মুম্বই: আইআইটি বম্বের পড়ুয়া সাহিল ওয়াকড়ের আত্মহত্যা ঘিরে তোলপাড় গোটা দেশ। পরিবারের অভিযোগ, ক্যাম্পাসে জাতিবিদ্বেষের শিকার হয়েছিল সাহিল। তফশিলি জাতি ও উপজাতি আইনে অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। এরইমধ্যে এই অভিযোগের সারবত্তা নিয়ে প্রশ্ন তুললেন আইআইটি বম্বের ফ্যাকাল্টি ফোরামের প্রেসিডেন্ট অধ্যাপক রাজকুমার পন্থ। তাঁর দাবি, মৃত্যুর তিন থেকে চারমাস আগেও সাহিল এসসি-এসটি সেলে কোনো অভিযোগ জানায়নি। এভাবে পড়ুয়ার আত্মহত্যার ঘটনায় অভিযুক্ত অধ্যাপক সূর্যনারায়ণ দুল্লার পাশে দাঁড়িয়েছেন পন্থ।
গত ১৮ সেপ্টেম্বর হস্টেলের ঘরে সাহিলের ঝুলন্ত দেহ উদ্ধার হয়। প্রথমে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এক বিবৃতিতে জানিয়েছিল, চ্যাটজিপিটি’তে পরীক্ষার প্রশ্নপত্র আপলোড করে উত্তর খোঁজের চেষ্টা করেছিল সাহিল। তবে তার বিরুদ্ধে কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। এরপরেই লাগাতার বিক্ষোভ দেখাতে শুরু করে পড়ুয়ারা। পরীক্ষায় পরিদর্শকের দায়িত্বে ছিলেন অধ্যাপক দুল্লা। বিক্ষোভের জেরে তাঁকে ডিন (পড়ুয়া বিষয়ক) পদ থেকে সরিয়ে দেয় কর্তৃপক্ষ। তাতে খুশি নয় পড়ুয়ারা। অবিলম্বে দুল্লাকে সাসপেন্ড করার দাবি তুলেছে তারা। ইতিমধ্যে আগের বিবৃতিতে থেকে সরে এসেছে আইআইটি বম্বে কর্তৃপক্ষ। এরইমধ্যে অভিযুক্ত অধ্যাপকের পক্ষে সওয়াল করেছেন ফ্যাকাল্টি ফোরামের প্রেসিডেন্ট পন্থ। তাঁর দাবি, প্রতিষ্ঠানের পদ্ধতি মেনেই যাবতীয় পদক্ষেপ নিয়েছেন অধ্যাপক দুল্লা। একইসঙ্গে তিনি জানান, প্রতিষ্ঠানের নিয়ম মেনে দায়িত্ব পালনের জন্য কোনো অধ্যাপককে শাস্তি দেওয়া উচিত নয়। পন্থের কথায়, ‘আমরা শিক্ষক। প্রতিষ্ঠানের পদ্ধতি মেনেই দায়িত্ব পালন করি। অধ্যাপক দুল্লাও তাই করেছিলেন। এফআইআর দায়ের হয়েছে। আইন আইনের পথে চলবে। ঘটনার তদন্ত করছে মুম্বই ক্রাইম ব্রাঞ্চ। তাই এবিষয়ে আমাদের কোনো মন্তব্য করা উচিত নয়।’
এদিকে পরীক্ষার সময়ের একটি নতুন ফুটেজ তদন্তকারীদের হাতে এসেছে। সিসি ক্যামেরার ফুটেজে দেখা যাচ্ছে, পরীক্ষাকেন্দ্রে সাহিলকে কিছু প্রশ্ন করা হচ্ছে। ঘড়িতে সময় তখন সাড়ে ১২টা। কিছুক্ষণ পর ওই পড়ুয়াকে বেরিয়ে যেতে বলেন অধ্যাপক দুল্লা। পৌনে ১টা নাগাদ সাহিলকে পরীক্ষাকেন্দ্র থেকে বেরিয়ে যেতে দেখা যায়। হস্টেলের ঘরে যাওয়ার সময় পড়ুয়ার গতিবিধি কী ছিল, তা জানার চেষ্টা করছেন তদন্তকারীরা।