


নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: জোকার ইন্ডিয়ান ইনস্টিটিউট অব ম্যানেজমেন্ট কলকাতা প্লেসমেন্টে তাক লাগিয়ে দিল এ বছর। ফ্ল্যাগশিপ এমবিএ প্রোগ্রামে ১০০ শতাংশ প্লেসমেন্ট হয়েছে। পাশাপাশি সর্বোচ্চ বেতনের ক্ষেত্রেও রেকর্ড গড়েছে তারা। একজন পড়ুয়া দেশের মধ্যে ১ কোটি ৪৫ লক্ষ টাকা বার্ষিক বেতনের চাকরির অফার পেয়েছেন। আরও চমকপ্রদ হল, আন্তর্জাতিক ক্ষেত্র থেকে যে সর্বোচ্চ বেতনের চাকরির অফার এসেছে, দেশের চাকরির বেতন তার থেকে বেশি। প্রসঙ্গত আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ বেতনের পরিমাণ বার্ষিক ১ কোটি ১০ লক্ষ ১৬ হাজার টাকা।
এ বছর আইআইএম কলকাতার এমবিএ কোর্সের পড়ুয়াদের গড় বেতন বার্ষিক ৩৬ লক্ষ টাকা। গত বছরের তুলনায় তা বেড়েছে ৫.০৫ শতাংশ। নিয়োগকারী সংস্থার সংখ্যাও আগের বছরের তুলনায় ৩ শতাংশ বেশি। কনসালটেন্সি সেক্টর থেকেই সবচেয়ে বেশি, ২০৬টি চাকরির অফার এসেছে। ম্যানেজমেন্ট কনসাল্টিংয়ের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ অফার এসেছে বস্টন কনসাল্টিং গ্রুপের তরফে। আর স্ট্যাটেজি কনসাল্টিংয়ের ক্ষেত্রে সবচেয়ে বেশি অফার এসেছে অ্যাকসেনচার স্ট্র্যাটেজির তরফে। এ দু’টি ছাড়াও আলভারেজ অ্যান্ড মার্শাল, বেইন অ্যান্ড কোং, আর্নেস্ট অ্যান্ড ইয়ং-পার্থেনন, কিয়ার্নি, কেপিএমজি, ম্যাককিনসে অ্যান্ড কোং, মনিটর ডেলয়েট, প্রাইস ওয়াটার হাউজ কুপার্স, টাটা কনসাল্টেন্সি সার্ভিস ভেক্টর কনসাল্টিংয়ের মতো শীর্ষস্থানীয় বহুজাতিক কনসাল্টিং ফার্ম এসেছিল। কার্ডস এবং পেমেন্ট সেক্টরে সবচেয়ে বেশি নিয়োগ প্রস্তাব এসেছে আমেরিকান এক্সপ্রেসের তরফে।
প্রাইভেট ইক্যুইটি, ভেঞ্চার ক্যাপিটাল, ইনভেস্টমেন্ট ব্যাঙ্কিং, মার্কেটস, অ্যাসেটস অ্যান্ড ওয়েলথ ম্যানেজমেন্টের মতো আর্থিক ক্ষেত্র থেকেও ১০০টির বেশি উচ্চ বেতনের চাকরির অফার এসেছে। প্রোডাক্ট ম্যানেজমেন্টেও এ বছর ভালো বৃদ্ধি হয়েছে। মার্কেটিং এবং জেনারেল ম্যানেজমেন্ট ক্ষেত্রেও সব মিলিয়ে ১৬০টি ঈর্ষণীয় বেতনের চাকরির অফার এসেছে। আইআইএম কলকাতার তরফে বলা হয়েছে, তারা নীতিগত কারণেই সর্বোচ্চ বেতনের চাকরি পাওয়া পড়ুয়া এবং সংস্থার নাম প্রকাশ করে না। সেই কারণে এই সংক্রান্ত বিস্তারিত তথ্য তারা দিতে পারবে না। তবে সার্বিকভাবে সমস্ত নিয়োগকারী সংস্থার নাম তারা প্রকাশ করে থাকে। প্রতিষ্ঠানের অধিকর্তা অলোককুমার রাই বলেন, ‘২০২৬ ব্যাচের সফল প্লেসমেন্ট প্রমাণ করে শিল্পক্ষেত্র আইআইএম কলকাতার উপর ভরসা রাখে। বিভিন্ন ক্ষেত্র থেকে নিয়োগকারী সংস্থাগুলির উপস্থিতি আমাদের প্রতিষ্ঠানের শিল্পমুখী শিক্ষা এবং সার্বিক উৎকর্ষের প্রমাণ।’