াস্ত্র। এর আগে মুর্শিদাবাদের ভরতপুরের মুর্শেদ শেখ নামে এক দুষ্কৃতীর বাড়িতে অভিযান চালিয়ে অস্ত্র কারখানার হদিশ পায় মাড়গ্রাম থানার পুলিস। তার কারখানায় তৈরি সিংহভাব অস্ত্রই এই জেলায় সরবরাহ করা হতো। পরে পুলিস সেই লিঙ্ক ধরে বেশ কয়েকজনকে গ্রেফতার করে। কিন্তু অস্ত্র ঢোকা এখনও অব্যাহত বলে অভিযোগ। এদিকে আগ্নেয়াস্ত্র সহজলভ্য হয়ে পড়ায় এখন স্বামী-স্ত্রীর ঝগড়া হলেও বেরিয়ে পড়ছে গুলি, বন্দুক। যার জেরে এই জেলায় শ্যুট আউট বাড়ছে। 
উল্লেখ্য, এর আগে ময়ূরেশ্বরে গুলি করে খুন করা হয় এক পেট্রল পাম্প মালিককে। রামপুরহাট বগটুই মোড়ে উপপ্রধান ভাদু শেখকে বোমা মেরে খুন করা হলেও সিসি ক্যামেরার ফুটেছে দুষ্কৃতীদের হাতে আগ্নেয়াস্ত্র দেখা গিয়েছে। মাড়গ্রামে প্রকাশ্যে দিবালোকে জনবহুল রাস্তায় গুলি করে এক ধান ব্যবসায়ীর টাকা ছিনতাইয়ের চেষ্টা করে দুষ্কৃতীরা। এরপর মহম্মদবাজারে এক খাদান ব্যবসায়ীকে গুলি করে খুন করা হয়। তার আগে ময়ূরেশ্বরে এক পেট্রল পাম্প মালিককে গুলি করে খুন করে দুষ্কৃতীরা। মল্লারপুরে শ্বশুরকে লক্ষ্য করে গুলি চালায় জামাই। শনিবার রাতে নলহাটিতে পরকীয়া সন্দেহে বিউটি পার্লারের মালিক সীমা খানকে পরপর চারটি গুলি করে তার স্বামী রজু খান বলে অভিযোগ। যদিও এখনও পর্যন্ত তাকে জেরা করে সেই আগ্নেয়াস্ত্র উদ্ধার করতে পারেনি পুলিশ। বর্ধমান মেডিকেলে মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ছে সীমা। এছাড়া ছিনতাই, ডাকাতির ঘটনায় আগ্নেয়াস্ত্রের ব্যবহার বেড়েছে। আগ্নেয়াস্ত্রের এই রমরমায় আতঙ্কিত স্থানীয় বাসিন্দারা। 
জেলা পুলিশ সুপার আমনদীপ বলেন, ঝাড়খণ্ড সীমানায় পুলিশের নজরদারি চলেই। সেটা আরও বাড়ানো হবে।  উদ্ধার হওয়া আগ্নেয়াস্ত্র-নিজস্ব চিত্র

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ