সংবাদদাতা, দিনহাটা: নতুন বছরেই বিধানসভা ভোট। আর নির্বাচন ঘনিয়ে এলেই উত্তরবঙ্গের সীমান্তবর্তী এলাকায় বেড়ে যায় বেআইনি আগ্নেয়াস্ত্রের রমরমা। সেই আশঙ্কাকেই সত্যি করে দিনহাটায় অস্ত্র সরবরাহ করতে এসে গ্রেপ্তার হল বিহারের কাটিহারের বাসিন্দা আফসার মনসুরি। সে দীর্ঘদিন ধরেই অবৈধ অস্ত্র কারবারে যুক্ত। বিহারের নির্বাচনের পর থেকেই তার দিনহাটায় যাতায়াত বেড়েছিল। সেই বিষয়টি নজরে আসতেই গোপনে নজরদারি শুরু করে পুলিস। বৃহস্পতিবার গভীর রাতে গোপন সূত্রে পাওয়া খবরের ভিত্তিতে দিনহাটার ওয়েলকাম এলাকা থেকে তাকে অস্ত্রসহ হাতেনাতে পাকড়াও করা হয়। তার কাছ থেকে পিস্তল, ম্যাগাজিন ও গুলি উদ্ধার হয়েছে।
পুলিস জানিয়েছে, আফসার মনসুরিকে গ্রেফতার করে জিজ্ঞাসাবাদ চলছে। একই রাতে সাহেবগঞ্জ থানার পুলিসও বটতলা এলাকা থেকে মর্নেয়ার বাসিন্দা প্রদীপ রায়কে গ্রেফতার করে। তার কাছ থেকে উদ্ধার হয় একটি পিস্তল ও একটি গুলি ভর্তি চেম্বার। দু’জনকেই জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করেছে পুলিস। প্রাথমিক অনুমান, ভোটের আগে বেড়ে যাওয়া অবৈধ অস্ত্রের চাহিদার সুযোগ নিতে সক্রিয় হয়েছে দুষ্কৃতীরা।
দিনহাটা মহকুমা বরাবরই নির্বাচনের সময় উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। বিগত কয়েকটি নির্বাচনে গুলি চালানো, খুন-খারাপির ঘটনা রীতিমতো আতঙ্ক বাড়িয়েছে জনমানসে। ২০২৬-এর নির্বাচনের আগে কি আবারও উত্তপ্ত হবে দিনহাটা? এই প্রশ্ন ঘুরছে সর্বত্র। তার মধ্যেই একের পর এক ভিনরাজ্যের অস্ত্র ব্যবসায়ী ধরা পড়ায় উদ্বেগ বাড়ছে তদন্তকারী মহলে। শীর্ষ পুলিস কর্তার কথায়, দিনহাটা নির্বাচনের সময় বরাবরই স্পর্শকাতর। বহু দুষ্কৃতী অবৈধভাবে অস্ত্র সংগ্রহের চেষ্টা চালায়। বিহারের ভোট শেষ হতেই ওই ব্যবসায়ীর ঘনঘন যাতায়াত শুরু হয়। আমরা তা নজরে আনতেই সক্রিয় হই। গোপন সূত্রে খবর মিলতেই অস্ত্রসহ তাকে হাতেনাতে ধরা হয়। ভোটের আগে ভিনরাজ্যের অস্ত্র কারবারির গতিবিধি খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
দিনহাটা মহকুমা পুলিস আধিকারিক ধীমান মিত্র বলেন, গত এক মাসে অস্ত্রসহ দু’জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। একজন বিহারের কাটিহারের বাসিন্দা, অন্যজন সাহেবগঞ্জ থানা এলাকার মর্নেয়ার বাসিন্দা। অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারে লাগাতার অভিযান চালানো হচ্ছে।