নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা ও আসানসোল: রাজ্য সরকারের অনুরোধ উপেক্ষা করেই বৃহস্পতিবার বিকেলে থেকে বিপুল পরিমান জল ছাড়তে শুরু করল ডিভিসি। এদিন সকালেই সেচ দপ্তরের তরফে ডিভিসি কর্তৃপক্ষকে অনুরোধ করে বলা হয়েছিল, জল ছাড়ার পরিমাণ কমিয়ে ২৫ হাজার কিউসেক রাখলে,পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখা যাবে। এরপর বিকেলে ডিভিসি’র তরফে জানানো হয়, উৎসমুখে প্রবল বৃষ্টির কারণে জলাধারে জলের চাপ বেড়েছে। জলাধারকে বাঁচাতে হলে, জল ছাড়া আর কোনও উপায় নেই। এরপর মাইথন ও পাঞ্চেত জলাধার থেকে মোট ৫৭ হাজার কিউসেক জল ছাড়া শুরু হয়। সবমিলিয়ে ডিভিসির দুর্গাপুর ব্যারেজ থেকে বিপুল পরিমাণ জল ছাড়া শুরু হয়। দামোদর ভ্যালি রিজার্ভার রেগুলেটারি কমিটির মেম্বার সেক্রেটারি সঞ্জীবকুমার বলেছেন, ৬২১০০ কিউসেক করে জল ছাড়া হচ্ছে। অপরদিকে সুবর্ণরেখা নদীর ঝাড়খণ্ডের গালুডি জলাধার থেকে এদিন সকাল থেকে ১ লাখ ১০ হাজার কিউসেকের বেশি জল ছাড়া হচ্ছে। দুর্গাপুর ব্যারেজ এবং গালুডি জলাধার থেকে ছাড়া বিপুল পরিমাণ জলরাশি দক্ষিণবঙ্গের বিস্তীর্ণ এলাকাকে প্লাবিত করবে বলে জানিয়েছেন রাজ্যের সেচমন্ত্রী মানস ভুঁইঞা। তাঁর কথায়, বারবার অনুরোধ করা সত্ত্বেও, ডিভিসি কথা রাখল না। বিপুল পরিমাণ জল ছাড়তে শুরু করায় দক্ষিণবঙ্গের বাঁকুড়া ও পূর্ব বর্ধমানের একটা অংশ, হুগলি এবং হাওড়ার বিস্তীর্ণ অংশে বন্যা পরিস্থিতির আরও অবনতি হবে। প্লাবিত হবে পশ্চিম মেদিনীপুর ও ঝাড়গ্রাম জেলার বড়সড় অংশ। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নির্দেশে সংশ্লিষ্ট এলাকার মানুষকে নিরাপদ জায়গায় সরানো, ত্রাণ, উদ্ধার ও ত্রাণ শিবিরের সমস্ত আয়োজন চূড়ান্ত করা হয়েছে।



